সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শুভ্রতায় অনন্য বনমালী ফুল

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

হাঁটতে-চলতে সব সময় গাছের শাখায়, লতাপাতায় বা তৃণ-বীরুৎ ঝোপঝাড়ে চোখ রাখি। কখনো কখনো পেয়ে যাই নতুন কিছু। অথবা পুরনো কিছুই আবার নতুন করে দেখি। মার্চ মাসে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার একটি গ্রামে গিয়ে ঠিক তেমনই চেনা একটি গাছ চোখে পড়ল।

তবে সেখানে গাছটির দেখা পাওয়া ছিল অপ্রত্যাশিত। বন-জঙ্গল ছাড়িয়ে গাছটি এই সমতলে নিজের আবাস গড়েছে দেখে ভালোই লাগল। শালবনে অনেকবার দেখেছি। কিন্তু ফুল সব সময় থাকে না বলেই চোখ এড়িয়ে যায়।
 

শালবন মানে আরো সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে গাজীপুরের আরণ্যক বাগানবাড়িতে প্রায় দেড় দশক আগে গাছটি প্রথম দেখি। বাড়ির কর্তা চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কোনো সীমানাপ্রাচীর করেননি। ফলে বাড়ির সঙ্গে চারপাশের প্রকৃতির একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিচিত্র বন্যপ্রাণীদেরও অবাধ যাতায়াত এখানে।

প্রায় সারা দিনই আশপাশের পথ মাড়িয়ে শিয়ালের দল রাজসিক ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের মাত্র ৫০ গজ দূরেও একটি শিয়ালকে নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। ওরা নাকি এখানে নির্ভয়েই ঘুরে বেড়ায়। আমরা কয়েক বন্ধু ঘুরে দেখছিলাম আরণ্যকের প্রাণবৈচিত্র্য। বাড়ির পূর্ব প্রান্তে চোখে পড়ল কুম্ভিগাছের ফল।
দেখতে অনেকটা গোলাপজামের মতো। মনে পড়ল কুম্ভি ফুলের ছবি তোলার কথা। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই ফুলের ছবি তোলার জন্য কত কসরতই না করতে হয়েছে। কুম্ভি দেখে ফিরে যাচ্ছি বাংলো ঘরের দিকে। তখনই ঝোপঝাড়ের ভেতর চোখে পড়ল দুধ-সাদা রঙের কতগুলো ফুল। ভেবে দেখলাম আগে কখনো দেখিনি। কাছে গিয়েই সুগন্ধ টের পেলাম। হাতখানেক দূরে কাকজামের গুচ্ছবদ্ধ ফুলও ফুটেছে। ওদিকে আবার শালগাছের কচি পাতাগুলো কাঁচা সবুজ রঙের পসরা সাজিয়ে বসেছে। 

এই ফুলের অনেক স্থানীয় নাম—বনমালী, জংলি বনশাক, দারুহরিদ্রা, হরিনার ফুল, পানদোগি, পানদুসি, শালিমরিচা ইত্যাদি। চাকমা নাম কোবা বেনা, ত্রিপুরা ভাষায় বটতিতা আর মগ ভাষায় লিঙবা। চায়নিজরা ডাকে ‘হুয়াং মু বা জি’ নামে। মূলত সারা দেশে সহজলভ্য বলেই নামের এত ছড়াছড়ি। গুল্ম বা ছোট আকারের চিরসবুজ গাছ। ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পত্র উপপত্রযুক্ত এবং বৃন্তক, উপপত্র আবার প্রশস্তভাবে তিনকোনা আকৃতির, ১২ মিমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পাতা গভীর শিরাযুক্ত, বিপ্রতীপভাবে বিন্যস্ত ও বোঁটা চার সেমি লম্বা। মঞ্জরিদণ্ড ১২ সেমি দীর্ঘ। ফুলের পাপড়ির সংখ্যা পাঁচ, সাদা, মসৃণ, সরু নল, তিন সেমি লম্বা ও মধুগন্ধি। গর্ভদণ্ড অসম, গোলাকার মুকুটের ওপর সজ্জিত। পুংদণ্ড খুবই খাটো, পরাগধানী অন্তর্মুখী। ফল লাটিমাকার, প্রত্যেক মাথায় স্বল্পসংখ্যক ফল সজ্জিত, সাধারণত মুক্ত, শুষ্ক অবস্থায় কালো। প্রায় সারা বছরই ফুল ও ফল দেখা যায়। প্রথম দেখায় টগর কিংবা কুন্দ বলে ভুলও হতে পারে। তবে এই গাছে সারা

বছর ফুলের চেয়ে ফলই বেশি দেখা যায়।

বনমালীর (Morinda angustifolia) প্রিয় আবাস বনের প্রান্তে ঝোপঝাড়। গাছের মূল থেকে এক ধরনের রং তৈরি হয়। কাণ্ড ও মূলের রস চাকমা আদিবাসীরা মূত্রজনিত সমস্যায় ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, মায়ানমার, চীন, ভুটান ও থাইল্যান্ডেও এই গাছ সহজলভ্য। আমাদের বনভূমিগুলো যে হারে উজাড় হচ্ছে তাতে গাছটি অচিরেই হুমকির মুখে পড়বে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com