মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শ্রাগে ছিমছাম

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

শহরে হেমন্তের প্রভাব খুব স্পষ্ট নয়। রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা যেন হেমন্তের পরশ দিয়ে যায়। এদিকে উত্তরের দিকে ভোরে আলতো করে ঝরে পড়ে শিশির। গ্রামের দিকে রাতের বাতাস বেশ ঠান্ডা। শহর কিংবা গ্রাম–হেমন্ত মানেই না ঠান্ডা, না গরমের ঋতু। সময়টি বেশ আরামদায়ক। এ কারণে নিজেকে চমৎকারভাবে স্টাইলিশ করে উপস্থাপন করা যায়। এ সময় ওয়েস্টার্ন লুক কিংবা সাধারণ কোনো লুকের সঙ্গে গায়ে জড়াতে পারেন শ্রাগ। সকালবেলার অফিসযাত্রা হোক কিংবা বিকেলের ক্যাফে আড্ডা–পোশাকে স্টাইলিশ লেয়ার যোগ করতে শ্রাগের বিকল্প খুব একটা নেই। এক সময় শুধু বিদেশি ফ্যাশনেই দেখা যেত এ পোশাকের উপস্থিতি, এখন তা বাংলাদেশের তরুণী থেকে কর্মজীবী নারী–সবার আলমারিতে জায়গা করে নিয়েছে।
পোশাকের ব্র্যান্ড ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস জানান, হেমন্তে উজ্জ্বল ও রঙিন পোশাক খুব ভালো মানায়। পোশাকের ওপর নানা নকশার শ্রাগ জোগায় বাড়তি মাত্রা। সুতি, খাদি, অ্যাম্বুস কটস, জর্জেট, লিনেন, কাতান, গেঞ্জি, মসলিন, কাঞ্জিভরম, ডেনিমসহ সব ধরনের ফেব্রিক দিয়েই তৈরি হচ্ছে শ্রাগ। সাদা, হলুদ, ধূসর, কালো, নীল, সবুজ, গোলাপিসহ প্রায় সব রঙের শ্রাগই দেখতে পাওয়া যায়।
তিনি জানান, তরুণীরা ওড়নার বিকল্প হিসেবে শ্রাগ পরছে। নি লেন্থ, ওয়েস্ট লেন্থ, ফুল লেন্থসহ বিভিন্ন রকম কাটিংয়ে শ্রাগ তৈরি হয়। একটা সময় নিট ফেব্রিকসে এক ধরনের লম্বা জ্যাকেট তৈরি করা হতো; যা ধীরে ধীরে বিবর্তন হয়ে শ্রাগে
রূপ নিয়েছে।
বছরজুড়ে ক্রেতার মধ্যে শ্রাগের চাহিদা দেখা যায় বলে জানান টুয়েলভ ক্লদিংয়ের ডিজাইনার সুমন সূত্রধর। তিনি জানান–থ্রি কোয়ার্টার, স্লিভলেস, ফুল, ফ্রিলসহ নানান ধরনের হাতার শ্রাগ পছন্দ করেন তরুণীরা। কোনোটি বোতামহীন, কোনোটিতে বা কাঠ, পুঁতি, পাথরের বোতাম বসানো থাকে। ব্লক প্রিন্ট, প্যাচওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্ট, কাঁথা স্টিচ, বাউল প্রিন্ট–এমনকি শীতলপাটির আদলেও নকশা করা হচ্ছে শ্রাগে। জর্জেট, সিল্ক, সুতি শ্রাগগুলো নিয়মিত পরার জন্য খুবই উপযোগী।
স্পোর্টস ওয়্যার বা ক্যাজুয়াল পোশাকের ওপর শ্রাগ জড়ালে কমফি লুক পাওয়া যায়। ট্যাঙ্ক টপ ইনার আর হাই ওয়েস্ট প্যান্টের সঙ্গে এমব্রয়ডারি করা শর্ট শ্রাগ, কিংবা নানা নকশার লং শ্রাগ এনে দেবে ফরমাল লুক। আবার ক্রপ টপ ও নানা ছাঁটের প্যান্টের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে শ্রাগ পরতে পারেন। এর সঙ্গে বোহেমিয়ান জুয়েলারি পরে সহজেই কোনো অনুষ্ঠানে চলে যেতে পারেন। কেননা এতে সাজে অনন্য মাত্রা যোগ করে।
আড়ং, তাগা, লা রিভ, টুয়েলভ, সাতকাহন, কে ক্র্যাফটসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডে শ্রাগ পাওয়া যায়। তাগায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন স্টাইলের লং ও শর্ট শ্রাগ।
লা রিভে জর্জেট, ভিসকস, সিল্ক, নিট, চ্যামব্রে, সাটিন কাপড়ের স্লিভলেস, থ্রি কোয়ার্টার ও ফুল হাতার শ্রাগ পাওয়া যায়। লং ও শর্ট সব ধরনের শ্রাগেই রয়েছে বৈচিত্র্যময় নকশা। হালকা ও উজ্জ্বল দুই ধরনের রঙের বৈচিত্র্য চোখে পড়েছে। ড্রপ শোল্ডার, এ লাইন, টিল ক্রেপ এ লাইন, ওপেন ফ্রন্ট প্যাটার্নের শ্রাগ পাওয়া যাচ্ছে ব্র্যান্ডটিতে।
হাফহাতা কিংবা স্লিভলেস কামিজ, ক্রপটপ, ট্যাঙ্ক টপের সঙ্গে থ্রি কোয়ার্টার বা ফুল হাতার শ্রাগ বেশ মানিয়ে যায়। হেমন্তে তো বটেই, হালকা শীতেও এ ধরনের পোশাক বেশ আরামদায়ক। জিন্সের সঙ্গে ফিটেট টপস বা ক্রপটপ পরে তার সঙ্গে লং শ্রাগ আর গলায় ঝোলানো গহনা পরলে স্টাইলিশ লাগে। সুতি কামিজ, ক্রপটপ, টি-শার্ট কিংবা টপসের সঙ্গে নয়, শাড়ির সঙ্গেও কটি ও শ্রাগ জড়িয়ে নেওয়া যায়। এতে বেশ ফ্যাশনেবল লাগে। জমকালো শাড়ির সঙ্গে হালকা রং, নকশার শ্রাগ পরতে পারেন। আবার শাড়ি যদি হয় হালকা নকশার কিংবা সিল্কের, তবে নেট ও কাতানের শ্রাগ পরলে এলিগ্যান্ট লাগবে। শাড়ির সঙ্গে নি লেন্থ কিংবা ওয়েস্ট লেন্থ শ্রাগ বেশি মানায়।
লং শ্রাগ, লং ড্রেস বা জাম্পস্যুটের সঙ্গে মানায় দারুণ। মেয়েরা এখন এমন শ্রাগে প্রিন্ট, ফ্রিঞ্জ কিংবা কাটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। ক্রপ শ্রাগ অফিস বা ফরমাল লুকে স্মার্টনেস যোগ করে। নেট বা লেইস শ্রাগ হালকা গাউনের ওপর পরলে দেয় মার্জিত ভাব। এগুলো পার্টি বা ডেট নাইটের
জন্য সেরা।
শ্রাগের পাশাপাশি কটিযুক্ত জামাও তৈরি করছেন অনেকে। সাধারণ পোশাকের তুলনায় অন্য রকম ব্যঞ্জনা তৈরি করে কটিযুক্ত পোশাক। পোশাকের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও কিছু অনলাইন পেজে পাওয়া যায় এ ধরনের পোশাক।
কোথায় পাবেন, দরদাম
আড়ং, সারা লাইফস্টাইল, টুয়েলভ ক্লদিং, কে ক্র্যাফট, সাতকাহন, অঞ্জন্সসহ বিভিন্ন অফলাইন ও অনলাইন ব্র্যান্ড থেকে শ্রাগ কেনা যাবে। শ্রাগ কিনতে পারবেন গাউছিয়া, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন দোকান থেকে। এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে ব্র্যান্ড থেকে শ্রাগ কেনা যাবে। মার্কেটগুলো থেকে আরও কমে কেনা যাবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com