যে কোনো বয়সী নারীর নানা কারণে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে। অনেক নারীই লজ্জার কারণে সমস্যাটি লুকিয়ে রাখেন। ফলে রোগ আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছে জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণ
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে:
গর্ভধারণ: ঋতুস্রাব বন্ধ হলে প্রথমে গর্ভধারণ পরীক্ষা প্রেগন্যান্সি টেস্ট জরুরি। নির্ধারিত সময়ের পরও রক্তক্ষরণ না থামলে গর্ভপাতের আশঙ্কা বা একটোপিক (জরায়ুর বাইরে) গর্ভধারণের আশঙ্কা থাকে।
হরমোনাল পদ্ধতি: গর্ভনিরোধক বড়ি বা সন্তান জন্মদানের পর ইনজেকশন গ্রহণের ফলে অনিয়মিত মাসিক হতে পারে।
শারীরিক ওজন
অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি থাইরয়েড ও পলিসিস্টিক ওভারিয়ান রোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
শারীরিক ওজন কমে যাওয়া ক্যান্সার বা টিউবারকোলোসিস রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ওজনের তারতম্য হরমোনজনিত রোগের জন্ম দেয়।
মানসিক চাপ: আবেগজনিত মানসিক চাপের ফলেও অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।
সংক্রমণ: প্রস্রাবের রাস্তা বা জননাঙ্গে
যক্ষ্মা, গনোরিয়া, সিফিলিস, এইডস, ডায়াবেটিস ইত্যাদির কারণেও অনিয়মিত মাসিক হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণ
এক মাসে দু-তিনবার ঋতুস্রাব হওয়া।
ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার এক-দুদিন পরই শেষ হয়ে যাওয়া এবং কয়েক দিন পর আবার শুরু হওয়া।
একনাগাড়ে অনেক দিন ধরে চলতে থাকা।
স্বল্পকালীন মাসিক দেখা যাওয়া এবং পরে মাসিক শুরু হলে তা প্রায় দু-তিন মাস পর্যন্ত চলতে থাকা।
রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেওয়া।
ক্ষুধামান্দ্য, শরীর দুর্বল বোধ হওয়া এবং মেজাজ খিটখিটে ও অস্বস্তি বোধ হওয়া।
সম্ভাব্য জটিলতা
সময়মতো চিকিৎসা না করালে নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
বন্ধ্যত্ব: সন্তানধারণে অক্ষমতা।
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা গর্ভপাত।
ক্যান্সার ও টিউমার: টিউমার ও ক্যান্সারজনিত কারণে অনিয়মিত মাসিক হলে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মৃত্যুঝুঁকির কারণ হতে পারে।
অনিয়মিত ঋতুস্রাব বন্ধে করণীয়
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি: বিবাহিতরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়মিত গ্রহণ করলে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরও তা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, এ সময় গর্ভধারণের ঝুঁকি থেকে যায়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: শারীরিক ও মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
আশ্বস্ত করা: নিকট পরিজনের সান্নিধ্যে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করতে হবে।
হালকা ব্যায়াম করা।
লেখক : গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ।