ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বাংলা নববর্ষের দিন প্রতিবছরের মতো এবারও বের হবে বর্ণিল শোভাযাত্রা। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নয়, এবার এর নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। নামকরণে বদল এলেও এই শোভাযাত্রার মূল কাঠামো ও ঐতিহ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না। চারুকলার মোটিফে থাকবে না রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
বর্ষবরণ উপলক্ষে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’। এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের মিশেলে পাঁচটি প্রধান মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে—লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, সোনারগাঁওয়ের কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা এবং কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা ঘোড়া। সাম্প্রতিক সময়ে বাউলশিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এবং লোকসংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে মোটিফ হিসেবে রাখা হয়েছে দোতারা। এই শোভাযাত্রা ঘিরে সকাল থেকেই টিএসসি ও চারুকলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে উত্সবমুখর।
সূর্যোদয়ের পর রমনার বটমূলে শুরু হবে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। বছরের প্রথম দিনটি ছায়ানটের শিল্পীরা বরণ করে নেবেন গানে গানে। এবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির’। পরিবেশিত হবে বৈশাখের গান, দেশের গান ও মানুষকে জাগ্রত করার গান।
আশপাশের এলাকায় থাকবে হরেক রকম বাঙালি খাবারের মেলা।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও থাকবে নানা আয়োজন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে হবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। গান, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি ও প্রদর্শনীতে অংশ নেবে সর্বস্তরের মানুষ।
ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবরে সকাল ৬টা থেকে সুরের ধারা ও চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবরণ।
জাতীয় সংসদ ভবন, মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকাজুড়েও থাকে বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন; যেতে পারেন সেখানে। তবে সকালের চেয়ে বিকেলে এই এলাকা বেশ জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার ঠাঁটারীবাজার, নাজিরাবাজার, চকবাজারের দিকেও যেতে পারেন। এখানে যাবতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। দেখতে পারবেন ঐতিহ্যবাহী হালখাতার বিভিন্ন আয়োজন। এদিন হাতিরঝিল ও তিন শ ফিট সড়ক হতে পারে ঘোরাঘুরির জন্য উত্তম স্থান। ঘুরেফিরে রকমারি খাবারের স্বাদ নিয়ে দিনটি আনন্দে কাটাতে পারবেন।
আতিফ আতাউর
ঢাকা
চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের জনপদগুলোতে পহেলা বৈশাখের উত্সবের রং একটু ভিন্ন, একটু বেশিই বৈচিত্র্যময়। চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পাহাড়ঘেরা রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি কিংবা সমুদ্রতীরের কক্সবাজার—প্রতিটি স্থানেই নববর্ষ বরণ করে নেওয়ার ধরন আলাদা, কিন্তু আনন্দের সুর একই। কোথাও জলকেলি, কোথাও বলীখেলা, আবার কোথাও গ্রামীণ পণ্যের মেলা। চট্টগ্রামে বৈশাখী উত্সবের শুরু হয় গান আর কবিতার আবহে। ডিসি হিল ও সিআরবির শিরীষতলায় হবে বৈশাখের প্রধান আয়োজন। মানুষের ঢল নামে এসব স্থানে। এবার বৈশাখের আয়োজন হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শিল্পকলা একাডেমিতেও। তবে চট্টগ্রামের নববর্ষের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ঐতিহাসিক ‘জব্বারের বলীখেলা’। যদিও এটি লালদীঘি ময়দানে বৈশাখের ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু এর আমেজ শুরু হয়ে যায় পহেলা বৈশাখ থেকেই। এখানকার বৈশাখী মেলায় মাটির পুতুল, বাঁশ-বেতের কুটির শিল্পের সমারোহ ঘটে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নিজেদের মতো করে উদযাপন করে বাংলা বছরের প্রথম দিন।ছবি : কালের কণ্ঠ
মুখর হয়ে উঠবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও। চারুকলা ইনস্টিটিউট দীর্ঘ ১৫ বছর পর মূল ক্যাম্পাসে ফিরে প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবে। এরই মধ্যে নানা শৈল্পিক কাঠামো ও মুখোশ তৈরি সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে থাকবে বৈশাখী শোভাযাত্রা। এরপর জারুলতলায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, কাবাডি ও বলীখেলা। চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখো, লুসাই, রাখাইন ও অহমিয়া জনগোষ্ঠীরা বৈশাখকে নানা আয়োজনে বরণ করে নেয়। সম্প্রদায়ভেদে বৈশাখের উত্সবের রয়েছে নানা নাম। এসব আয়োজনে অংশ নিতে পারেন আপনিও। সমুদ্রতীরবর্তী কক্সবাজারেও বৈশাখ উদযাপন পায় অন্য রকম মাত্রা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে সূর্যোদয় দেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনটি। সৈকতজুড়ে আয়োজন করা হয়। পর্যটকদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উত্সবমুখর। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও থাকে বিশেষ বৈশাখী আয়োজন।
কাজী মনজুরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবারের মতো এবারও বের হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।ছবি : কালের কণ্ঠ
রাজশাহী
রাজশাহী জুড়ে থাকবে বর্ষবরণের আয়োজন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রায় বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানিসংকটের প্রতিফলন তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় দেশীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি উঠে আসবে সমসাময়িক বিশ্ববাস্তবতার চিত্র। চারুকলা অনুষদের শিক্ষক এ কে এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেন আবার সেই পুরনো দিনে ফিরে যাচ্ছি, যখন ঘোড়ার গাড়িই ছিল প্রধান বাহন। বর্তমান জ্বালানিসংকট সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত দেয়। শোভাযাত্রায় প্রধান মোটিফ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি, যা শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। শোভাযাত্রায় আরো স্থান পাবে বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশাহ ও ঐতিহাসিক চরিত্রের নানা মুখোশ।’ পাশাপাশি গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর পদ্মাপার এদিন বিকেল থেকেই লোকারণ্য হয়ে ওঠে। নারী-পুরুষ-শিশুরা এদিন হাজির হয় পদ্মাপারে।
মাহবুব হাসান
প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সিলেট
বিগত কয়েক দশক সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের বর্ষবরণ আয়োজন মানুষকে বেশি টেনেছে। এখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী আয়োজন ঘিরে বেশি সমাগম হয়। পাশাপাশি নগরের নানা আয়োজনও বর্ষবরণ উত্সবে মুখর থাকে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাছ, ডাকবাক্স, হাতপাখাসহ নানা প্রতীক নিয়ে সকালে বের হবে শোভাযাত্রা। থাকবে দিনব্যাপী লোকজ আয়োজন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে দর্শনার্থীর ঢল থাকে। এমসি কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন মোহনা ক্যাম্পাসে নববর্ষের অনুষ্ঠান করবে। শোভাযাত্রা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনসহ নানা আয়োজন করবে চারণ সংস্কৃতি কেন্দ্র। সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতিও দিনব্যাপী অনুষ্ঠান করবে। থাকবে শতকণ্ঠে সংগীতে বর্ষবরণ। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নববর্ষের নানা অনুষ্ঠান করবে। জেলা শিল্পকলা একাডেমিও বর্ষবরণের আয়োজন করে।
ইয়াহইয়া ফজল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
খুলনা
পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৮টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ৯টায় শহীদ হাদিস পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও দিনব্যাপী লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যৌথভাবে দিবসটি উদযাপনে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এদিন খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এ ছাড়া বৈশাখের প্রথম দিনে জাহানাবাদ চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন শিশু পার্ক, মুজগুন্নির উল্লাস পার্ক, খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক, পশ্চিম রূপসার সাবেক ফেরিঘাট সংলগ্ন রিভারভিউ পার্ক, রূপসা সেতু, জাতিসংঘ শিশু পার্ক, আধুনিক রেলস্টেশনে যেতে পারেন দর্শনার্থীরা।
এইচ এম আলাউদ্দিন
ব্যুরো প্রধান, খুলনা
রংপুর
পহেলা বৈশাখে রংপুর বিভাগ জুড়ে উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। নতুন বছরকে বরণ করতে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। মূলত ঐতিহাসিক স্থান, বিনোদন পার্ক, প্রাকৃতিক স্পট এবং মেলাকেন্দ্রিক জায়গাগুলোতে ঘুরতে যায়। পহেলা বৈশাখে রংপুর শহরের তাজহাট জমিদারবাড়ি সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গাগুলোর একটি। ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় ঘুরে দেখা ও ছবি তোলার জন্য ভিড় জমে। শিশু ও পরিবারের জন্য ভিন্নজগত্ বিনোদন পার্ক বেশ জনপ্রিয়। এখানে নানা রাইড, বিনোদন ও সাজানো পরিবেশে সময় কাটানো যায়। রংপুর শহরের কারমাইকেল কলেজ প্রাঙ্গণ পহেলা বৈশাখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। গান, নাচ, আবৃত্তিতে উত্সবমুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। রংপুর জিলা স্কুল মাঠ এলাকায় বৈশাখী মেলা বসে, যেখানে নানা রকম দেশীয় খাবার ও হস্তশিল্প পাওয়া যায়। দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী পহেলা বৈশাখে একেবারে মেলামুখর হয়ে ওঠে। নীলফামারীর নয়াবাঁধ পিকনিক স্পট বা আশপাশের নদী ও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশেও অনেকেই পরিবার নিয়ে পিকনিক করতে যান। দিনাজপুরের রাজবাড়ি এলাকাও বৈশাখে জমজমাট হয়ে ওঠে।
রফিকুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
বরিশাল
ভোরের আলো ফোটার আগেই পহেলা বৈশাখে যেন জেগে উঠবে বরিশাল। পহেলা বৈশাখ ঘিরে নানা আয়োজনে সেজে উঠবে নগরী। রয়েছে প্রভাতি অনুষ্ঠান থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা, গ্রামীণ মেলা। সকাল সাড়ে ৬টায় ব্রজমোহন (বিএম) বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বরিশাল জেলা সংসদের উদ্যোগে শুরু হবে প্রভাতি অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন শিল্পীরা। একই মাঠে বসবে তিন দিনব্যাপী ৪৪তম উদীচী বৈশাখী মেলা। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকগান, নৃত্য আর নাটকের মিশেলে জমে উঠবে মেলার আসর। খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির উদ্যোগে সকাল ৭টা থেকে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে শুরু হবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। থাকবে প্রভাতি আয়োজন, শিশু সমাবেশ, রাখিবন্ধন আর শুভেচ্ছা বিনিময়। চারুকলা বরিশালের উদ্যোগে সাড়ে ৬টায় বিএম স্কুল মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে ফিরে আসবে মাঠে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেলস পার্ক মাঠেও থাকছে বর্ষবরণের আয়োজন। বেলস পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক এবং কীর্তনখোলা নদীতীরের ৩০ গোডাউন এলাকায় বসবে মানুষের মিলনমেলা। শহরের অলিগলি থেকে নদীর পার—সবখানেই থাকবে মানুষের ঢল।
রফিকুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ শহরে ব্রহ্মপুত্র নদের পারে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যান। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। পহেলা বৈশাখে ময়মনসিংহের মানুষের ঘুম ভাঙে এই উদ্যানে। সকাল ৯টায় ময়মনসিংহ থেকে বৈশাখের শোভাযাত্রা শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন পথ হেঁটে উত্সবমুখর শোভাযাত্রা যায় জয়নুল আবেদিন উদ্যানে। উদ্যানে স্থায়ীভাবে নির্মিত দুটি বৈশাখী মঞ্চে দিনভর চলে বৈশাখের নানা আয়োজন। দলে দলে মানুষ ছুটে যায় ব্রহ্মপুত্রের পারের নির্মল আনন্দে অংশ নিতে। মেলা বসে। মেলায় থাকে ঐতিহ্যবাহী খেলনা, চুড়ি, বিভিন্ন রকমের তৈজস, বিন্নিধানের খই, খেলনাসহ নানা ধরনের খাবার। শিশুদের জন্য থাকে নাগরদোলা, ঘোড়ার গাড়ি। চাইলে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও রয়েছে ব্রহ্মপুত্রে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও পহেলা বৈশাখে ঘুরতে যায় লোকজন। ব্রহ্মপুত্রের পারে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। বোটানিক্যাল গার্ডেন বা উপাচার্যের বাসভবনের পাশের ঘাটে দাঁড়ালে নৌকার মাঝিই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাবে ব্রহ্মপুত্রে ভেসে বেড়ানোর।