রোগ নির্ণয়ে পরমাণু প্রযুক্তি (নিউক্লিয়ার মেডিসিন) হলো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বা রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের গঠন ও কার্যকারিতা সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করার উন্নত পদ্ধতি [১, ৫]। এটি PET-CT স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যান্সার, হৃদরোগ, থাইরয়েড ও হাড়ের ক্ষয়সহ বিভিন্ন জটিল রোগ早期 (প্রাথমিক পর্যায়ে) শনাক্ত করতে সাহায্য করে [২, ৬, ৭]। এটি একটি নির্ভুল, কার্যকর এবং কম বেদনাদায়ক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি [৬, ১২]।
রোগ নির্ণয়ে পরমাণু প্রযুক্তির প্রধান ব্যবহারসমূহ:
ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণ: পিইটি-সিটি (PET-CT) স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যান্সারের টিউমার, অবস্থান এবং শরীরের অন্যান্য অংশে তা ছড়িয়েছে কি না তা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা হয় [৬, ৮]।
ইমেজিং ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন: রেডিওট্রেসার ব্যবহার করে ডাক্তাররা শরীরের টিস্যু বা অঙ্গের (যেমন- কিডনি, ফুসফুস, লিভার) কর্মক্ষমতা এবং কোনো অসামঞ্জস্যতা থাকলে তা ট্র্যাক করতে পারেন [২, ৪]।
থাইরয়েড রোগ নির্ণয়: তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা (হাইপারথাইরয়েডিজম) এবং থাইরয়েড ক্যান্সার শনাক্ত করা হয় [৩, ৭]।
হাড়ের ক্ষয় ও হৃদরোগ: বিএমডি (BMD) মেশিনের মাধ্যমে হাড়ের ঘনত্ব ও ক্ষয়রোগ এবং কার্ডিয়াক ইমেজিংয়ের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন ও ব্লক পরীক্ষা করা হয় [৭, ৪]।
বিশেষায়িত পরীক্ষা: উইলসন রোগ নির্ণয়ে প্রস্রাব ও রক্তে কপার এবং আর্সেনিকোসিস শনাক্ত করতে চুলের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয় [১৩]।
বাংলাদেশ ও পরমাণু প্রযুক্তি: বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে ১৫টি কেন্দ্রের [১০] মাধ্যমে এই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত কম খরচে প্রদান করা হচ্ছে [৬]। এর মধ্যে ‘ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস’ (INMAS) অন্যতম