মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পাখি দম্পতি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

পদ্মার মাঝারদিয়া চরে বিরল ‘লালমুনিয়া’ পাখির ছবি গিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী ইমরুল কায়েস ও তার স্ত্রী উম্মে খাদিজা ইভা।

ইমরুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘২০১৫ সালের তালিকাতেও এই কুমিরকে বিলুপ্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই এই কুমিরের দেখা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’ছবি: উম্মে খাদিজা ইভা

যেভাবে ছবিটি তুললেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অব নেচার’র সভাপতি ইমরুল জানান, গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে মাঝারদিয়া চরে পাখির ছবি তুলতে গেলে তিনি জানতে পারেন যে, স্থানীয় এক রাখাল ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বন বিভাগকে কুমির দেখার কথা জানিয়েছেন।

‘বন বিভাগের কর্মকর্তারা আমাকে চিনতেন। কুমিরের খবর পেয়ে তারা সঙ্গে সঙ্গে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সৌভাগ্যক্রমে আমরা তখন সেখানেই ছিলাম,’ বলেন তিনি।

তারা ড্রোন ও ক্যামেরা দুটো দিয়েই কুমিরটির ছবি তুলতে সক্ষম হন।

কুমিরটির বর্ণনা দিয়ে ইমরুল বলেন, ‘এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নিচের চোয়ালের দুটি দাঁত উপরের চোয়াল ভেদ করে বাইরে দেখা যায়।’

তিনি জানান, বাংলাদেশে একসময় তিন ধরনের কুমির ছিল—নোনা পানির, মিঠাপানির ও ঘড়িয়াল। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কুমিরের চামড়া রপ্তানি শুরু হলে এদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও আইইউসিএনের কুমির বিশেষজ্ঞ আদনান আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পাবনা, ফরিদপুর ও খুলনা জেলায় আগেও এমন কুমির দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি উদ্ধার করে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।’

‘ইমরুলের ছবিটি আমি দেখেছি। প্রায় ৯০ শতাংশ নিশ্চিত যে, এটি পুরুষ কুমির এবং বয়স কমপক্ষে ২০ বছর,’ বলেন আদনান।

তবে এর জন্ম বাংলাদেশে নয় বলে মনে করেন এই কুমির বিশেষজ্ঞ। ‘ভারতের চম্বল নদীতে এ প্রজাতির কুমির প্রচুর আছে। সম্ভবত এটি সেখান থেকে এসেছে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘কুমির শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল। তাই দীর্ঘ সময় নদীর তীরে রোদে শুয়ে থাকে। যদি এটি এখানে অনেকদিন থাকত, স্থানীয়রা আগেই টের পেত।’

‘শীত আসছে, তাই এই কুমিরকে সূর্যের আলো নিতে তীরে উঠতেই হবে। এতে তারই বেশি ঝুঁকি। মানুষ ভয় পেয়ে এটাকে মেরেও ফেলতে পারে,’ বলেন আদনান।

কুমিরটিকে রক্ষা করতে তিনি সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর আহ্বান জানান।

অপ্রত্যাশিত এই অভিজ্ঞতা ইমরুল ও তার স্ত্রীর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। ইমরুল হাসতে হাসতে বলেন, ‘গেলাম পাখি খুঁজতে, কিন্তু পেলাম হারিয়ে যাওয়া এক ইতিহাসের জীবন্ত রূপ।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com