ঢাকার আশপাশের চর, বিলের ধারে, নদীর তীরে—সব জায়গায়ই সাদা তুলার মতো কাশফুলে ভরে গেছে। শহরের কোলাহলের মাঝে এ যেন এক টুকরা শান্তি, নিঃশব্দ সৌন্দর্য। ভোরে বের হলাম, সঙ্গে ক্যামেরা। গন্তব্য আফতাবনগরের পাশে এক কাশবন, যেখানে মাঝে মাঝে মুনিয়া আর ছোট ছোট পাখি দেখা দেয়।আগেই অপেক্ষা করছিলেন তানভীর ভাই। চমৎকার ছবি তোলেন। দুজন মিলে রিকশা নিয়ে কাশবনের দিকে রওনা হলাম।
কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে কত কিছু বদলে গেছে। কাশবন আর হোগলাবনের জায়গা কমে এসেছে, গড়ে উঠছে দালান, রাস্তা। তবু এখনো কিছু টুকরা সবুজ বেঁচে আছে, প্রকৃতির শেষ লড়াই যেন।কাশবনের ভেতরে ঢুকতেই দেখি একটি বেজি দৌড়ে পার হচ্ছে।
একটু এগিয়ে হোগলাবনে ডাহুকছানার দেখা মিলল। এর পরই সামনে এলো সেই লাল মুনিয়া—Red Avadavat, যাকে অনেকে Strawberry finch বা আলতা মুনিয়া বলে। উজ্জ্বল লাল গায়ে ছোট ছোট সাদা ফোঁটা, যেন কেউ যত্ন করে সাজিয়ে দিয়েছে। মেয়ে পাখিটাও একটু পরেই এলো, মাটিতে খাবার খুঁজছে আবার উড়ে গিয়ে কাশফুলের ডগায় বসছে। আরো একটু দূরে গিয়ে দেখি একঝাঁক তেরঙ্গা মুনিয়া (Tricoloured munia)।
সাদা কাশফুলের পটভূমিতে রঙিন মুনিয়া অনন্য প্রশান্তি ছড়ায়। শহরের কোলাহল পেরিয়ে এই সাদায়-লালে মিশে থাকা মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি এখনো বেঁচে আছে, শুধু আমাদের চোখে ধুলা পড়েছে।তবু ভয় হয়। একদিন হয়তো এই কাশবনগুলো, এই আলতা মুনিয়ারা হারিয়ে যাবে দালানকোঠার ভিড়ে। যদি হারায়ও, তবু এই সকালের দৃশ্য, কাশফুলের শুভ্রতা আর লাল মুনিয়ার রঙিন পাখা মন থেকে মুছে যাবে না কখনো।চাই একটু সচেতনতা, আরেকটু যত্ন, যাতে এই কাশফুলের মৌসুম, এই পাখিদের সকালগুলো টিকে থাকে আমাদের পরের প্রজন্মের জন্যও।