বাংলাদেশের পাটশিল্পের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা বললেই স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে ফরিদপুরের নাম। যুগের পর যুগ ধরে সেরা মানের পাট উৎপাদনের সুবাদে এই জেলা পরিচিত হয়েছে ‘সোনালি আঁশের রাজধানী’ হিসেবে। নদ-নদীঘেরা উর্বর অববাহিকা, দোআঁশ মাটি, অভিজ্ঞ কৃষক ও প্রজন্মজুড়ে গড়ে ওঠা কৃষি সংস্কৃতি ফরিদপুরকে গড়ে তুলেছে দেশের অন্যতম শক্তিশালী পাট উৎপাদন অঞ্চলে। সম্প্রতি ফরিদপুরের পাট ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন মর্যাদা ও পরিচয়ে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত।
বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যখন ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাটগাছ দোলে, তখন সেটি এখানে শুধু কৃষিকর্ম নয়—এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারার অংশ। জমি তৈরি থেকে বীজ বপন, আগাছা পরিষ্কার, কাটাই, রেটিং, আঁশ ছাড়ানো—সব মিলিয়ে একটি প্রজন্মান্তরের শ্রম ও দক্ষতার ফসলই হচ্ছে বিশ্বখ্যাত ফরিদপুরের পাট।
পদ্মা, গড়াই, কুমার, বারাশিয়া নদীর পানিপ্রবাহ এই অঞ্চলের মাটিকে দিয়েছে অনন্য গুণ। দোআঁশ মাটি পাটগাছকে করে তোলে লম্বা, আর এর আঁশ হয় উজ্জ্বল, শক্ত ও টেকসই।
ব্রিটিশ আমল থেকেই নওপাড়া, কামারখালী, বোয়ালমারী ঘাট হয়ে নৌকায় ভরে পাট যেত কলকাতার বিখ্যাত জুট মিলগুলোতে। তখনই ‘ফরিদপুর পাট’ বাজারে ছিল আলাদা একটি ব্র্যান্ড। আজও সেই ঐতিহ্য বহন করছেন এখানকার কৃষকরা।
উৎপাদনে দেশের শীর্ষে ফরিদপুর : বাংলাদেশে মোট পাট উৎপাদনের বড় অংশই আসে ফরিদপুর থেকে।
চ্যালেঞ্জ : খরচ বাড়ছে, শ্রমিক সংকট, প্রযুক্তির অভাব। যদিও পাট চাষ লাভজনক, তবে কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। উন্নত জাতের বীজের সংকট, রেটিংয়ের জন্য উপযুক্ত জলাশয়ের অভাব, শ্রমিক সংকট, সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি।