সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

থাইরয়েডের সমস্যায় কারো ওজন বাড়ে, কারো কমে কেন?

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

প্রজাপতি আকৃতির এই গ্রন্থিটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই একই থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় কেউ অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যান, আবার কেউ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যান।

Share

থাইরয়েড বর্তমান সময়ের একটি অতি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা। আমাদের গলার কাছে থাকা প্রজাপতি আকৃতির এই গ্রন্থিটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই একই থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় কেউ অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যান, আবার কেউ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যান। কেন এমন বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া ঘটে?

থাইরয়েডের সমস্যায় কারও ওজন বাড়ে, কারও কমে! এর কারণ কী
থাইরয়েডের সমস্যায় কারও ওজন বাড়ে, কারও কমে! এর কারণ কী

২০২৬ সালের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে থাইরয়েড এবং ওজনের এই রহস্যময় সম্পর্কের কথা জেনে নিন।

থাইরয়েড ও ওজনের লড়াই: কেন এক রোগে দুই রকম ফল?

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রধানত দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়— T3 এবং T4 । যখন এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই ওজনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকরা একে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করেন:

১. হাইপোথাইরয়েডিজম (ওজন বেড়ে যাওয়া)

যখন থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে।

  • কারণ: হরমোনের অভাবে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার খুব ধীর হয়ে যায়। ফলে শরীর ক্যালরি পোড়াতে পারে না এবং তা ফ্যাট হিসেবে জমা হতে থাকে।
  • লক্ষণ: শরীর ফুলে যাওয়া (Water retention), ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অল্প খাবার খেলেও দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া।

২. হাইপারথাইরয়েডিজম (ওজন কমে যাওয়া)

এটি ঠিক আগেরটির উল্টো। যখন গ্রন্থিটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হরমোন তৈরি করে, তখন তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

  • কারণ: অতিরিক্ত হরমোনের কারণে শরীরের মেটাবলিজম অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়। শরীর জমানো ফ্যাট ও পেশি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
  • লক্ষণ: বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত খিদে পাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং রাতে ঘুম না আসা।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করবেন?

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:

  • আয়োডিন যুক্ত খাবার: হাইপোথাইরয়েড থাকলে আয়োডিন যুক্ত লবন ও সামুদ্রিক মাছ খান। তবে হাইপারথাইরয়েড থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিন নেবেন না।
  • সঠিক শরীরচর্চা: হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে ওজন কমাতে কার্ডিও ব্যায়াম জরুরি। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডের ক্ষেত্রে পেশি গঠন বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং প্রয়োজন।
  • পর্যাপ্ত জল ও প্রোটিন: শরীরে মেটাবলিজম সচল রাখতে প্রচুর জল পান করুন এবং ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন।
  • নিয়মিত চেকআপ: থাইরয়েডের ওষুধ কখনোই নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করবেন না। প্রতি ৩-৬ মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা (TSH test) করিয়ে ওষুধের ডোজ ঠিক করে নিন।

থাইরয়েড ও ওজনের তারতম্য কেবল একটি শারীরিক পরিবর্তন নয়, এটি আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় বিশৃঙ্খলার সংকেত। সঠিক ডায়েট এবং হরমোন থেরাপির মাধ্যমে এই ওজনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com