সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ড্রাগন চাষে ২৩ বছর বয়সেই লাখপতি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

রামগড়ের কমপাড়া গ্রামের ২৩ বছরের তরুণ নাহিদ হোসেন এখন সাফল্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বয়স কম হলেও তাঁর স্বপ্ন বড়। গ্রামের মাটিতে নিজের হাতে কিছু গড়ে তোলার স্বপ্ন থেকেই মাত্র অর্ধ একর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন তিনি। আজ সেই নাহিদই বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করেন।

তাঁর বাগানের ফলন দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আগ্রহী কৃষক ও দর্শনার্থীরা। 

রামগড় সরকারি কলেজের বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাহিদ নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি সময় দেন নিজের ড্রাগন ফলের বাগানে। সাত-আট ফুট উচ্চতার সিমেন্ট পিলারের পাশে সাজানো সারি সারি ড্রাগন গাছ। প্রতিটি পিলারের মাথায় লোহার রড আর পুরনো গাড়ির টায়ার দিয়ে তৈরি মজবুত কাঠামো।

দেখে বিশ্বাসই হয় না এ বাগান গড়ে তুলেছেন একজন তরুণ শিক্ষার্থী। 

সম্প্রতি তাঁর বাগানে গেলে দেখা যায়, লাল রঙের পাকা ড্রাগনে ভরে গেছে চারদিক। নাহিদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। এখানে কেউ আসে ফল দেখতে, কেউ আসে চারা নিতে, কেউবা নিজের বাগানের পরিকল্পনা জানতে চায় তাঁর কাছে।

 

নাহিদ বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বাবা রামগড় হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় ৩০টি পিলার আর ৯০টি চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন। আমি নিয়মিত পরিচর্যা করি। দুই বছরের মাথায় ফলন দেখে আমরা সবাই অবাক।’

এখন নাহিদের বাগানে আছে ৩৫০টি পিলার এবং দেড় হাজার ড্রাগনগাছ। প্রতিটি পিলারে চারটি গাছ।

বছরে এক পিলার থেকেই ওঠে ৩০-৪০ কেজি ফল। প্রতি কেজি ড্রাগন ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় আয়ও চোখে পড়ার মতো। 

রামগড় হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা ভূষণ মহাজন বলেন, ‘নাহিদের বাগান এখন অনুপ্রেরণা। অনেক শিক্ষার্থী ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আমরা নিয়মিত তাকে পরামর্শ দিচ্ছি।’

হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চিংহ্লাপ্রু চৌধুরী বলেন, ‘রামগড়ের জলবায়ু ড্রাগন চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। বাউ-১ ও বাউ-২ জাতের ড্রাগনে টানা ছয়-সাত মাস ফলন পাওয়া যায়। চাহিদা ভালো, লাভও দ্রুত আসে।’

ড্রাগন শুধু লাভজনকই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। দৃষ্টি ভালো রাখা, কোলেস্টেরল কমানো, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ নানা উপকারে এই ফল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দিন দিন।

নাহিদের গল্প আজ রামগড়ের তরুণদের নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি কৃষিতেও আছে সাফল্যের বিশাল ক্ষেত্র। আর সঠিক নির্দেশনা পেলে গ্রামের প্রতিটি তরুণ হতে পারে লাখোপতি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com