বিশ্ব ফুটবলের অনেক রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলে ৩৬ বছর পর দেশটিকে বিশ্বকাপও জিতিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব ফুটবলের অনেক রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলে ৩৬ বছর পর দেশটিকে বিশ্বকাপও জিতিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়ার পরই অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন মেসি। ১৯ জুলাই হওয়া ফাইনালের দুই দিন পরেই নিজ শহর রোসারিওতে ফিরে লিখে ফেলেন চিঠিও।
সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বেশ মানসিক কষ্টে ভুগেছেন মেসি।
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরুর আগেই নিজেকে ভবিষ্যতের মহাতারকা হিসেবে জানান দিয়েছিলেন মেসি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন সে বছরই। তাই ১৮ বছর বয়সেই জাতীয় দলের পক্ষে অভিষেক ঘটে তাঁর। ২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে অলিম্পিকে আর্জেন্টিনাকে স্বর্ণপদক জেতানোর পর থেকেই উত্থান শুরু তাঁর। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালে প্রীতি ম্যাচে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করা মেসি অনেক আগেই হয়েছেন দেশসেরা। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে তাঁর গোল ১২৫টি, যা ফুটবল ইতিহাসেই দ্বিতীয় সর্বাধিক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল করার দিক থেকে তাঁর ওপরে শুধু পর্তুগালের ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪৬)। এ নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের অংশ হওয়াকে আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সব সময় ভালোবেসে যাব। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; আমার দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তা ছাড়া পেছনে বেশ কিছু তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এই জায়গায় থাকার যোগ্য।’
২০২২ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। আর সে কারণেই ঘুচে গেছে তাঁর ক্যারিয়ারের সব অপ্রাপ্তি। চিঠির শেষ দিকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি, ‘আমার সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে আপনাদের স্বপ্নের মতো কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি—এই প্রশান্তি ও গর্ব নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে এই সবকিছুর অভিজ্ঞতা লাভ করা সত্যিই অসাধারণ ছিল। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি! আমাকে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে সৃষ্টি করার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।’