ফেসবুকে দেখলাম, আপনি মালয়েশিয়ায়…
হ্যাঁ। আমার ছেলে সেখানেই পড়াশোনা করে।
ফেসবুকে দেখলাম, আপনি মালয়েশিয়ায়…
হ্যাঁ। আমার ছেলে সেখানেই পড়াশোনা করে।
গত মাসেই তো বাংলাদেশে ছিলেন। কবে গেলেন?
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি।এবার বাংলাদেশে খুব ব্যস্ততার মধ্যেই ছিলাম। তার ওপর ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাতে হবে। একটু তড়িঘড়ি করেই কুয়েত এসেছিলাম। তবে মাসখানেকের মধ্যে আবার দেশে ফিরব। অনেক নির্মাতার সঙ্গে কথা হচ্ছে।
আপনার কাছেই জানলাম। ছবিটি আই স্ক্রিনে আসবে—এটা আগে থেকেই চূড়ান্ত ছিল। তবে চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এখন মনের মধ্যে অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে। আকরাম খান ভাইয়ের নির্মাণ অত্যন্ত নিখুঁত। তার প্রমাণ এই ছবিতেও পাওয়া গেছে। প্রথমে আন্তর্জাতিক নানা চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে, পুরস্কৃতও হয়েছে। এরপর দেশের হলে মুক্তি পেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার ওটিটিতে এসেছে। নিশ্চয়ই এই প্ল্যাটফর্মের দর্শকদেরও ছবিটি ভালো লাগবে।
আপনি মা-বাবাকে নিয়ে হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছিলেন। ছবি দেখে আপনার মা-বাবা কী বলেছিলেন?
আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে ট্রেনিং নিয়েছিলেন। পত্রিকায় প্রথম সারির যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে আমার বাবা একজন। ‘নকশি কাঁথার জমিন’ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ছবি। বুঝতেই পারছেন ছবি দেখার সময় বাবার ইমোশনটা কেমন ছিল। পুরো স্ক্রিনিংয়ের সময় তিনি চুপচাপ ছিলেন। আমার মা-ও তাই। ছবি শেষ করে দুজন হল থেকে বের হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, আদর করলেন। আপনি জিজ্ঞেস করার পর সেদিনটির দৃশ্য চোখে জ্বলজ্বল করছে। মনে হচ্ছে এই তো! এখনকারই ঘটনা।
দেশে ফিরে কী কী করবেন?
প্রথমে অনিক বিশ্বাসের ‘অন্তর্বর্তী’ নামে একটি ছবির কাজ শেষ করব। এরপর কয়েকটি ওয়েব ছবির কথা হচ্ছে, সেগুলো থেকে দুই-তিনটি করব। আরেকটি ছবির কথাও চলছে। বলতে পারেন ওটিটি, বড় পর্দা—দুটি মাধ্যমেই আমাকে পাবেন।
তাহলে এখন থেকে আপনাকে আবার পর্দায় নিয়মিত পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ। আমি নিয়মিত অভিনয় করতে চেয়েছি। তবে পরিবার দেশের বাইরে থাকার কারণে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে হয়েছে। অনেক ভালো ভালো প্রজেক্টও করতে পারিনি শিডিউলের কারণে। ছেলেটা বড় হয়েছে। আমিও সংসার জীবনে একটু বিশ্রাম পাচ্ছি। এখন নিয়মিত কাজ করতে বাধা নেই। আশা করছি ভালো ভালো কাজ দর্শকের উপহার দিতে পারব।
এখনকার অভিনেত্রীদের মধ্যে আপনার পছন্দের তালিকায় কারা আছেন?
সবাই ভালো কাজ করে। কাকে রেখে কার কথা বলব। তারা খুব স্মার্ট। আমাদের সময়ের কথা বললে, নিজের কথা বললে, আমি মেকআপ করতে পারতাম না। মেকআপম্যান আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। আর এখনকার মেয়েরা নিজেদের মেকআপ নিজেরাই করে বসে থাকে। কল এলেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। আগের তুলনায় এখন প্রতিযোগিতাও বেশি। যারা এর মধ্য থেকে জায়গা করে নিয়েছে, তাদের কোয়ালিটি আছে বলেই পেরেছে। সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে কাজ করেছি। মনে হয়েছে, সে দারুণ মেধাবী। তা ছাড়া তানজিন তিশাকেও আমার ভালো লাগে। আরো অনেকে আছে। সবার নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।