চট্টগ্রামে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ‘লুমিনাল-এ’ উপপ্রকারের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি—হার প্রায় ৩০ শতাংশ। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ নারীদের মধ্যে এ ধরনের হরমোন–নির্ভর ক্যান্সারের হার বাড়ায় স্ক্রিনিং ও সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৮ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ৫০ জন হিস্টোপ্যাথোলজিক্যালি নিশ্চিত রোগীর টিস্যু নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এর অর্ধেক রোগীরই বয়স ৫০ বছরের নিচে, যা বিশেষজ্ঞদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু চট্টগ্রামের এই গবেষণা জানাচ্ছে ভিন্ন বাস্তবতা—তরুণ ও মধ্যবয়সী নারীদের মধ্যেও ক্যান্সারের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. শেফাতুজ্জামান বলেন, নমুনা বিশ্লেষণে লুমিনাল-এ টাইপ পাওয়া গেছে ৩০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে। এ ছাড়া ২৮ শতাংশ রোগীর লুমিনাল-বি, ২২ শতাংশ ট্রিপল নেগেটিভ (টিএনবিসি) এবং ২০ শতাংশ রোগীর এইচইআর-২ টাইপ শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় পি-৫৩ জিন বিশ্লেষণে দেখা গেছে ৪২ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রয়েছে মিউট্যান্ট স্ট্যাটাস, বাকিরা ওয়াইল্ড টাইপ।
চিকিৎসকদের ভাষায়, ‘লুমিনাল’ হলো হরমোন–নির্ভর স্তন ক্যান্সারের একটি ধরন, যেখানে ক্যান্সার কোষে ইস্ট্রোজেন বা প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টর থাকে। হরমোনের প্রভাবে এই ক্যান্সার ধীরে বাড়লেও অগ্রাহ্য করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের ক্যান্সার সময়মতো শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো সাড়া পাওয়া যায়, যা রোগীদের জন্য ইতিবাচক খবর।
গবেষকরা মনে করেন, পরীক্ষাটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সব রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি; ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তাদের মতে, নারীদের বয়সভিত্তিক ঝুঁকি, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও ক্যান্সারের ধরন নিয়ে এ গবেষণা ভবিষ্যতে কার্যকর স্ক্রিনিং নীতি গ্রহণ, চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চিকিৎসকরা তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ব-পরীক্ষা, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন। সময়মতো শনাক্তকরণই হতে পারে প্রাণঘাতী এই রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।