ত্বকের সাধারণ এক সমস্যা একজিমা। এটি অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস (Atopic Dermatitis) নামেও পরিচিত। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাটির প্রভাবে ত্বক লালচে হয়ে যায়, চুলকানি অনুভূত হয়, ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং ত্বক শুকিয়ে ফোসকা সৃষ্টি হয়ে থাকে। জীবাণু বা ছত্রাক সংক্রমণ নয়, বরং ত্বকের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতার অতি সংবেদনশীলতা থেকে দেখা দেয় এটি।
ত্বকে জ্বালাপোড়া অনুভূতি সৃষ্টিকারী পদার্থ (Irritant) ও অ্যালার্জি তৈরি করা অ্যালার্জেনের প্রতি ত্বক হয়ে ওঠে অতিরিক্ত সংবেদনশীল, দেখা দেয় একজিমা। ত্বকের অতি সংবেদনশীলতা কমিয়ে একজিমা নিয়ন্ত্রণে ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট ও অন্যান্য ওষুধের পাশাপাশি একজিমা কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই।
একজিমা ও খাবারের সম্পর্ক
একজিমায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ রোগীর রয়েছে বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি। অ্যালার্জি না থাকলেও বেশির ভাগ রোগী জানান, কিছু নির্দিষ্ট খাবার খেলে একজিমার উপসর্গ বেড়ে যায়।
বেশির ভাগ সময়ে দুগ্ধজাত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করলেই একজিমা বাড়ে। কেননা এসব খাবার দেহে প্রদাহ (Inflammation) বাড়ায়, যার প্রভাবে একজিমার প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া বা সম্ভব হলে একেবারে বাদ দেওয়া উচিত।
যা খাওয়া উচিত
দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানো ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে যেসব খাবার, সেগুলোই খাওয়া উচিত।
► প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিন, প্রাকৃতিক খাবার খান। বিভিন্ন রঙিন ফল, সবজি, বাদাম, শস্য ও ডাল রাখুন প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়। এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
► ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড গ্রহণ করুন।
এটি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে; যেমন—স্যামন, টুনা ও সার্ডিন। উদ্ভিজ্জ উৎসর মধ্যে রয়েছে আখরোট, তিসিবীজ, সয়াবিন ইত্যাদি।
► লাল মাংস কম খান। অতিরিক্ত পরিমানে লাল মাংস খাওয়ার সঙ্গে একজিমার পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই প্রতি সপ্তাহে সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
আল রাজি হাসপাতাল লিমিটেড