স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কের একটি রোগ। এতে রক্তনালির জটিলতার কারণে হঠাৎ করে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় অথবা রক্তক্ষরণ ঘটে। এর ফলে মস্তিষ্কের সেই অংশের কার্যকারিতা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকেই মনে করেন স্ট্রোক হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু বাস্তবে এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ।
স্ট্রোকের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল এবং ধূমপান অন্যতম।
স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ করেই দেখা দেয়। শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, বমি হওয়া কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এর প্রধান লক্ষণ।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত স্ট্রোক দুই ধরনের হয়ে থাকে— একটি রক্তনালিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এবং অন্যটি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে।
স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান পরিহার করা, ওজন ঠিক রাখা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, ঢাকা