সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নারীমুক্তির সংগ্রাম ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে আন্তর্জাতিক দিবস এবং পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) সামনে রেখে আমি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই– নারী পশ্চাৎপদ। বরং মূল বিষয় হলো, নিপীড়নমূলক সমাজ টিকিয়ে রাখার জন্য নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এই পিছিয়ে রাখার কাজটি চলমান রেখেছে। এর মূলে রয়েছে পুরুষ আধিপত্যের মতাদর্শ, যা সমাজের সর্বস্তরে শুধু বিদ্যমানই নয়, বরং অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর। সমাজের অধিকাংশ মানুষ মনে করে, নারীদের সামনে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার কী দরকার? সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের এত ভূমিকা রাখার প্রয়োজন কী? নারীদের ছাড়াই তো দিব্যি দেশ চলছে এবং নারীদের একটা বড় অংশও পুরুষ আধিপত্য ও নারীর অধস্তনতাকে ধারণ, রক্ষা ও লালন করে। সমাজে বিদ্যমান এমন মানসিকতা ও মনস্তত্ত্বই নারীর অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

কর্মঘণ্টা নিয়ে ‘মহৎ’ বক্তব্য 
সম্প্রতি আমরা দেখলাম, জামায়াতে ইসলামীর আমির ঘোষণা করলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে নারীর ওপর বর্তানো ‘কাজের বোঝা লাঘব’ করার জন্য চাকরি বা কর্মক্ষেত্রে দৈনিক পাঁচ কর্মঘণ্টা বেঁধে দেওয়া হবে। একদিকে উপার্জনের প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে সন্তান-সংসার সামলানোর দায়িত্ব– এই দুয়ের মাঝের জাঁতাকলে নারীর বিশ্রাম বা নিজের জন্য সময় বলে কিছুই থাকে না। বাস্তবতা হলো, খুব কম পুরুষই গৃহস্থালি কাজ বা সন্তান লালনপালনে অংশ নেন। নারীকে বাইরে কাজ করে এসেও সংসারের সব কাজ একা সামলাতে হয় বা সচ্ছল পরিবারের ক্ষেত্রে গৃহকর্মীর সহায়তায় দায়িত্ব পালন করতে হয়ে। সংসার, সন্তান, শ্বশুরবাড়ি– সবকিছুর দায়িত্ব সাধারণত নারীর ওপরেই বর্তায়। সেদিক থেকে জামায়াতের আমিরের নারীর বোঝা কমানোর ইচ্ছাকে ‘মহৎ’ আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। তথাপি প্রশ্ন জাগে, এই প্রস্তাবের আসল উদ্দেশ্য কি নারীর ওপর সংসারের দায়িত্ব আরও পাকাপোক্তভাবে চাপানো? নারীকে ঘরের বাইরের কর্মজগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করা?

কর্মঘণ্টা নারীর একার না কমিয়ে নারী-পুরুষ উভয়ের কমালে দুজনে মিলে আরও সহজে ঘরে-বাইরের কাজ করতে পারতেন। এই একতরফা ঘোষণায় মনে হচ্ছে, গৃহের অভ্যন্তরের কাজের দায়িত্ব চিরতরে নারীর এবং ঘরের বাইরে বিচরণের অধিকার চিরতরে পুরুষের। এ যেন এক চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। কিন্তু এই মানসিকতার বেড়াজাল ভেঙে লাখ লাখ নারী গৃহের বাইরের জগতে প্রবেশ করে কর্মরত বহুকাল– শ্রমজীবী, পেশাজীবী, চাকরীজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পী, খেলোয়াড় হয়ে; আরও অনেক ভূমিকায়।

এসব প্রতিবন্ধকতা না থাকলে নারীরা আজ নিজেদের আরও অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। হাজার বাধা সত্ত্বেও অনেকে পেরেছেন, তবে সবার পক্ষে তা সম্ভব হয় না। যারা সফল হয়েছেন, তাদের অনেকের এই প্রচেষ্টার পেছনে ছিল পরিবার, বিশেষত মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও সমর্থন, যা তাদের লড়াইকে সহজ করেছে। নারী-পুরুষের যুগল সংসারের বাইরে, একক নারী বা সন্তান নেয়নি যে নারী, তাদের জন্যও কি এই পাঁচ ঘণ্টার বিধান প্রযোজ্য হবে?

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়ার ফলে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ও মৌলিক সংস্কারের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর ১০ সদস্যবিশিষ্ট ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন’ গঠিত হয়। আমরা কমিশনের সদস্যরা মনে করেছি, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর এবং নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা অর্জনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ চিহ্নিত করে সুপারিশ প্রণয়নের এটাই সুযোগ।

আমি বিশ্বাস করি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে বিরাজমান বৈষম্য চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী লড়াকু নারী-পুরুষ এবং শহীদ, আহত, অঙ্গহানি হওয়া সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের অন্যতম মাধ্যম। কমিশন তার সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে কেবল প্রচলিত আইন ও বিধিমালা বিশ্লেষণ করেনি; বরং গবেষণামূলক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ সভার মাধ্যমে সুচিন্তিত প্রস্তাব সংকলিত করে।

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা তিনটি মেয়াদে ভাগ করা হয়: ১. কিছু সুপারিশ, যা অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করতে পারে; ২. কিছু সুপারিশ পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়ন করবে এবং ৩. কিছু সুপারিশ, যা নারী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন। কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষণস্থায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বাইরেও নারী-পুরুষের সমতার পক্ষে একটি টেকসই রাজনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

আমরা এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রকৃত সমতা থাকবে। সেই সমাজে নারীরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে তাদের অবদানের সঠিক মূল্যায়ন হবে। আমাদের ধারণা ছিল, কমিশনের বিস্তারিত প্রতিবেদন জনমানসে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হবে; তাতে নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা বিষয়ের সঙ্গে জনগণের পরিচিতি ঘটবে এবং তা নারী অধিকার সমুন্নত রাখার বিষয়টি জাতীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সহায়ক হবে। আমাদের ৪২৩টির মধ্যে তিনটি সুপারিশ নিয়ে একটি বিশেষ মহল সমালোচনার ঝড় তুলল এবং নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন ও কমিশনের প্রতিবেদন বাতিলের দাবি করল।

বৈষম্যের মূলের বাস্তবতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নারী উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন আইনগত, নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সত্তরের দশক থেকেই আমাদের পূর্বসূরিরা নারীর অধিকার ও সমতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, যা আজকের আন্দোলনের ভিত্তি।
নারী সমাজের অধস্তন অবস্থানের মূলে রয়েছে সংবিধান ও আইনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। নারী অধিকার আন্দোলনের বর্তমান প্রধান লড়াই এখন আর কেবল সহিংসতা রোধ বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি সরাসরি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে পরিণত হয়েছে, যা সমাজ ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের অধীনে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতার কথা বলা হলেও সংবিধানের অন্যত্র এখনও বৈষম্যমূলক বিধান রয়েছে। বিয়ে, বিয়ে বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন অনুসরণ বাধ্যতামূলক হওয়ায় নারীরা বৈষম্যের শিকার হন। ধর্মীয় আইনের নামে নারীর ব্যক্তিগত অধিকারকে সংবিধানের সুরক্ষা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এ বৈষম্য কেবল সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নয়, রাষ্ট্রীয় এবং আইনি কাঠামো ও চর্চায়ও অনুবিদ্ধ।

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করলেও চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার ওপর সংরক্ষণ করে। ধারা ২ আইন, রাষ্ট্রীয় সকল নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তন করতে রাষ্ট্রকে অঙ্গীকারবদ্ধ করে। যে কারণে ধারা ২-কে এই সনদের মূলনীতি বলে গ্রাহ্য করা হয়। পরে সরকার দুটি সংরক্ষণ তুলে নেয়, তবে ধারা ২ এবং ১৬.১(গ) বিয়ে ও বিয়ে বিচ্ছেদে সমান অধিকারের ওপর সংরক্ষণ বহাল রাখায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এই সংরক্ষণ দুটি প্রত্যাহার নারী অধিকার আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি।

আইনগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত আইন বাস্তবায়নেও গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আদালতের অপর্যাপ্ত সংখ্যা, মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং নারীবান্ধব অবকাঠামোর অভাবে নারীরা ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। অর্থাৎ কেবল আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়; বরং এর প্রয়োগে সহায়ক বিচারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনৈতিক অনিচ্ছা
রাজনৈতিক ক্রান্তিকালের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়া থেকে নারী অধিকারকর্মীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা হয়। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আমি জুলাই জাতীয় সনদের প্রক্রিয়াকে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছি। এটি ছিল একটি ‘নারী-বিবর্জিত প্রক্রিয়া’, যা নারী ও
রাষ্ট্র এবং সমাজ সংস্কারের প্রশ্নকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।

জুলাই সনদ ঘোষণার দিন আমি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করি, ‘আজ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আবার পুরুষ শাসন কায়েম করা হলো।’ নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন চার মাস ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে ও সংবিধান সংস্কার কমিশন ব্যতিরেকে সব সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বসে প্রস্তাবগুলো তৈরি করে। দুঃখজনকভাবে সংবিধান কমিশন আমাদের সঙ্গে বসতে বা আলোচনা করতে অপারগতা জানায়। আমি এটিকে এক প্রকার ‘অসম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেছি, যা এই ধারণাকে প্রতিফলিত করে– সংবিধান বিষয়ে নারীদের বলার কিছু নেই। ‘ঐকমত্য কমিশন’ও নারীবিবর্জিত এবং জুলাই সনদে আমাদের কোনো সুপারিশের উল্লেখ নেই। ঐকমত্য কমিশন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোকে বৈধ অংশীজন বিবেচিত করেছে; নারী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ইত্যাদিকে উপযুক্ত অংশগ্রহণকারী বলে বিবেচনা করেনি।
এই উপেক্ষা ইঙ্গিত করে গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার নারীর বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ পুরুষদের আধিপত্যকে সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দিতে পারলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো দ্রুততার সঙ্গে নারীদের পাশ কাটিয়ে তাদের স্বর ও অস্তিত্বকে অদৃশ্য করতে সক্ষম। মৌলিক পরিবর্তন মানে কেবল ব্যক্তি বা সরকারের চেহারার পরিবর্তন নয়; মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া দীর্ঘ সময়ের নিপীড়ন, বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান। সে জন্য অনেকে জুলাই বিপ্লবের কথা বললেও আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথাই বলি।

রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের ‘বয়েজ ক্লাব’ হিসেবে পরিচালনা করার কথা ভাবে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে, যা সংস্কারের প্রতি তাদের অনীহার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা আন্দোলনে নারীদের সাহসী ভূমিকা দেখেছি। কিন্তু তাদের এত দ্রুত মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে– কল্পনা করিনি। নারী নেতৃত্ব এখন শক্তিশালী হলেও রাজনীতিতে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতাশাজনক। নারীকে সুযোগের দরজা খুলে না দিলে সমাজ ও রাজনীতিতে নারীর অগ্রগতি দেখা যাবে না।

ভবিষ্যতের পথরেখা
আমরা দেখেছি জুলাই ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের বাঁকবদল হয়েছিল মেয়েদের সাহসী অংশগ্রহণের মাধ্যমে। রোকেয়া হল থেকে মেয়েরাই প্রথম মধ্যরাতে হলের ফটক ভেঙে বেরিয়ে এসেছিল। মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তাদের স্লোগান গণজোয়ারের জন্ম দিয়েছিল। নারী যখন কোনো আন্দোলনে শক্তিশালীভাবে অংশগ্রহণ করে, তখন সে আন্দোলন জনগণের মধ্যে অসামান্য গতিসঞ্চার করে। এক পর্যায়ে গণআন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমরা এতদিন আন্দোলন করেও খুব বেশি এগোতে পারিনি। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১০০ বছর আগে যেসব কথা বলে গেছেন; ১০০ বছর পরেও আমরা সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। নারীরা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ, প্রায় ৫১ শতাংশ। অর্ধেকেরও বেশি মানুষের অধিকার নিশ্চিত
না করে গণতান্ত্রিক অগ্রসরতা কার্যকর হতে পারে না।

আমার আহ্বান অত্যন্ত স্পষ্ট। নারী অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চলমান এবং এটিকে আরও প্রভাবশালী ও শক্তিধর করতে নারী আন্দোলনকারীদের অবশ্যই সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রভাবিত করার জন্য দৃঢ় উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এই সুযোগ হাতছাড়া হলে আমরা পুরোনো কাঠামোতেই আটকে থাকব। নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনের পথটি দীর্ঘ ও দুর্গম। মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সঙ্গে সমাজে নারীর অবস্থান ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক রূপরেখার জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।

শিরীন পারভিন হক: মানবাধিকারকর্মী; নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com