সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পর্দায় কী দেখলেন তাঁরা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ‘ছায়াবাণী’ হলে চলছে ঈদের ছবি ‘প্রিন্স’। হলের বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শকের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত
পর্দায় কী দেখলেন তাঁরা

‘প্রিন্স’ আমার ভালো লাগেনি

ছটকু আহমেদ কাহিনিকার ও নির্মাতা

এককথায় ‘প্রিন্স’ চলচ্চিত্রটি আমার ভালো লাগেনি। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া যাত্রা যেমন অসার, তেমনি লক্ষ্যহীন গল্পও সফলতা লাভ করে না। ভয়ংকর বিশাল সব মারণাস্ত্র ব্যবহার করেও সেই ছবি বাঁচানো যায় না। শাকিবের কোনো লস নেই, তার টাকা সে পেয়ে গেছে বা পাবে।

প্রযোজকের টাকা উঠতে অনেক কষ্ট হবে। ভক্তরা যা-ই বলুক, এটাই সত্য। 

‘বরবাদ’ দেখার পর যেভাবে গুণকীর্তন করেছিলাম, তা এবার করতে পারলাম না। ‘শাকিব মানেই টাকা’, ‘গল্প ছাড়াই ছবি সুপারহিট’—এগুলো ভীষণ ক্ষতি করবে শাকিবের।

আর ছবি সফল হওয়ার অন্যতম কারণ জুটি, শাকিবের এই মুহূর্তে সেই রকম কোনো নায়িকা জুটি নেই। এমনকি খল অভিনেতা মিশা সওদাগরের সঙ্গেও যে জুটির রসায়ন, সেটাও এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে। 

প্রথম ও শেষ কথা, চলচ্চিত্র ভালোবেসে নির্মাণ করতে হবে। ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ গোছের ছবি সাফল্যের মুখ দেখে না, দেখবেও না।

 

পর্দায় কী দেখলেন তাঁরা

‘দম’ সবার দেখা উচিত

শিহাব শাহীন নির্মাতা

‘দম’ আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রে নতুন জনরার ছবি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। এখানে যেটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে জরুরি রাজনীতির কথা। গল্পে নূর মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তাকে বন্দি করে রেখেছে আফগানিরা। সে বারবার নিজের মুসলিম পরিচয় দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি। তাদের কাছে ধর্ম না, ব্যবসাটাই মুখ্য।

 

গল্পের ভাঁজে ভাঁজে এসেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি যুদ্ধের কথা। আজকের দিনে এই দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলবে ছবিটির ধীরগতির কথা। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব উপভোগ করেছি। সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ, রেদওয়ান রনি ভালো নির্মাণ করেছে। অভিনয়ে আফরান নিশো বরাবরের মতোই অসাধারণ। তবে ছবির যে গল্প, তাতে দর্শককে আরো ইমোশনালি কানেক্ট করাটা জরুরি ছিল, সেটা মিসিং। এটুকু বাদ দিলে ‘দম’ বেশ ভালো ছবি, সবার দেখা উচিত। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রেশার কুকার’-এর টিকিট কেটেছিলাম, খুব কাছের বন্ধুর মা মারা যাওয়ায় ফেনী চলে যেতে হয়েছিল। শিগগিরই ঈদের সব ছবি দেখে ফেলব।

পর্দায় কী দেখলেন তাঁরা

‘রাক্ষস’-এ সিয়াম ও সুস্মিতা

বাণিজ্যিক ছবি হিসেবে ‘রাক্ষস’ দুর্দান্ত

আদনান আল রাজীব নির্মাতা

পর্দায় কী দেখলেন তাঁরাবাণিজ্যিক ছবি হিসেবে আমরা যা বুঝি, ‘রাক্ষস’ সে রকমই। দর্শক গল্পে একীভূত হতে পেরেছে। গল্পের চমকপ্রদ অংশে হাততালি দিয়েছে। বাণিজ্যিক ছবির এটাই গুণ। মেহেদী হাসান হৃদয় বুঝিয়ে দিয়েছে, এই সময়ে এসে কিভাবে বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ করতে হয়। সিয়ামের এই পরিবর্তন আমাকে অভিভূত করেছে। সিয়ামের শোবিজ জার্নির শুরু থেকে আমার সঙ্গে পরিচয়, আমাদের সঙ্গে কাজ করেই সে শোবিজে পা রাখে। আজ সে বাণিজ্যিক ছবির শোম্যান হয়ে উঠেছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের।

‘দম’ও বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। রেদওয়ান রনি আমাদের ভাই-বেরাদর, এই ছবির পেছনের জার্নি আমি জানি। সে কাজে শতভাগ সৎ। কিছু কিছু দৃশ্য এত সুন্দর, চোখে জল চলে আসে। নিশো ভাইও চরিত্রের প্রতি একনিষ্ঠ ছিল, আলাদা করে বলব পূজা চেরীর কথা। এটাই তার ক্যারিয়ারসেরা অভিনয়।

‘প্রিন্স’ও দেখেছি। পর্দায় শাকিব খানকে দেখতে বরাবরই ভালো লাগে, এখানেও তা-ই। কিছু দৃশ্যের শুট না হওয়ায় খামতিটা চোখে লেগেছে।

পর্দায় কী দেখলেন তাঁরা

দুটিরই সিনেমাটোগ্রাফি ভালো

সাইফুল শাহীন চিত্রগ্রাহক

ঈদের দুটি ছবি দেখেছি এ পর্যন্ত—‘দম’ ও ‘প্রিন্স’। দুটিই ভালো লেগেছে। দুটিরই সিনেমাটোগ্রাফি ভালো। ‘দম’-এর ক্যামেরায় ছিলেন কাজাখস্তানেরই একজন চিত্রগ্রাহক মিখাইল সিরিয়েনভ, তিনি খুবই ভালো করেছেন।

‘প্রিন্স’-এরও সবচেয়ে ভালো দিক ক্যামেরার কাজ। নির্মাণ, অভিনয়ও ভালো লেগেছে। তবে দুটি ছবিরই গল্পের জোর কম। গল্পের দিক থেকে আরো ভালো আশা করেছিলাম, এটাই খামতি চোখে পড়েছে।

পর্দায় কী দেখলেন তাঁরা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্য ভালো লেগেছে

হিমেল আশরাফ নির্মাতা

ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো ছবি সাফল্য পেয়েছে, এটা খুবই ভালো লেগেছে। এই ধরনের গল্পের ছবি দর্শক হলে এসে টিকিট কেটে দেখছে, এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। একসময় আমাদের দেশে মাল্টিকাস্টিং ছবি হতো, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দিয়ে সেটা আবার ফিরে এলো। ছবিসংশ্লিষ্ট সবাই খুব মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে। মোশাররফ করিম ভাই দুর্দান্ত পারফরম করেছে, আমার একাধিক নাটকের নায়িকা সাবিলা নূর একদম হুমায়ূন আহমেদের নায়িকার মতো অভিনয় করেছে।

‘দম’ও ভালো লেগেছে। বিদেশের মাটিতে এত গোছানো কাজের জন্য রনি ভাই [রেদওয়ান রনি] ও শাকিল ভাই [শাহরিয়ার শাকিল] বিশেষ ধন্যবাদ পাবেন। গল্প খুব সুন্দর। সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক—সবই মন ছুঁয়ে গেছে। স্বল্প সময়ে চঞ্চল দাদাও খুব ভালো করেছে, নিশো ভাইও দুর্দান্ত। চরিত্রের প্রতি তাঁর ডেডিকেশন যেকোনো অভিনেতার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তবে পর পর তিনটি ছবিতেই তাঁর চরিত্রগুলো কোথাও যেন গিয়ে একই রকম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করি, সামনের ছবিতে তাঁর অভিনয়ের বৈচিত্র্য দেখতে পারব।

বাণিজ্যিক ছবি হিসেবে উপভোগ্য মসলাদার ছবি ‘রাক্ষস’। মেহেদী হাসান হৃদয় প্রমাণ করে দিয়েছে, সে এই মুহূর্তে সবচেয়ে সেরা বাণিজ্যিক ছবির নির্মাতা। সিয়ামও প্রতিটা ফ্রেমে চরিত্রের মান রেখেছে। গল্পের প্রয়োজনে ‘বরবাদ’-এর শাকিব খানের একটা দৃশ্য দেখানো হয়, তাতেই দর্শকের যে উল্লাস দেখেছি, তা অবিশ্বাস্য।

‘প্রেশার কুকার’ও ভালো লেগেছে। রায়হান রাফী এরই মধ্যে নিজের একটা জনরা তৈরি করে ফেলেছেন, তাঁর আলাদা দর্শকও সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু ‘প্রিন্স—ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ছবিটাই দেখতে পারিনি। প্রথম কয়েক দিন শো বিপত্তি থাকায় দেখতে পারিনি। বাড়িতে যাওয়ার পর সিঙ্গল স্ক্রিনে দেখতে গিয়েও আর দেখিনি। এখন ঢাকায় এসে দেখব।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com