সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ভালো নেই মৃৎশিল্পের কারিগররা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন ব্যবহার কমছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মাটির তৈরি এসব জিনিসের বদলে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকসহ অন্যসব সামগ্রী। তাই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক পণ্যই হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাটির তৈরি কিছু তৈজসপত্র এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। শহরবাসীর দালান-কোটা সাজাতে মাটির তৈরি নানা ফুলদানির কদর রয়েছে এখনো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার যমুনা তীরবর্তী ধাপ এলাকার ওই পল্লীর গোপাল চন্দ্র পালের স্ত্রী শ্রীমতি সন্ধ্যা রানী ও অমিল চন্দ্র পালের উঠানজুড়ে রয়েছে হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, মাটির ব্যাংক, পিঠা ভাজার খাঁচ, দইয়ের বাটিসহ ছোট-বড় নানা রকমের পাত্র। একাধিক বয়স্ক নারী-পুরুষ কারিগররা তাদের নিজ হাতে মাটি দিয়ে তৈরি করে শিল্পকর্মগুলো খুব যত্নসহকারে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ তাতে রঙের কাজও করছেন। আর তাদের সাহায্য করছে পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চারা। এ সময় কথা হয় গোপল চন্দ্র পালের সঙ্গে তিনি এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। অল্প কাজ করতেই হাঁপিয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ বছর আগেও এ উপজেলায় মৃৎশিল্পের দাপট ও কদর ছিল। তখন উপজেলার অনেক পরিবার মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করত। ওই সময় গোটা উত্তরাঞ্চলে চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্র সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে এ উপজেলায় ধাপ এলাকার পাঁচ-সাত ঘর পরিবার মৃৎশিল্পের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আগের মতো চাহিদা আর পারিশ্রমিকের ন্যায্যমূল্য না থাকায় এ পেশার লোকজন অত্যন্ত দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় অন্য পেশায় তেমন খাপ খাওয়াতে পারছেন না তারা। কম লাভ জেনেও শুধু পারিশ্রমিকের আসায় বাপ-দাদার পুরানো ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো মাটি দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি, সরা, কলস, বাসন, মুড়ি ভাজার খোলা, কোলা, ভাটি, পিঠা তৈরির খাঁজ ইত্যাদি।

তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী পাল বলেন, আগের তুলনায় মাটির হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা কম। কম তৈরি করছেন, বিক্রিও কম। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ কাজ করে রোজগারের টাকা বাঁচিয়ে তিনি তার এক কন্যাসন্তানকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করিয়েছেন। এখন অর্থের অভাবে পরবর্তী শিক্ষা শেষ করাতে পারবেন কি না তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি কিংবা স্থানীয় মেয়র-কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অমিল চন্দ্র পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, জন্ম থেকেই তিনি এ পেশায় জড়িত আছেন। বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রাখতেই তারা এ পেশাকে আঁকড়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, আগে কলাগাছের পাতা দিয়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্র পোড়ানো হতো। কিন্তু এখন তা আর পাওয়া যায় না। কাঠের গুঁড়া দিয়ে তাদের পোড়ানোর কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। তা ছাড়া যে মাটি এক হাজার টাকায় কিনত বর্তমানে সেই মাটি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। শুধু বাড়েনি কুমোরদের পারিশ্রমিক। এখন তাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। এই কাজে হাড়ভাঙা খাটুনি অথচ আয় নামমাত্র। খরচ বাদ দিয়ে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে খেয়েপরে বেঁচে আছেন। পরবর্তী বংশধরদের জন্য যে কিছু রেখে যাবেন, সে ব্যবস্থাও নেই তাদের। সন্তানরা এখন শিক্ষিত হয়ে এ পেশাকে পরিবর্তন করে জড়িয়ে যাচ্ছে অন্য পেশায়। তারপরও তারা তাদের এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন।

কথা হয় ইবুতি মোহন পালের স্ত্রী চায়নার সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজের এলাকায় মৃৎশিল্প তৈরির মাটি না পাওয়ায় বগুড়ার মাটিডালি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে প্রতি ট্রাকের খরচ হিসেবে আট হাজার টাকা দিতে হয়। তবে পণ্যের চাহিদা কম থাকায় এনজিও থেকে বেশি সুধে ঋণ নিয়ে তারা কোনোমতে নুনভাত খেয়ে বেঁচে আছেন।

শ্রী অমিল চন্দ্র পালের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, তিনি কাজীপুর সরকারি মুনসুর আলী কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র। তার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে তার পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন। লেখাপড়া শেষ করে বাপ-দাদার পেশাকে বাদ দিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চান।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com