সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শিশুর কোমল ত্বক…

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

শীতের আগমন মানেই শিশুর কোমল ত্বকে নানা পরিবর্তনের সূচনা। বড়দের তুলনায় শিশুর ত্বক পাঁচগুণ বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় তাপমাত্রা একটু কমে গেলেই তাদের ত্বকে শুষ্ক ভাব, খসখসে দাগ, লালচে ভাব–এমনকি চুলকানিও দেখা দিতে পারে। শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় শিশুর ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। তাই শিশু বিশেষজ্ঞরা এ সময়টিকে স্কিনকেয়ারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। শুষ্কতা থেকে শিশুর ত্বকের সুরক্ষায় এ মৌসুমের শুরুতেই রুটিনে আনতে হবে বদল।
প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো সঠিক ময়েশ্চারাইজার বাছাইকরণ। বাজারে অনেক বেবি প্রোডাক্ট নামে পণ্য থাকলেও এগুলো সব নিরাপদ নয়। এ প্রসঙ্গে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাহিদ হোসেন পরামর্শ দেন, ‘প্যারাবেন, অ্যালকোহল, কৃত্রিম সুগন্ধি বা রংযুক্ত পণ্য শিশুর ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব উপাদান শিশুর ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিড ব্যারিয়ার নষ্ট করে ত্বককে আরও শুষ্ক করে ফেলে। তাই হাইপো-অ্যালার্জেনিক,  সুগন্ধহীন ক্রিম এবং যে কোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পণ্য ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।’ শিশুকে গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। তাহলে তা দ্রুত শোষিত হবে এবং আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এ সময় দিনে অন্তত দুবার শিশুর ত্বক ময়েশ্চারাইজ করা উচিত। শীতে নতুন কোনো স্কিন প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। যেসব শিশু অ্যাজমা বা একজিমায় ভোগে তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন।
শিশুকে গোসল করানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। অনেক মা-বাবা মনে করেন শীতে গরম পানি বেশি ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি শিশুর ত্বক আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। এ জন্য হালকা গরম পানি ব্যবহার করা উচিত এবং ৫-৭ মিনিটের বেশি গোসল না করানোই ভালো। সাবানের ক্ষেত্রেও মাইল্ড, সুগন্ধিবিহীন ও পিএইচ ব্যালান্সড সাবান ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে দুই-তিন দিন সাবান ব্যবহারই যথেষ্ট; প্রতিদিন সাবান ব্যবহার করলে শিশুর ত্বক প্রাকৃতিক ময়েশ্চার হারিয়ে ফেলে। অনেকেই গোসলের পরে শিশুর শরীরে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করেন– এটি ঠিক নয়। এর ফলে শিশুর ত্বকে ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে র‍্যাশ বের হতে পারে। তাই প্রয়োজনে গোসলের আগে নারকেল তেল বা সরিষার তেল হালকা গরম করে মালিশ করে নিতে পারেন।
এ সময় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নিয়ম। শীতের শুরুতেই অনেকে শিশুকে ভারী সোয়েটার পরিয়ে দেন, যা শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম করে ফেলে। যার ফলে ঘাম জমে র‍্যাশ দেখা দেয়। তাই শীতে নরম ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন সুতি পোশাকই সবচেয়ে উপযোগী। বাইরে বের হলে স্তরযুক্ত হালকা পোশাক পরানো যেতে পারে; যাতে শিশুর আরাম অনুযায়ী একটি স্তর খুলে নেওয়া যায়। টুপি বা মোজা পরানো যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে; যেন শিশুর মাথা ও পা অতিরিক্ত গরম না হয়ে যায়। ডায়াপার ও বেবি ওয়াইপস ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে; যেন এগুলো নরম আর হাইড্রেটিং হয়।
শিশুর মুখ, ঠোঁট ও গাল শীতের শুরুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠোঁট ফেটে যাওয়া আটকাতে শিশুর জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর গালে রুক্ষতা দেখা দিলে অল্প করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা বেবি অয়েন্টমেন্ট লাগালে উপকার পাওয়া যায়। বাইরে গেলে সানস্ক্রিনের কথা অনেকে ভুলে যান। কিন্তু শীতের সূর্যালোকেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে । তাই ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুর বেবি-সেফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন।
শিশুর ত্বক ঠিক রাখতে শুধু বাইরের যত্নই যথেষ্ট নয়। খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবও শিশুর ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। শীতে শিশুর খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এ জন্য ঘন ঘন শিশুকে পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানো উচিত। ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুকে যথাযথ পানি, দুধ, স্যুপ বা ফলের রস দেওয়া হলে তা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com