সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

থাইরয়েড মানসিক সমস্যা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে
  • অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই থাইরয়েডের সমস্যার প্রথম বা একমাত্র লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে মানসিক উপসর্গ। উদ্বেগ বা বিষণ্নতা—দুটোই থাইরয়েডের সমস্যা থেকে হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যে থাইরয়েডের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন ডা. শাহজাদা সেলিম
শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন ও মানসিক স্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাইরয়েডগ্রন্থি। ছোট প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থিটির অবস্থান আমাদের গলায়।  মূলত দুটি হরমোন তৈরি করে এটি—টি৩ ও টি৪। দুটি হরমোন আমাদের শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার, যেমন সেরোটোনিন, ডোপামিন ও নরএড্রেনালিনের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে থাইরয়েড হরমোন।
হাইপোথাইরয়েডিজমথাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন অস্বাভাবিক পরিমাণ কমে গেলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এর প্রভাবে দেহের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমের গতি কমে যায়।

বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন : হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত রোগীদের মানসিক সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বিষণ্নতা। এর উপসর্গের মধ্যে আছে—মনমরা ভাব, নিদ্রাহীনতা, আগ্রহহীনতা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি।
  সামাজিক বিচ্ছিন্নতা : দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা ও কর্মশক্তিহীনতার কারণে অনেক রোগী সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করেন।যথাযথ থাইরক্সিন থেরাপির মাধ্যমে মানসিক উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে যেসব রোগী দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতা বা অন্যান্য উপসর্গে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ঘরানার ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে, সেটি চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

হাইপারথাইরয়েডিজম

হাইপোথাইরয়েডিজমের উল্টো রোগ হাইপারথাইরয়েডিজম। এ ক্ষেত্রে  থাইরয়েড হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণ তৈরি হয়। এই সমস্যা দেখা দিলে দেহের বিপাকক্রিয়া অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে, দেহের প্রতিটি প্রক্রিয়া অতি দ্রুতগতিতে কাজ করতে থাকে। এর ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রও অতি সক্রিয় হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে বেশ কয়েকটি মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন—

উদ্বেগ (Anxiety) ও অস্থিরতা : রোগীরা সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। রাতের ঘুম কমে যায়। হৃৎকম্পন অনুভব করেন,

হৃত্স্পন্দন দ্রুত হতে থাকে।

ইরিটেবিলিটি ও মুড সুইং : অল্পতেই হুট করে কারণ ছাড়াই রেগে যাওয়া বা কান্না করা, আবেগ অতিরিক্ত ওঠানামা করা হাইপারথাইরয়েডিজমের সাধারণ উপসর্গ।

সাইকোসিস বা বিভ্রান্তি : তীব্র হাইপারথাইরয়েড অবস্থায় কখনো কখনো থাইরয়েড সাইকোসিস দেখা যায়, যেখানে রোগী বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশনে ভোগেন।

অ্যান্টিথাইরয়েড ড্রাগ, রেডিওআয়োডিন বা সার্জারির মতো চিকিৎসা শুরু করার পর এই মানসিক উপসর্গগুলো সাধারণত কমে যায়। তবে মানসিক কাউন্সেলিং ও অন্যান্য থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

মানসিক উপসর্গ দেখা দিলে সেটি থাইরয়েড হরমোনজনিত কি না জানা জরুরি। পাশাপাশি চাই সঠিক চিকিৎসা। থাইরয়েডের চিকিৎসার পাশাপাশি তাই মানসিক চিকিৎসারও প্রয়োজন।

উদ্বেগ বা বিষণ্নতা দেখা দিলে অবশ্যই থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করাতে হবে।

থাইরয়েডের সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি মনোচিকিৎসা ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন।

প্রয়োজনে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরিবার ও সামাজিক সহায়তা রোগীর পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবিশেষ থাইরয়েড রোগ শুধু শারীরিক নয়, এটি একটি মন ও দেহের রোগ। তাই চিকিৎসকদের উচিত প্রতিটি থাইরয়েড রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করা, যাতে রোগী পূর্ণাঙ্গ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরে পান।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com