সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রকৃতির রহস্যময় সৌন্দর্যের সন্ধানে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে। পাহাড়, সমুদ্র, ঝরনা ও নদ-নদীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখলে মন ভরে যায়। তাই প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়ানো আমার কাছে এক বিশেষ আনন্দের বিষয়। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে সময় পেলেই ছুটে যাই অজানা কোনো গন্তব্যের পথে।

চেরাপুঞ্জির পথে যাত্রা
ভোরবেলা আমরা বেরিয়ে পড়ি চেরাপুঞ্জির উদ্দেশে। পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের স্থান হিসেবে একসময় পরিচিত এই চেরাপুঞ্জির স্থানীয় নাম ‘সোহরা’। প্রায় এক হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এ অঞ্চল খাসি সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান। খাসি ভাষায় সাহিত্যচর্চার সূচনাও হয়েছিল এখানেই। অনুচ্চ পাহাড়ের বুক চিরে চলে গেছে মসৃণ রাস্তা। পথে পথে ছোট ছোট গ্রাম, সবুজ উপত্যকা, কৃষিজমি, পাইন গাছের সারি, নাসপাতি ও কমলালেবুর বাগান–সব মিলিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য। আমাদের চার চাকার গাড়ির চালক জুথিশ দাদাকে জিজ্ঞেস করলাম–আমরা কোথায় যাচ্ছি। তিনি মুচকি হেসে বললেন, ‘গেলেই দেখতে পাবে।’

অদ্ভুত এক বাগান: গার্ডেন অব কেইভ
কিছুক্ষণ পর আমরা পৌঁছালাম আমাদের গন্তব্যে– ‘গার্ডেন অব কেইভ’। আম, খেজুর, গোলাপ কিংবা টিউলিপ বাগানের নাম শোনা গেলেও ‘গুহার বাগান’ নামটি আমার কাছে একেবারেই নতুন ছিল। প্রায় ২ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে গড়ে উঠেছে এ পার্কটি।
পার্কজুড়ে রয়েছে ঘুরে ঘুরে হাঁটার পথ। চুনাপাথরের প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে এখানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গুহা। পাথরের ফাঁক গলে কোথাও সূর্যের আলো ঢুকে পড়েছে, আবার কোথাও ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও ক্ষীণ আলোয় ঝরনার জল টুপটাপ শব্দে গড়িয়ে পড়ছে।
টিকিট কেটে আমরা পার্কে প্রবেশ করলাম। একজন পথপ্রদর্শক আমাদের বাঁদিকের পথ ধরে এগিয়ে যেতে বললেন। বিশাল পাথরের গা বেয়ে জল চুঁইয়ে পড়ছে, আর সেই শব্দ যেন পথের ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছে। পথের ধারে দেখা মিলল নাম না জানা অর্কিডের। কিছুদূর এগিয়ে সিঁড়ি বেয়ে আমরা গুহার ভেতরে প্রবেশ করলাম। টুপটাপ শব্দে ছাদ থেকে জল পড়ছে। আলো-আঁধারের খেলায় গুহার ভেতরটা যেন এক রহস্যময় জগৎ। কোথাও অল্প পানি, কোথাও আবার গোড়ালি পর্যন্ত ঠান্ডা জল জমে আছে। সেই ঠান্ডা জলে ভিজতে ভিজতেই আমরা এগিয়ে চললাম।
গুহার ভেতরের পথ অসমতল ও পিচ্ছিল। কোথাও পাশাপাশি দুজনের চলা কঠিন, আবার কোথাও এতটাই সংকীর্ণ যে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়েছে। জেনারেটরের আলোয় দেখা গেল পাথরের বিচিত্র সব আকৃতি–কোথাও মানুষের মুখ, কোথাও হাঁস বা পাখির মতো আকৃতি। কোনো কোনো জায়গায় পাথর বেয়ে ওপরে উঠে আবার নিচে নামতে হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত যাওয়ার পর পর্যটকদের ফিরে আসতে হয়। আসা-যাওয়ার পথে আমরা অনেক ছবি তুললাম। গুহার ভেতরে হাঁটাহাঁটি করা সত্যিই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

ঝরনা ও বনভূমির অপূর্ব দৃশ্য
গুহা থেকে বেরিয়ে কিছু দূর এগোতেই দেখা মিলল এক অপরূপ সুন্দর ঝরনার। কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে। জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে মেঘালয়ের খাসি উপজাতির মানুষ ব্রিটিশ সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এ গুহাগুলোয় আশ্রয় নিত। ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া ছাড়াও চারপাশের জঙ্গল থেকে তারা খাদ্য সংগ্রহ করত।
অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে এখানকার শিলাগুলো নানা আকৃতি ধারণ করেছে। এরপর আমরা বনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর কুয়াশার চাদর মিলিয়ে এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পথে একটি হৃদয় আকৃতির পাথরও দেখতে পেলাম। এরপর বাঁশের সেতু পার হয়ে আরেকটি ঝরনার দেখা পেলাম।

ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য
শিলং ও চেরাপুঞ্জির বেশির ভাগ দর্শনীয় স্থান মেঘালয় সরকারের পর্যটন বিভাগের আওতায়। তাই প্রতিটি স্থানে প্রবেশের জন্য ১০-২০ রুপি ফি দিতে হয়। স্টিল ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করলে অতিরিক্ত ২০-৫০ রুপি দিতে হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে যেতে হলে সিলেটের তামাবিল বর্ডার পার হয়ে ভারতের ডাউকি বর্ডারে প্রবেশ করা সহজ। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে শিলং বা চেরাপুঞ্জি যাওয়া যায়। সাধারণত এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ রুপিতে চারজন যাত্রী ট্যাক্সিতে যাতায়াত করতে পারেন।
এ ছাড়া মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের প্যাকেজ বাসেও চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ করা যায়। প্রতিদিন সকালে শিলংয়ের পুলিশ বাজার থেকে এই বাস ছাড়ে এবং জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ রুপি।
থাকার জন্য শিলংয়ের পুলিশ বাজার ও লাইতুমখারা এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। ডাবল রুমের ভাড়া সাধারণত এক হাজার থেকে সাত হাজার রুপির মধ্যে। এ ছাড়া সোনাংপেডাং, ক্রাং ঝরনা, মাওলিং গ্রাম ও লিভিং রুট ব্রিজ এলাকাতেও সুন্দর গেস্ট হাউস ও কটেজ পাওয়া যায়।
ভারত ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদনের সময় ডাউকি বর্ডারের নাম উল্লেখ করা উচিত। যাওয়ার আগে সোনালী ব্যাংকে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর পরিশোধ করতে হয়। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখা জরুরি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com