জ্বালানি তেলের পাম্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানী ঢাকার আরও ১১টি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল অ্যাপ সুবিধা চালু করেছে সরকার। এ নিয়ে সব মিলিয়ে ঢাকার ১৮টি ফিলিং স্টেশন ফুয়েল অ্যাপের আওতায় আসল। তবে অ্যাপে রেজিস্ট্রশনকারীদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় আপতত ভোগান্তি লাঘবে প্রযুক্তি কোনো বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না।
পাম্প ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৃথক লাইন চালুর বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। পাশাপাশি স্থান সংকুলান না থাকায় পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করা হয়নি। ইরান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিপণন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। কখনো পাম্পে তেল না থাকা, আবার ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি কেনাকাটাসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তেলের অবৈধ মজুতও উদ্ধার করা হচ্ছে।
চলতি এপ্রিলের শুরু থেকেই ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা ও ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল পাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছিল সরকার। ওয়েবসাইটে ও গুগল প্লে স্টোরে Fuel Pass BD লিখে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
শুরুতে কেবল ঢাকা জেলা ও ঢাকা মেট্রোতে রেজিস্ট্রেশন করা মোটরসাইকেলের জন্য এই অ্যাপ উন্মুক্ত ছিল। শনিবার আরও ১০টি জেলা ও মহানগর অঞ্চলকে রেজিস্ট্রেশন সুবিধার মধ্যে আনা হয়। সেগুলো হচ্ছে- চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম মেট্রো (মহানগর), বরিশাল ও বরিশাল মেট্রো (মহানগর), খুলনা ও খুলনা মেট্রো (মহানগর), রাজশাহী ও রাজশাহী মেট্রো (মহানগর) ও ময়মনসিংহ।
প্রথম ধাপে রাজধানী ঢাকায় আসাদগেইটে সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ও বিজয় স্মরণিতে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে চালু করা হয়েছিল ফুয়েল অ্যাপ। পরের ধাপে মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জের নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, মিরপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন ও আসাদ গেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন।
শনিবার তৃতীয় ধাপে আরও ১১টি ফিলিং স্টেশনকে অ্যাপ সুবিধার আওতায় আনা হয়। সেগুলো হচ্ছে- মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে করিম এন্ড সন্স, মহাখালীতে ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ (ফিলিং ষ্টেশন), উত্তরায় মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মেসাস সততা এন্ড কোম্পানী, মিরপুর ইব্রাহিমপুরে মের্সাস দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ে মেসার্স কামাল ট্রেডিং এজেন্সী, গাবতলীর মেসার্স এস.পি, ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ে সিটি ফিলিং স্টেশন, উত্তরায় সেবা গ্রীন ফিলিং স্টেশন, মিরপুরে স্যাম এসোসিয়েটস, মিরপুর কালশী রোডে সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন।
যোগাযোগ করা হলে ইউরেকা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক আল আমিন জানান, গতকাল (শনিবার) পর্যন্ত অ্যাপ সেবা শুরু হয়নি। শুরু হলেও তারা নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত গ্রাহকদের একই লাইনে তেল দেবেন।
তেজগাাঁওয়ে সততা এন্ড কোম্পানীর বাবুল মিয়া জানান, “গতকাল (শনিবারই চালু হয়েছে। বেশ কয়েকজন তেল নিয়েছে। অ্যাপ কোম্পানির লোকজন উপস্থিত ছিল। ফুয়েল অ্যাপের জন্য পৃথক লাইন করার সুযোগ নেই। কারণ জায়গা কম। অ্যাপধারীদের ৮০০ টাকার তেল দেবো। কারণ, আমরা দিনে মাত্র চার হাজার লিটার অকটেন পাই।“
সিটি ফিলিং স্টেশন মোজাহিদুল ইসলাম মিলন জানান, “আজকেই চালু হয়ে গেছে। তবে আলাদা লাইন নেই।“
এদিকে দিন যত যাচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষমাণ ক্রেতার লাইন তত দীর্ঘ হচ্ছে। দুপুরের আগে অধিকাংশ পেট্রল পাম্পেই তেল আসছে না। তেল আসলেও বিকাল নাগাদ অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে গণপরিবহনে চলাফেরা করছেন।