‘কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
‘কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
জরিপের উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের চাহিদা মূল্যায়ন। এতে যৌথভাবে সহায়তা করেছে গ্রামীণ কমিউনিকেশন, টেকসই ও আপন চিকিৎসক।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি) ভবনের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময়সভায় এই জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম মারুফ।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ রোগী কমিউনিটি ক্লিনিকে আসে চর্মরোগের চিকিৎসা নিতে। ২১ শতাংশ ইনফ্লুয়েঞ্জা, ২১ শতাংশ জ্বর, ১৯ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ এবং ১৪ শতাংশ আসে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা নিতে।
চলতি বছরের ১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের অংশগ্রহণে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, সপ্তাহে ১০ জন রোগীকে অনলাইনে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব।
৩৬ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ওষুধের ঘাটতি এখন বড় সমস্যা। ২৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, বিশেষ করে এনসিডি ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা। বেশির ভাগ ক্লিনিকে রক্তচাপ মাপার মেশিন, গ্লুকোমিটার, থার্মোমিটার ও স্টেথোস্কোপ থাকলেও অনেক যন্ত্র নষ্ট বা নেই।
অনেক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, সময়ের অভাব, প্রশিক্ষণ, উপকরণের সংকট এবং রোগীদের সীমিত বোঝাপড়া কার্যকর পরামর্শ প্রদানে বাধা সৃষ্টি করছে। রেকর্ড সংরক্ষণ বিষয়ে ৬৪ শতাংশের মতে বড় সমস্যা নেই, তবে ২৪ শতাংশ বলেছে, কাগজপত্রের কাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের হিসেবে, প্রতিদিন ৩১ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। সপ্তাহের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন রবিবার, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে রোগীর ভিড় বেশি থাকে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা এসব ক্লিনিকের প্রধান সেবা।
ড. রফিকুল ইসলাম মারুফ বলেন, টেলিমেডিসিন সম্পর্কে রোগীদের সচেতনতা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে অনেক ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত, ব্যাকআপ সীমিত এবং ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল। ফলে এখনো ইলেকট্রনিক রেকর্ড সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ভবিষ্যতে ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে আগ্রহী হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও প্রশিক্ষণের অভাবকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
গবেষকদলের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরো কার্যকর করতে যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মূল স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নায়িকো নাকাশিমা বলেন, জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি। সম্প্রতি বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগ বাড়ছে। এসব অসংক্রামক রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে কমিউনিটি পর্যায়ে পরীক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই জরিপে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য আছে। বিশ্লেষণ করলে আমরা দিকনির্দেশনা পাব। কমিউনিটি ক্লিনিক ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বকের সমস্যার ওষুধের চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনটি মৌলিক পরীক্ষা যাতে ক্লিনিক পর্যায়ে করা যায়, এ নিয়েও কাজ চলছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি।