খোকার পড়ার টেবিলের জগাখিচুড়ি অবস্থা! সব এদিক-ওদিকে ছড়ানো। বই-খাতা কাগজের ভিড়ের মাঝেই একটা নীল রঙের পুরোনো টিনের বাকশো। বাকশোটা খোলার সময় বিচ্ছিরি একটা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হয়। শুনলেই শরীর শিউরে ওঠে! এই বাকশোর ভেতরে ছিল একটা পেন্সিল আর এক টুকরো ময়লাযুক্ত রাবার। সেদিন খোকা যেই না নতুন খাতাটা খুলেছে, পেন্সিলটার তো সে কী ভাব; ও রাবারটাকে তাচ্ছিল্য করে বলে, ‘দেখলি? আজ একদম সাদা পাতায় নাম লিখবো আমি। তোর মতো কালচে জিনিস আজ আর লাগবেই না!’
রাবার বেচারা এক কোণে মুখ গুঁজে থাকলো। কোনো কথা বললো না। সে জানে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে কী হয়।
খোকাবাবু লিখতে শুরু করলো। পেন্সিলটাও খুব নাচানাচি করছিল খাতার ওপর, যেন আজ তারই দিন।
কিন্তু কথায় আছে, বেশি বাড়লে ভেঙে পড়ে!
ঠিক তেমনই একটা বড় ‘অ’ লিখতে গিয়ে ‘কটাস’ করে পেন্সিলের ডগাটা ভেঙে গেলো। আর অমনি খাতার ঠিক মাঝখানে পড়ে গেলো একটা বিচ্ছিরি কালো আঁচড়! খোকা তো রেগেমেগে আগুন; গাল ফুলিয়ে বসে আছে! পেন্সিলটার তখন ভয় আর লজ্জায় মরে যাওয়ার মতো অবস্থা। তারপর খোকাবাবু ওই নোংরা রাবারটা টেনে নিল। রাবার অভিমান দেখালো না। সে এসে ধীরে ধীরে নিজের গা ঘষতে লাগলো কালো দাগটার ওপর। ঘষতে ঘষতে তার শরীর থেকে ছোট ছোট কুচি ঝরে পড়ছে। সে যেন নিজেকে শেষ করে দিয়ে পেন্সিলের করা ভুলটা সাফ করে দিল।
একসময় দেখা গেলো খাতাটা আবার আগের মতো ধবধবে পরিষ্কার। দিন শেষে যখন নীল বাক্সটা বন্ধ করার সময় হলো, পেন্সিলটা আর দূরে থাকলো না। নিজ থেকেই গুটিসুটি মেরে রাবারটার গা ঘেঁষে শুলো। নীল বাকশোর ভেতরে তখন কোনো ঝগড়া নেই, কোনো বড়াই নেই। অন্ধকারে দুটো পুরোনো বন্ধু চুপচাপ শুয়ে আছে!