হাঁটতে-চলতে সব সময় গাছের শাখায়, লতাপাতায় বা তৃণ-বীরুৎ ঝোপঝাড়ে চোখ রাখি। কখনো কখনো পেয়ে যাই নতুন কিছু। অথবা পুরনো কিছুই আবার নতুন করে দেখি। মার্চ মাসে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার একটি গ্রামে গিয়ে ঠিক তেমনই চেনা একটি গাছ চোখে পড়ল।
হাঁটতে-চলতে সব সময় গাছের শাখায়, লতাপাতায় বা তৃণ-বীরুৎ ঝোপঝাড়ে চোখ রাখি। কখনো কখনো পেয়ে যাই নতুন কিছু। অথবা পুরনো কিছুই আবার নতুন করে দেখি। মার্চ মাসে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার একটি গ্রামে গিয়ে ঠিক তেমনই চেনা একটি গাছ চোখে পড়ল।
শালবন মানে আরো সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে গাজীপুরের আরণ্যক বাগানবাড়িতে প্রায় দেড় দশক আগে গাছটি প্রথম দেখি। বাড়ির কর্তা চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কোনো সীমানাপ্রাচীর করেননি। ফলে বাড়ির সঙ্গে চারপাশের প্রকৃতির একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিচিত্র বন্যপ্রাণীদেরও অবাধ যাতায়াত এখানে।
এই ফুলের অনেক স্থানীয় নাম—বনমালী, জংলি বনশাক, দারুহরিদ্রা, হরিনার ফুল, পানদোগি, পানদুসি, শালিমরিচা ইত্যাদি। চাকমা নাম কোবা বেনা, ত্রিপুরা ভাষায় বটতিতা আর মগ ভাষায় লিঙবা। চায়নিজরা ডাকে ‘হুয়াং মু বা জি’ নামে। মূলত সারা দেশে সহজলভ্য বলেই নামের এত ছড়াছড়ি। গুল্ম বা ছোট আকারের চিরসবুজ গাছ। ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পত্র উপপত্রযুক্ত এবং বৃন্তক, উপপত্র আবার প্রশস্তভাবে তিনকোনা আকৃতির, ১২ মিমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পাতা গভীর শিরাযুক্ত, বিপ্রতীপভাবে বিন্যস্ত ও বোঁটা চার সেমি লম্বা। মঞ্জরিদণ্ড ১২ সেমি দীর্ঘ। ফুলের পাপড়ির সংখ্যা পাঁচ, সাদা, মসৃণ, সরু নল, তিন সেমি লম্বা ও মধুগন্ধি। গর্ভদণ্ড অসম, গোলাকার মুকুটের ওপর সজ্জিত। পুংদণ্ড খুবই খাটো, পরাগধানী অন্তর্মুখী। ফল লাটিমাকার, প্রত্যেক মাথায় স্বল্পসংখ্যক ফল সজ্জিত, সাধারণত মুক্ত, শুষ্ক অবস্থায় কালো। প্রায় সারা বছরই ফুল ও ফল দেখা যায়। প্রথম দেখায় টগর কিংবা কুন্দ বলে ভুলও হতে পারে। তবে এই গাছে সারা
বছর ফুলের চেয়ে ফলই বেশি দেখা যায়।
বনমালীর (Morinda angustifolia) প্রিয় আবাস বনের প্রান্তে ঝোপঝাড়। গাছের মূল থেকে এক ধরনের রং তৈরি হয়। কাণ্ড ও মূলের রস চাকমা আদিবাসীরা মূত্রজনিত সমস্যায় ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, মায়ানমার, চীন, ভুটান ও থাইল্যান্ডেও এই গাছ সহজলভ্য। আমাদের বনভূমিগুলো যে হারে উজাড় হচ্ছে তাতে গাছটি অচিরেই হুমকির মুখে পড়বে।