বেশ কয়েকবার পেশা বদলেছেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন সংবাদপত্রের হকার। তখন সংবাদপত্র পড়ার কারণে তাঁর বোধের জগতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তিনি দেখতে পান, সবুজের অভাবে জলবায়ু পরিবর্তনে কী ভয়াবহ অবস্থা হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে। বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। ফলে বৃক্ষরোপণে তাঁর তৎপরতা আরো বাড়ে। শুরুতে নিজের টাকায় কেনা গাছ লাগানো শুরু করলেও এখন অন্যরা গাছ উপহার দিলে তা-ও লাগান। কেউ গাছ কেনার টাকা দিলে সেটি দিয়ে গাছ লাগিয়ে আবার তাঁকে জানানও। বৃক্ষের প্রতি তাঁর এই অগাধ প্রেম অনেকে ভালো চোখে দেখেননি। তারা বিষ্ণুকে পাগল বলে উপহাস করত। তবু থেমে থাকেননি বিষ্ণু। ২০২১ সালে ভাড়াউড়া চা-বাগানের বধ্যভূমির রাস্তার পাশে তিনি শোভাবর্ধনের জন্য ২৫টি কৃষ্ণচূড়াগাছের চারা রোপণ করেছিলেন, কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সেগুলো গোড়া থেকে ভেঙে ফেলল। পরদিন ভোরে ভাঙাচোরা গাছ দেখে বিষ্ণু হাউমাউ করে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলেন। বললেন, ‘জীবনে এত কষ্ট আমি আর পাইনি। ভালোবাসার গাছগুলোকে কেন তারা নষ্ট করল? প্রতিটি গাছ আমার কাছে সন্তানের মতো।’
কারো জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠানে গাছের চারা উপহার দেন বিষ্ণু। একসঙ্গে তিনটি চারা। এ পর্যন্ত ২৫টি বিয়েতে বর-কনেকে গাছের চারা উপহার দিয়েছেন। শুধু চারা দিয়েই থেমে যান না, পরে খোঁজখবরও নেন। বৃক্ষপ্রেম বিষ্ণুর বুকজুড়ে। বৃক্ষ নিয়ে একটি কবিতাও লিখেছেন। মানুষকে গাছ উপহারের সঙ্গে তিনি নিজের রচিত কবিতা উপহার দেন, যেখানে গাছের উপকারিতা বলেছেন সব আবেগ ও ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে।
চা-শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের কথা কে না জানে! তাই নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতে তিনি যুক্ত হয়েছেন অলাভজনক চা-শ্রমিকদের সেবক সংগঠনে। এর মাধ্যমে তিনি চা শ্রমিকদের না পাওয়ার বেদনাগুলো তুলে ধরেন। তাঁর ইচ্ছা, ভবিষ্যতে একটি নার্সারি করবেন। সেখান থেকে সবাইকে সুলভ মূল্যে চারা উপহার দেবেন।