যখন ব্যথা বা অস্বস্তি সবচেয়ে নিচের পাঁজরের হাড় থেকে পশ্চাতদেশের মাংসপেশি পর্যন্ত অনুভূত হয়, তাকে কোমর ব্যথা বলে। প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবনে এ ধরনের ব্যথার অভিজ্ঞতা থাকে। কখনো কখনো এ ব্যথা পায়ের দিকেও অনুভূত হতে পারে। তিন ধরনের কোমর ব্যথা হয়—তীব্র, মাঝারি ও দীর্ঘস্থায়ী।
ব্যথার কারণ: ম্যাকনিক্যাল—মাংসপেশিতে আঘাত বা টান লাগা, লিগামেন্টে টান লাগা বা ছিঁড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, বয়সজনিত কারণে, হাড় ক্ষয়, মেরুদণ্ডের বিভিন্ন হাড়ের সমস্যা ইত্যাদি। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ ব্যথা হয় মেরুদণ্ডের কারণে। মেরুদণ্ডের ডিসকের জন্য, স্পাইনাল কেনালের সমস্যা, স্পাইনাল টিউমার জনিত এবং অন্যান্য কারণে এ ব্যথা হতে পারে। ব্যথার তীব্রতা খাদ্যতন্ত্র অথবা কিডনির ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া। এ ছাড়া মানসিক দুঃশ্চিন্তার কারণেও ব্যথা হতে পারে।
হঠাৎ তীব্র ব্যথা: আঘাতজনিত, ভারী ওজন উত্তোলন, অতিরিক্ত ওজন, ভেঙে যাওয়া বা ফ্র্যাকচার।তীব্র ব্যথায় করণীয়: দুই থেকে তিন দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম, প্রয়োজনে কোমরে করসেট বা বেল্ট ব্যবহার, মালিশ পরিহার করা। কখনো ফিজিওথেরাপি দেওয়া যেতে পারে। তীব্র ব্যথা পায়ের দিকে প্রসারিত হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার কারণ: ডিসকের সমস্যা (পিএলআইডি), স্পাইনাল কেনাল সরু হওয়া, মেরুদণ্ডের হাড় সরে যাওয়া বা ফেটে যাওয়া, মেরুদণ্ডের ইনফেকশন, যক্ষ্মা, অপারেশন পরবর্তী ইনফেকশন, অসটিওপোরোসিস, অসটিওআর্থাইটিস, মেরুদণ্ডের টিউমার, সিসটেমিক ইনফ্লামেশন।দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার লক্ষণ: কোমর ব্যথা পায়ের দিকে অনুভূত হলে বা পায়ে দুর্বলতা দেখা দিলে, কোমর ব্যথার সঙ্গে প্রসাব-পায়খানার সমস্যা হলে, স্বাভাবিক দূরত্বে হাঁটতে না পারলে, কোমর ব্যথার সঙ্গে সান্ধ্যকালীন জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, রুচি কমে যাওয়া, বুক বা পেটে ব্যথা অনুভূত, শরীর ফুলে যাওয়া, দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথায় দৈনন্দিন জীবনে কাজের ব্যাঘাত।
পরিত্রাণের উপায়: জীবনধারার পরিবর্তন, ওজন কমানো, খাদ্যাভ্যাস পরিমার্জন, নিয়মিত ব্যায়াম করা, মেরুদণ্ডের যত্ন নেওয়া, পরিমিত ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ওজন বহন পরিহার, দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ পরিহার করতে হবে।
আধুনিক চিকিৎসা: ইপিডুরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন, এনডোসকোপিক, মাইএকোসকোপিক বা মিনিমাল ইনভকসিভ স্পাইনাল, ফিশন সার্জারি, ভারটিবুপলাসটি, কাইফোপলাসটি, ডিসক বা হাড় প্রতিস্থাপন, পি আর পি বা সেটমপ সেল থেরাপি।
আধুনিক চিকিৎসায় বাংলাদেশের অবস্থা: মেরুদণ্ডের রোগ নির্ণয়ের প্রায় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বর্তমানে বাংলাদেশে হয়। মেরুদণ্ডের সব সমস্যার চিকিৎসা বা অপারেশন বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আধুনিক মানের সেবা পাওয়া সম্ভব।
ডা. মো. মাহবুব আলম (খোকন)
অর্থোপেডিক স্পাইন সার্জন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল