দেশে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হলো। একটি দীর্ঘ স্বৈরশাসনেরও অবসান হলো। অথচ বৈষম্য নিয়ে আর খুব বেশি আলোচনা এগোলো না। আবার ঘুরেফিরে সবাই সিঙ্গাপুর হতে চাইলো। ইউরোপ হতে চাইলো। সবাই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ব্যাপারটা বুঝলো। কিন্তু সিঙ্গাপুর হওয়ার অবাস্তব খায়েশ থেকে কেউ বেরুতে পারল না।
আসলেও কি সিঙ্গাপুর হওয়া যায়? ইউরোপ হওয়া যায়? বা বাংলাদেশের মতো একটি দেশের সিঙ্গাপুর বা ইউরোপ হয়ে উঠতে পারার সম্ভবনা কতটুকু বাস্তব? এই দেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত অবস্থান, এই দেশের জনসংখ্যার অস্বাভাবিক ঘনত্ব, এই দেশের নদীভিত্তিক, কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজ, স্থানীয় অর্থনীতির স্বতন্ত্র বৈচিত্র্য–এ সব কিছু মিলিয়ে আমাদের কি সিঙ্গাপুর হতে চাওয়ার কথা ছিল? নাকি নিজেদের গ্রামীণ সমাজ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি স্বতন্ত্র স্বনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন দেখার কথা ছিল?
আমাদের মিঠাপানির নদী ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়, আমাদের পলিমাটির উর্বরতা, আমাদের জলবায়ুর বৈচিত্র্য, আমাদের ধান, পাট, আখ, ডাল, নারিকেল ও সরিষার ঋতুভিত্তিক ফলন, আমাদের গ্রামীণ সমাজের অনন্য কৃষিভিত্তিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা–আমাদের স্থানীয় মানুষের জীবনচরিত, এসব কিছুকে বাতিল করে দিয়ে, ঘুরেফিরে সেই গ্রামকে শহর বানানো আর বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর-ইউরোপ বানানোটাই এই দেশের শিক্ষিত মানসে উন্নয়নের একমাত্র মডেল হিসেবে রয়ে গেলো।
আমাদের অর্থনীতিবিদ ও আমলাদের চিন্তাভাবনায় জিডিপি ছিল মুখ্য। মেগা প্রকল্প আর বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল উন্নয়নের একমাত্র উপজীব্য। আমাদের গণমাধ্যম সেটিরই প্রতিধ্বনি করেছে বহু বছর।
দুনিয়াজুড়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বাস্তবতা যখন বারবার সামনে এসেছে, নদনদী ও পরিবেশ বাঁচিয়ে বিকল্প উন্নয়নের চিন্তা যখন সামনে এসেছে, তখন আমাদের অর্থনীতিবিদ, আমলা ও গণমাধ্যম উন্নয়নের একটি অতিপুরোনো মডেলকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মহিমান্বিত করেছে। এই যে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপ হওয়ার অবাস্তব বাসনা–এগুলো তো আকাশ থেকে পড়েনি, এর পেছনে আছে কয়েক শতকের কলোনিয়াল চিন্তার পরম্পরা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আফ্রিকা ও এশিয়ার কলোনিগুলো স্বাধীন হওয়া শুরু করল। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন মহাপরাক্রমশালী। ভারতসহ এশিয়ার দেশে দেশে সমাজতন্ত্রের মতাদর্শ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সদ্য স্বাধীন ভারতে ‘নেহেরুভিয়ান সোশ্যালিজম’ দাঁড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতেও মার্ক্সিও রাজনীতির উত্থান ঘটছে। সদ্য স্বাধীন কলোনিগুলো কোন পথে যাবে? সমাজতন্ত্রের পথে, নাকি পশ্চিমাদের বাজার হবে?
ইংল্যান্ড, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলো সদ্য স্বাধীন কলোনিগুলোর অর্থনীতির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে চায়নি কখনও। পুরোনো কলোনিগুলো এতদিন শুধু সস্তা কাঁচামালের সরবরাহকারীই ছিল না, তারা পশ্চিমের মেশিনজাত পণ্যের বাজারও ছিল। এই বাজারকে তো কব্জায় রাখতেই হবে। দুশ বছরের নিশ্চিত বাজার কে হারাতে চায়? কিন্তু স্বাধীন দেশগুলোতে তখন সমাজতন্ত্রের হাওয়া বইছে। একদিকে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব, আরেকদিকে প্রবল প্রতাপশালী ব্রিটিশ সাম্ৰাজ্যবাদের পরাজয়–স্বাভাবিকভাবেই গরিব দেশগুলোতে উপনিবেশবাদ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। ভারত, চিলি, মেক্সিকো বা আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলো বিদেশি পণ্যের বদলে স্থানীয় শিল্পায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে, জাতীয় সক্ষমতা তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
এমন অবস্থায় এশিয়া বা আফ্রিকার সদ্য স্বাধীন অর্থনীতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় কীভাবে? এসব দেশের বাজারে পশ্চিমা পণ্যের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা যায় কীভাবে? স্বাধীন দেশগুলোকে পশ্চিমের প্রযুক্তি, পশ্চিমের পণ্য কিনতে বাধ্য করা যায় কীভাবে? মোট কথা, পশ্চিমের অর্থনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা যায় কীভাবে?
উপায় একটাই। বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হতে হবে পশ্চিমা দেশের নীতিনির্ধারদেরই। সেই সঙ্গে একাডেমিক জগতেও কলোনিয়াল মতাদর্শের পুনরুৎপাদন ঘটাতে হবে, পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজারের আলাপগুলোকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক সিলেবাসে পশ্চিমা ধনতন্ত্রের চিন্তাগুলোরই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সদ্য স্বাধীন গরিব দেশগুলো কী ধরনের উন্নয়ন করবে, নিজেরা কতটুকু উৎপাদন করবে আর পশ্চিমের পণ্যের ওপর কতটুকু নির্ভরশীল হবে–এ সবকিছু ঠিক করে দেবেন পশ্চিমা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা। কিন্তু এই পরিকল্পনা সফল করতে লাগবে নতুন অর্থনৈতিক মডেল ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক দর্শন।
সেই নতুন চিন্তার সন্ধানেই অস্ট্রিয়ান-ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক হায়েক একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ১৯৪৭ সালে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পর)। হায়েক তখন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক। অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব। তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল এরকম যে, নাজিবাদ, ফ্যাসিবাদ বা সমাজতন্ত্র–এই সবকিছুরই মূল হোতা হলো ‘সেন্ট্রাল প্ল্যানিং’ বা অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ। হায়েক নিজে উদ্যোগ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের মন্ট পেরেলিনে দাওয়াত দিলেন ইউরোপ-আমেরিকার প্রায় চল্লিশজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে। এই দলে ছিলেন পশ্চিমের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। আরও ছিলেন এক দল ধনী ব্যবসায়ী। তারা মূলত ইউরোপ-আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং তৎকালীন বিশ্ব অর্থনীতির একদম প্রথম সারির ‘গেইম প্লেয়ার’।
এইসব ধনী সংস্থার অর্থায়নেই বিশ্বের সবচেয়ে ‘এলিট’ অর্থনীতিবিদেরা গরিব দেশের বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার নীলনকশা তৈরি করতে লাগলেন। এই দলটির উদ্দেশ্য ছিল সুনির্দিষ্ট। একদিকে সমাজতন্ত্র ঠেকানো, আরেকদিকে পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজারের ‘আদর্শ’ প্রতিষ্ঠা করা। গরিব দেশগুলোতে পশ্চিমের বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর সহজ অনুপ্রবেশ নিশ্চিত করা, এবং একই সঙ্গে পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজার-সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ভান্ডারকে এইসব দেশের একাডেমিক জগতে প্রচার করা। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী টলোমলো বিশ্ব অর্থনীতি তখন রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এমন অবস্থায় পুঁজিবাদ বা ‘মুক্তবাজার’কে জনপ্রিয় করা বা চাপিয়ে দেওয়া–কোনোটাই সহজ ছিল না।
মন্ট পেরেলিনের বুদ্ধিজীবীরা ‘মুক্তবাজার’কে জনপ্রিয় করতে একটি চালাকির আশ্রয় নিলেন। তারা ‘মুক্তবাজার’ এবং ‘পুঁজিবাদ’-এর মতো শব্দগুলোকে ‘মুক্ত’ শব্দটির সঙ্গে জুড়ে দিলেন। অর্থাৎ ‘মুক্তবাজার’ বা ‘পুঁজিবাদ’ মানুষের মুক্তির সঙ্গে সমার্থক।
মন্ট পেরেলিনের অর্থনীতিবিদেরা নিজেরাও জানেন, ‘মুক্তবাজার’ মানেই হচ্ছে পশ্চিমের উৎপাদিত পণ্যকে গরিব দেশের মার্কেটে ঠেলে দেওয়া। নিজেদের পুরোনো কলোনির বাজারকে অক্ষুণ্ন রাখা। কিন্তু স্বাধীন দেশগুলোর সামনে তো এমনটা বলা যাবে না। সে কারণে, বাজারের সঙ্গে মুক্তির আকাঙ্ক্ষাটি মেলাতে হলো।
যারা ‘মুক্তবাজার’ করবে, বা ‘পুঁজিবাদ’ করবে, তারা ‘মুক্ত’, তারা ‘লিবারেল’, তারা মানুষের মুক্তিতে বিশ্বাস করে। যারা মুক্তবাজার করবে না, তারা ‘কমিউনিস্ট’, তারা মুক্তি চায় না, তারা মানুষের স্বাধীনতাকে দাবিয়ে রাখতে চায়।
মন্ট পেরেলিনের একটি দামি হোটেলে বসে কলোনিয়াল আদর্শ ধারণকারী এই অর্থনীতিবিদেরা বিশ্বের কালো মানুষদের অর্থনৈতিক ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করলেন। তারা অত্যন্ত চাতুরির সঙ্গে দুটি পরিকল্পনা করলেন। এক. প্রাক্তন কলোনির বাজারগুলো যেন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়–সেটি নিশ্চিত করতে মুক্তবাজারের সঙ্গে ‘মুক্ত’ ও ‘গণতন্ত্র’-এর একটি ঘোট পাকালেন। দুই. প্রাক্তন কলোনিগুলোর কোটি কোটি মানুষের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, স্থানীয় শিল্পায়ন, বা জাতীয় সক্ষমতার মতো জরুরি ইস্যুকে গৌণ করে ফেলার বহুবিধ পরিকল্পনা হাজির করলেন। শেষ পর্যন্ত এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বৈধতা পেল বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, তথাকথিত ‘মডার্নাইজেশন’ ও ‘ডেভেলপমেন্টে’র আদর্শকে সামনে রেখে।
৫০-এর দশক থেকেই পশ্চিমা একাডেমিক জগতে মডার্নাইজেশন স্কুলের প্রচারণা বাড়তে থাকে। এই তাত্ত্বিকদের বক্তব্য ছিল এমন–ইউরোপ ও আমেরিকা শ্রেষ্ঠতর, নতুন স্বাধীন হওয়া কলোনিগুলো অনাধুনিক, অনুন্নত এবং তারা শিক্ষাহীন অন্ধকারে বসবাস করছে। কাজেই শিক্ষিত ইউরোপের দায়িত্ব হলো কলোনির মানুষকে আধুনিক করা, শিক্ষিত করা, মডার্ন করা।
মডার্নাইজেশনের ধারণা ছিল মূলত আমূল ‘রূপান্তরে’র ধারণা। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশগুলো কেমন করে ইউরোপ-আমেরিকার মতো ‘উন্নয়ন’ করতে পারবে? ‘ট্র্যাডিশনাল’ সমাজ বা পিছিয়ে থাকা সমাজগুলোকে ‘আধুনিক’ হতে হলে কী কী করতে হবে? মডার্নাইজেশন প্রবক্তাদের পরামর্শ ছিল এরকম–আফ্রিকা বা এশিয়ার দেশগুলো ইউরোপের ‘উন্নয়নে’র পথই অনুসরণ করবে। গরিব দেশগুলোকে রক্ষা করবে পশ্চিমের জ্ঞান ও প্রযুক্তি, নগরায়ণের শিক্ষা ও সংস্কৃতি, প্রচুর পরিমাণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি। এভাবেই স্বাধীন হওয়া দেশগুলোকে ‘মডার্ন’ করা, ‘বড়লোক’ করা, ‘বৈজ্ঞানিক’ করা, ‘শিক্ষিত’ করা, বা ‘অন্ধকার থেকে আলোয়’ নিয়ে আসার এই ‘মিশন’কে মহিমান্বিত করে মডার্নাইজেশন তাত্ত্বিকদের প্রচারণা চলতে থাকে। এই তত্ত্বের প্রভাবেই উন্নয়ন অর্থনীতির (ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স) বেশির ভাগ মডেল ও থিউরির উদ্ভাবন হয়, যা দরিদ্র দেশের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্থনীতি বিভাগুলোতে বহু বছর ধরে পড়ছে।
সমস্যা হলো এই ‘মডার্নাইজেশন’-এর প্রচারণায় গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের সমস্ত সম্ভাবনাকে বাতিল করে গ্রামকে মেট্রোপলিটান শহরে রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখানো হয়। শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বা মেগা প্রকল্পের নামে গ্রামের কৃষককে উচ্ছেদ করা বা গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করাকে উন্নয়নের বিকল্পহীন পথ হিসেবে হাজির করা হয়। কয়েক দফায় উচ্ছেদের পর মানুষ কোথায় হারিয়ে যায়, সেই প্রশ্ন উপেক্ষিত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবাকে সংকুচিত করা হয়। স্বনির্ভরতার বদলে ধনী দেশের প্রযুক্তি, ব্যাংক ও কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকাকেই উন্নয়নের সফল মডেল হিসেবে পরিচিত করা হয়। শ্রমিকের মজুরি বাড়তে না দেওয়াকে শিল্প বিকাশের একমাত্র পথ হিসেবে দেখানো হয়। প্রবল বৈষম্য নিরসনের বদলে বৃহৎ ব্যবসায়ী বা শিল্পগ্রুপগুলোকে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দেওয়ার স্বাভাবিকায়ন করা হয়। এই সবকিছুই শত বছর আগের ঔপনিবেশিক অর্থনীতির পুনরাবৃত্তি মাত্র।
আমাদের শিক্ষিত সমাজও তাই বিশ্বাস করে, কোনোমতে একবার সিঙ্গাপুর হয়ে যেতে পারলেই বোধ হয় দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বেকারত্ব সব দূর হয়ে যাবে। কিন্তু তথাকথিত সিঙ্গাপুর হতে হলে যে গ্রাম বাংলার কৃষি ব্যবস্থা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং গ্রাম ও শহরের কোটি মানুষকে তার জীবন-জীবিকা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে, সেই কাণ্ডজ্ঞানও আমাদের বিলুপ্ত হয়েছে পুরোনো কলোনিয়াল মানসিকতার প্রকোপে।