সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মহুয়া ফুলের ভেষজ গুণ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

মাতাল ঘ্রাণের মহুয়া ভেষজ গুণে ভরা অনেকের অচেনা ফুল।

মহুয়া মধ্যম আকারের বৃক্ষ। বৈজ্ঞানিক নাম Madhuca longifolia। Sapotaceae পরিবারভুক্ত। বাংলাদেশে মহুয়ার আরেকটি প্রজাতি Madhuca indica আছে। পাতা ডিম্বাকার। বৃন্ত ছোট। ফুলগুলো রসালো এবং স্বাদ অম্লমধুর। ফুলের নির্যাসে মাদকতা আছে। বসন্তের শেষে সুপারির মতো ফল দেখা দেয়। জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয়। স্থানভেদে একে মহুলা, মধুকা, মোহা, মোভা, মহুভা ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর পাতা ঝরে যায়। শালবনে এটি বেশি জন্মাতে দেখা যায়।

বাংলা একাডেমীর দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি তরুণ মহুয়া গাছ দাঁড়িয়ে আছে বড়সড় মানিপ্লান্টকে সঙ্গী করে। এছাড়া রমনা পার্কে বিশাল একটি মহুয়া গাছ আছে, জাতীয় উদ্যান, বলদা গার্ডেন ও কার্জন হলের বাগানেও আছে। দিনাজপুর ও মধুপুর অঞ্চল ছাড়া দেশের অন্যান্য অংশেও এর চাষ হয়। মহুয়াগাছ খরা প্রতিরোধ করে।

আবাদি বৃক্ষ হিসেবে মহুয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ। গাছের শাখার শীর্ষদেশে লম্বা বর্শাকৃতির গুচ্ছবদ্ধ পাতা জন্মায়। ফুলগুলি মাংসল, হালকা ধূসর রঙের এবং গাছে যখন সম্পূর্ণ ফুল ফোটে তখন ফুল থেকে মিষ্টি সুগন্ধ বের হয়। মহুয়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ দ্রব্য, ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই ফুল চালের সঙ্গে রান্না করলে এর পুষ্টিমান বৃদ্ধি পায়। আখের পরেই মহুয়া ফুল সিরকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এর ফুল ও ফল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের কাছে ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং তারা মাছ মারার জন্য এবং সর্পদংশনের চিকিৎসায় মহুয়া খৈল ব্যবহার করে।

মহুয়ার তেল প্রলেপ, ত্বকের রোগ নিরাময়, বাত, মাথাব্যথা, জোলাপ, অর্শ রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বীজ থেকে আঠা পাওয়া যায়।

ভেষজগুণে মহুয়া অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মহুয়ার পাতা, বাকল, ফুলের নির্যাস ও তেলের বীজ নানা রোগের চিকিৎসায় বহুকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। মৌসুমি সর্দি-কাশি, অগ্নিমান্দ্য, অর্শ, বাত-ব্যথা, মাথাব্যথা এসবের নিরাময়কারী। তাছাড়া পুরনো ক্ষত ও কীট দংশনের ব্যথানাশক। সাঁওতালেরা মশার যন্ত্রণা, কীটপতঙ্গের দংশনের ক্ষেত্রে মহুয়া বীজের তেল ব্যবহার করে থাকে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com