একসময় বাদুড় ছিল বেশ দাপুটে প্রাণী। নিজেকে নিয়ে অনেক অহঙ্কারও ছিল তার। একদিন সে উড়ে উড়ে এক জঙ্গলে চলে এলো। বাহ, দারুণ জায়গা তো। সেই বনটা খুবই পছন্দ হলো বাদুড়ের। নতুন এবং চমৎকার একটা পরিবেশে মনটা তার খুবই খুশি। আপনমনে জোরে জোরে বলছে সে, ‘কী সুন্দর জায়গা। আহ, সব আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। এই বন হবে শুধুই আমার। এখানকার সব জীবজন্তুকে আমি মেরে ফেলবো। তারপর গোটা বনটাই হবে আমার একার। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না তখন।’
এই কথা শুনে ফেলল সজারু। শুনে খুব ভয় পেয়ে গেলো। এক ছুটে চলে গেলো হাতির কাছে। খবরটা জানালো হাতিকে। শুনে হাতিও চিন্তিত। ভয় পেল বেশ। দুজনে সোজা চলে গেলো সিংহের গুহায়। তাকে পুরো বিষয়টি জানানো হলো। শুনে সিংহের কপাল কুঁচকে যায়। আঁতকে উঠে ভাবে, সর্বনাশ। এই দৈত্যকে উচিত শিক্ষা দিতে হয়। না হয় বনের আরাম-শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে চিরদিনের মতো। কিছু একটা করতে হয়। যা করতে হবে, খুব তাড়াতাড়ি। দেরি করলে বিপদ বাড়বে।
পরের দিন সব জীবজন্তু সভায় বসলো। সবাই খুবই উদ্বিগ্ন। বিরাট সমস্যা। ভিনদেশি দুষ্টু বাদুড়টাকে কীভাবে ঠেকানো যায়, তার একটা বিহিত করা লাগে। শেয়াল একটা বুদ্ধি দেয়। বলে, ‘ওই দস্যিটার চোখ জোড়া ফুটো করে দিতে হবে। যেন সে ভালোমতো দেখতে না পায়। এক কাজ করো দেখি। ভোজের একটা আয়োজন করো। ওই পাজি বাদুড়কে সেখানে দাওয়াত দাও; যা করবার সজারু করবে। ওর গায়ে ধারালো কাঁটা আছে। সেটাই অস্ত্র। কী সজারু, এই কাজটা করতে পারবে না তুমি?’
সজারু মাথা নাড়ে। পারবে সে। পারতেই হবে।
তাই করা হলো। মজার মজার খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। অতিথি হিসেবে সেখানে এসেছে বাদুড়। যখন সে খানাপিনায় ব্যস্ত, হঠাৎই সজারু হামলা করলো তার ওপর। দুই চোখে ধারালো কাঁটা বিঁধিয়ে দিল। বাদুড় পড়িমরি করে ছুটে গেলো। পালিয়ে বাঁচলো। এর মধ্যে তার চোখের বেশ ভালো রকমের ক্ষতি হয়ে গেছে।
পুরো অন্ধ সে হয়নি। কবিরাজ লতাপাতা বেটে ওষুধ দিল। ওষুধ কিছুটা কাজ করেছে। বাদুড় এখন আর আগের মতো
স্পষ্ট দেখতে পায় না। সহ্য করতে পারে না দিনের আলো। রাতের অন্ধকারে আবছা আবছা দেখতে পায়।
ওই ঘটনার পর থেকে দিনের বেলায় বাদুড় আর বের হয় না।
অস্বস্তি হয় যে, সে কারণে।
বনের জীবজন্তুরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে।