সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

স্বাস্থ্যসেবার বাইরে ৯৫% রোগী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৯ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ কখনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসেনি। যারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছে, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিস-অর্ডারে আক্রান্ত। এসব রোগীর ৪৫.২৬ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

নানামুখী চাপের মুখে মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ব্র্যাকের সহায়তায় ক্যাম্পাসে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করে।

সেখানে সেবা নিতে বা শুধুই দেখতে অনেকে আসছেন। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় সেটিও সম্ভব হয়নি।জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, অর্ধশত রোগীর তথ্য রয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় চিকিৎসা নিয়েছে। আহত ব্যক্তিরা মনে করে, তাদের কোনো মানসিক সমস্যা নেই। জুলাই ফাউন্ডেশন ও সরকারের নেওয়া একাধিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জোবায়ের মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, সিজোফ্রেনিয়া একটি গুরুতর মানসিক রোগ। এই রোগে রোগী নিজে বুঝতে পারে না বা কখনো স্বীকার করে না যে তার কোনো মানসিক রোগ আছে।

সিজোফ্রেনিয়া কেন হয়, তার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূল কারণ হচ্ছে জিনেটিক। মস্তিষ্কে কিছু নিউরোট্রান্সমিটার বা কেমিক্যালের অস্বাভাবিকতা, ঘাটতি বা তারতম্য হলে এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া রোগের উপসর্গ বেশি দেখা দেয়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।

ডা. মো. জোবায়ের মিয়া বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তার অস্বাভাবিকতা, অন্যকে সন্দেহ, হ্যালুসিনেশন হয়। ভ্রান্ত বিশ্বাসের মধ্যে থাকে।  সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের আত্মহত্যা করার ঝুঁকি থাকে, অন্যকে হত্যা করারও ঝুঁকি থাকে। নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা থাকে। এ ছাড়া পড়ালেখা, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত কাজ, অর্থাৎ সব কাজে তার মনোযোগ ও সক্ষমতা কমে যায়।

বছরে ২০ হাজার আত্মহত্যা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে পরিচালিত জরিপ বলছে, দেশে এক লাখ মানুষে ১২ জন আত্মহত্যা করছে। বছরে আত্মহত্যা করছে ২০ হাজার ৫০৫ জন। ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিস-অর্ডারের মতো মানসিক ব্যাধি আত্মহননের প্রবণতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। মা-বাবার বিচ্ছেদ, পারিবারিক সহিংসতা ও ঘরে অনিরাপদ পরিবেশের মতো পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের ঘটনা আরেকটি কারণ।

এ ছাড়া পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার মতো শিক্ষাজনিত চাপে পড়েও অনেকে আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে। সামাজিক চাপ ও বুলিং, অপমান, অবহেলা, একাকিত্ব, নেশা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ইত্যাদিও রয়েছে।

দ্বিমুখী আবেগের রোগ ‘বাইপোলার ডিস-অর্ডার’ : জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, বাইপোলার ডিস-অর্ডার আবেগজনিত একটি মানসিক রোগ। নারী-পুরুষ উভয়েই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষকদলের জরিপ অনুয়ায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের ০.৪ শতাশ, অর্থাৎ প্রতি হাজারে চারজন এ ধরনের রোগে আক্রান্ত।

ডা. মুনতাসীর মারুফ বলেন, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবেগের দুটি পর্যায় থাকে। একটি পর্যায় হচ্ছে ম্যানিয়া বা হাইপোম্যানিয়া। ম্যানিয়া পর্যায়ে ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক আনন্দ-ফুর্তি অথবা বিরক্ত বোধ করে, নিজেকে অতি বিত্তশালী বা ক্ষমতাবান মনে করে, কথা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের তথ্য বলছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৯ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ বিষণ্নতা এবং প্রায় ৫ শতাংশ উদ্বেগজনিত রোগে ভুগছে। অথচ মানসিক সমস্যায় ভোগা রোগীদের ৯২ শতাংশ বিজ্ঞানসম্মত কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায়নি বা নেয়নি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com