হাম কী
হাম মূলত ‘মিজেলস’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে হাম আবির্ভূত হয়। শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে মিজেলস ভাইরাস শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে হামে আক্রান্ত শিশু নানা রকম ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সহজেই সংক্রমিত হয়।
* অন্যদের থেকে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন। হামে আক্রান্ত শিশুকে বাইরে নেবেন না। স্কুল, খেলাধুলার স্থান বা অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
* শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখুন।
* আক্রান্ত শিশুকে সুষম খাবার, পানীয় পান করানো এবং অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখুন।
চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকসহ পর পর দুই দিন দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে খাওয়াতে হবে।
* হামে আক্রান্ত শিশুর যদি কোনো বিপদচিহ্ন থাকে; যেমন—শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি, নিস্তেজ হয়ে পড়া, চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসা, মুখের ভেতর গভীর ঘা। তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
* হাম থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য সুষম পুষ্টি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। এই রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া উচিত। কারণ তখন ক্ষুধামান্দ্য থাকে। এসব ফলের রস রুচি বাড়াতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে রোগীকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো সক্রিয় হবে। খাবার তালিকায় সবুজ শাক-সবজি ও ফলমূলকে প্রাধান্য দিন।
* আক্রান্ত শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার; যেমন—স্যুপ, পানি ও ফলের রস খাওয়ান। পর্যাপ্ত পরিমাণে কুসুম গরম তরল খাবার খাওয়াতে পারেন।
* এ সময় শরীরের সার্বিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। খাবার তালিকায় চর্বিহীন মাংস, মুরগি, মাছ, ডিম, দুধজাত খাবার, ডাল, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ যোগ করুন।
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জিংক গুরুত্বপূর্ণ। এটি হামের স্থায়িত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে। খাদ্যতালিকায় লাল মাংস, মুরগির মাংস, শিম, বাদাম ও গোটা শস্যের মতো খাবার রাখুন।
* ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় লেবু, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম এবং কিউইয়ের মতো খাবার রাখতে পারেন।
* রোগীর ব্যবহূত জিনিসপত্র আলাদা করে গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
পরিহার করুন
চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার : এজাতীয় খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ জন্য সুস্থ হয়ে উঠতে সময় বেশি লাগতে পারে।
চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার : এসব খাবার সহজে হজম হয় না। এ কারণে পরিপাকতন্ত্রের উপসর্গগুলো আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ঝালজাতীয় খাবার : এ ধরনের খাবার গলা ও মুখে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কাশি ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গগুলো আরো বেড়ে যেতে পারে।
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় : এ ধরনের খাবার শরীরে পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। এসব পরিহার করুন।