সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মানসিক রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা জরুরি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে
  • ড. রফিকুল ইসলাম
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৬ লাখ। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ৭৬ লাখ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যাঁরা মানসিক রোগে ভুগছেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুসারে সাত থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত, যাদের ৯২ শতাংশ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দশম প্রধান কারণ হলো আত্মহত্যা। এর মধ্যে বেশির ভাগই মানসিক সমস্যার কারণে ঘটছে। তাঁদের মতে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি মানসিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সম্পর্কে টানাপড়েন, প্রেমঘটিত সমস্যা, বিবাহবিচ্ছেদ, বেকারত্ব, আর্থিক সমস্যা, চাকরি হারানো এবং জীবনে কোনো খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক সেবা সম্পর্কে ঠিকমতো ধারণা রাখে না।সামাজিক ট্যাবু বা লজ্জার কারণেও ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করে না। আর ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কোথা থেকে এই স্বাস্থ্যসেবা নিতে হবে, সে বিষয়ে কিছুই জানে না। অন্যদিকে আর্থিক সামর্থ্য না থাকার কারণে ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সেবা গ্রহণ করে না। অথচ সঠিক চিকিৎসা করলে এর প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।বিশেষ করে দেশের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ না থাকার কারণেও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রামের আওতায় দেশে ১০টি জেলার চিকিৎসকদের মানসিক রোগের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই প্রশিক্ষণে জনগণের কোনো উপকারে আসেনি। এদিকে সারা দেশে মাত্র দুটি সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মানসিক হাসপাতাল পাবনায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে ঢাকায় মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশে বেশ কিছু বেসরকারি মানসিক হাসপাতাল বা ক্লিনিক রয়েছে। তবে বাংলাদেশে মানসিক হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা গতানুগতিক পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ। সিরিয়াস ধরনের ভায়োলেন্ট রোগীদের শান্ত করার ক্ষেত্রে রোগীদের জোরজবরদস্তি করে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। পৃথিবীর অনেক দেশে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চিত্ত বিকাশমূলক থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। প্রাথমিক গবেষণায় সাংস্কৃতিক থেরাপি প্রয়োগের বিষয়টি ভালো ফল দেয় বলে দেখা গিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হলে দেশের মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কারের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অবকাঠামো ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। দেশে মানসিক রোগীর অনুপাতে সরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল ও শয্যার তীব্র সংকটও রয়েছে। সংকট সমাধানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বৃদ্ধির পাশাপাশি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনের মাধ্যমে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া প্রাইমারি পর্যায় স্বাস্থ্যসেবায় যাঁরা নিয়োজিত, তাঁদের বেসিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে হয়তো সাধারণ জনগণকে ন্যূনতম মাত্রায় সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। এমবিবিএস কারিকুলামের পরিধি বাড়ানো যেতে পারে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের সিলেবাসে মানসিক রোগ সম্পর্কে একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে ছোট বয়স থেকেই মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে প্রাথমিক সাধারণ স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে একীভূত করা যেতে পারে। আর মানসিক রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সহজপ্রাপ্যতা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বা সর্বত্র নিশ্চিত করতে হবে। গুরুতর মানসিক রোগীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বাস্তবায়ন করতে হবে।

লেখক : গ্রন্থাগার বিভাগের প্রধান, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com