স্বাধীনতা তুমি
তুমি সূর্যের শিখা,
তুমি নীল আকাশের মুক্ত পাখা।
তুমি অনাবিল নদীর গান,
তোমাকে হারালে কিছুই বাকি থাকে না।
স্বাধীনতা তুমি—
মানুষের মুখের হাসি,
মাঠে ধানের শীষের দোলা,
মায়ের চোখের জল।
(এই কবিতাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির প্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে।)
তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
আমি কৃষ্ণচূড়ার রক্তে রাঙানো
পতাকা উড়তে দেখেছি।
আমি দেখেছি মুক্ত মানুষ
হাতে হাত রেখে
গাইছে স্বাধীনতার গান।
(এই কবিতায় ১৯৭১ সালের বিজয়ের উচ্ছ্বাস ও গৌরব ধ্বনিত হয়েছে।)
আমি অনুতপ্ত নই,
যে কথা বলেছি, তা বলেছি জেনে শুনে।
কারো ক্রোধে, কারো হুমকিতে
আমি নীরব হবো না কখনও।
আমার কলমই আমার অস্ত্র—
তাতে কালি নয়, জ্বলে আগুন।
(এটি তাঁর প্রতিবাদী মানসিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।)
আমার প্রেমিকাকে বলো—
আমি তাকে ভালোবাসি,
তবে ভালোবাসা মানে বন্দিত্ব নয়।
ভালোবাসা মানে
দু’জন মানুষের পাশাপাশি হাঁটা
একই আকাশের নিচে।
(এখানে প্রেমের সঙ্গে মানবমুক্তির দার্শনিক ব্যঞ্জনা জড়িয়ে আছে।)
এই শার্টটি আসাদের নয়,
এ শার্টে আছে সূর্যের দাগ।
এই রক্তের দাগ,
এ তো আমাদেরই—
এ দেশের প্রতিটি মানুষের বুকে লাল ফুলের মতো ফুটে থাকা রক্ত।
(১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদকে উৎসর্গ করে লেখা এই কবিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর।)
বন্দী শিবির থেকে আমি লিখছি—
স্বাধীনতার গন্ধ পাই বাতাসে,
গুলির শব্দেও শুনি কবিতার ছন্দ।
মৃত্যু এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা,
কিন্তু স্বপ্ন অমর, অদম্য, অনন্ত।
(এই কবিতা মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা; এতে স্বাধীনতার জন্য অদম্য মানসিকতার প্রকাশ রয়েছে।)
শহর নিঃস্তব্ধ,
রাস্তায় কেবল গাড়ির চাকার শব্দ।
মানুষের মুখে নেই হাসি, নেই গান,
শুধু ধোঁয়া, ধুলো, নিঃশব্দ কান্না।
এই শহর একদিন স্বপ্ন দেখেছিল,
আজ সে শহর অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।
(এখানে ঢাকা শহরের নিঃসঙ্গতা ও নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ফুটে উঠেছে।)
তোমাকে বলি ছোট্ট মানুষ,
বড় হয়ে যেনো মানুষই থাকো,
ধর্মে নয়, জাতিতে নয়—
হৃদয়ের চোখে চিনো সবাইকে।
তুমি যেন ভালোবাসো পৃথিবীকে,
কারণ মানুষই তোমার প্রথম ধর্ম।
(এই কবিতায় কবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি মানবতার আহ্বান জানিয়েছেন।)
হে স্বাধীনতা,
তোর জন্য কত রক্ত ঝরেছে
নদীর স্রোতের মতো।
তোর নামেই উঠেছে মিছিল,
তোর নামেই জ্বলে আগুন।
আজও তোর জন্য লড়ছে মানুষ,
তুই আছিস মাটির গন্ধে,
বাতাসের সুরে, শিশুর হাসিতে।
আমি কবি,
আমার কলমে লিখি জেগে থাকা রাতের গল্প,
আমি মানুষের মুখে রাখি আশার আলো,
আমি প্রেমে, আমি প্রতিবাদে,
আমি স্বাধীনতার স্বাক্ষর।
শামসুর রহমানের কবিতাগুলো একদিকে যেমন সময়ের দলিল, তেমনি মানবতার চিরন্তন ঘোষণা। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রতিবাদ, স্বাধীনতা, সমাজবোধ ও ব্যক্তিমন—সবকিছু একসাথে মিশে আছে।