চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের সন্নিকটে প্রধান সড়কের পাশেই চোখে পড়ে এক ভিন্নধর্মী সবজি নার্সারি। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, টমেটোসহ শীতকালীন নানা সবজির চারা সারি সারি সাজানো। তবে বিশেষত্ব হলো এখানে মাটির ব্যবহার নেই। প্লাস্টিকের ট্রে আর ছোট গ্লাসে কচুরিপানা ও নারিকেলের ছোবড়া (কোকোপিট) দিয়ে উৎপাদিত হচ্ছে চারা।
এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন ভাই-বোন ডা. সুজন তারা ও ইমরান হোসেন। তারা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বকসিপুর গ্রামের বাসিন্দা। আলমডাঙ্গা শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাস টার্মিনালসংলগ্ন ২০ শতক জমি বর্গা নিয়ে গড়ে তুলেছেন ‘ফারমার্স হাব গ্রিন হাউস’ নামে একটি নার্সারি।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় শুরু হয় তাদের এই উদ্যোগ। লক্ষ্য, মাটি ছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হওয়া।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজপড়ুয়া ইমরান হোসেন ও কয়েকজন কৃষিশ্রমিক ব্যস্ত সময় পার করছেন পলি হাউসে। প্লাস্টিকের ট্রেতে বীজ বপনের কাজ চলছে। মাটির বদলে জীবাণুমুক্ত কোকোপিট ব্যবহার হচ্ছে। ওপরে শেডনেট টানানো, তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। প্রায় ১০ শতক জায়গাজুড়ে ৪০টি বেডে সাজানো রয়েছে ট্রে ও প্লাস্টিকের গ্লাস। দুই থেকে চার পাতার টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টিকুমড়ার চারা উঁকি দিচ্ছে। বর্তমানে নার্সারিতে রয়েছে প্রায় এক লাখ চারা। প্রতিটি চারার দাম দেড় টাকা থেকে তিন টাকা পর্যন্ত।
উদ্যোক্তা ইমরান জানান, ইউটিউব দেখে এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বোনের সঙ্গে আলাপ করে বাস্তবায়নে নামেন। প্রথমে কিছু কৃষি প্রশিক্ষণ নেন। পরে জানতে পারেন, একই জমিতে বারবার চারা উৎপাদনে রোগ ছড়ায়। কিন্তু ট্রে পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সুস্থ চারা উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, নার্সারি স্থাপনে প্রথমে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এখন প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার চারা বিক্রি করেন, মাসে লাভ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সুজন তারা জানান, নারিকেলের ছোবড়া, গোবর, কচুরিপানা ও অল্প রাসায়নিক সার মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পচিয়ে কোকোপিট মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এরপর সেখানে বীজ বপন করা হয়। তিন দিনের মধ্যে বীজ থেকে অঙ্কুর গজায়, ১৫ দিনের মধ্যেই চারা বিক্রির উপযোগী হয়।
আলাপে তারা জানান, ক্রেতারা নার্সারিতে এসে খুচরা ও পাইকারি দুইভাবেই চারা কেনেন। অনেকেই ভার্মি কম্পোস্ট সার ও কোকোপিটও কিনে নেন ২০ টাকা কেজি দরে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পলাশ বলেন, এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে হলেও মাটি ছাড়া চারা উৎপাদনের এই পদ্ধতি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কোকোপিটের মিশ্রণে ট্রে পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা মাটিবাহিত রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকে। কৃষকদের এই পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।