সাত বড় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ১২ হাজারের বেশি
বছরের এ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ২৪৩ জনের
বড় হাসপাতালে রোগী যাচ্ছে জটিল অবস্থায়
দেরিতে হাসপাতালে যাওয়ার কারণ বের করুন: বিশেষজ্ঞ
দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছর চিকিৎসাধীন যত রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের (৭৩ শতাংশ) বেশির মৃত্যু হয়েছে সরকারি সাত হাসপাতালে। আর তাদের বেশির ভাগই ভর্তি হওয়ার এক দিনের মধ্যেই মারা গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আসাদুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে যারা আসে, তারা মূলত বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে আসা রেফার্ড কেস। এদের বেশির ভাগেরই কোমরবিডিটি (একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগ) থাকে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, বেশির ভাগ রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছে।’
রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩৭৮ জন রোগীর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শতকরা হিসাবে ভর্তির বিপরীতে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘এখানে মূলত সংকটাপন্ন রোগীরাই ভর্তি হয়। বেসরকারি হাসপাতাল সাধারণত জটিল রোগী ভর্তি নেয় না।’
চলতি বছর রাজধানী ছাড়া এককভাবে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। রাজধানীর বাইরে ধরলে এই বিভাগেই ভর্তি রোগীর মৃত্যুও সবচেয়ে বেশি—৩৫ জন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৬৮৪ জন রোগীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি রোগীর তুলনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘রোগীরা ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার সাত-আট দিন পর হাসপাতালে এসে থাকে। আমাদের আইসিইউ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধাও সীমিত।’
অন্য প্রধান সরকারি হাসপাতালের মধ্যে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬১। এর মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির বিপরীতে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। মুগদা মেডিকেলে মারা গেছে ৩৪ জন, মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ডিএনসিসির ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ৪৭২ জনের মধ্যে মারা গেছে ১৮ জন, মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। চট্টগ্রাম মেডিকেলে ১ হাজার ২৬১ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুহার ১ দশমিক ২ শতাংশ।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রোগীরা কেন দেরিতে হাসপাতালে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও টারশিয়ারি (বিশেষায়িত) পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত ঠিক করতে হবে।’