জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জোবায়ের মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, সিজোফ্রেনিয়া একটি গুরুতর মানসিক রোগ। এই রোগে রোগী নিজে বুঝতে পারে না বা কখনো স্বীকার করে না যে তার কোনো মানসিক রোগ আছে।
সিজোফ্রেনিয়া কেন হয়, তার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূল কারণ হচ্ছে জিনেটিক। মস্তিষ্কে কিছু নিউরোট্রান্সমিটার বা কেমিক্যালের অস্বাভাবিকতা, ঘাটতি বা তারতম্য হলে এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া রোগের উপসর্গ বেশি দেখা দেয়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।
ডা. মো. জোবায়ের মিয়া বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তার অস্বাভাবিকতা, অন্যকে সন্দেহ, হ্যালুসিনেশন হয়। ভ্রান্ত বিশ্বাসের মধ্যে থাকে। সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের আত্মহত্যা করার ঝুঁকি থাকে, অন্যকে হত্যা করারও ঝুঁকি থাকে। নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা থাকে। এ ছাড়া পড়ালেখা, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত কাজ, অর্থাৎ সব কাজে তার মনোযোগ ও সক্ষমতা কমে যায়।
বছরে ২০ হাজার আত্মহত্যা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে পরিচালিত জরিপ বলছে, দেশে এক লাখ মানুষে ১২ জন আত্মহত্যা করছে। বছরে আত্মহত্যা করছে ২০ হাজার ৫০৫ জন। ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিস-অর্ডারের মতো মানসিক ব্যাধি আত্মহননের প্রবণতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। মা-বাবার বিচ্ছেদ, পারিবারিক সহিংসতা ও ঘরে অনিরাপদ পরিবেশের মতো পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের ঘটনা আরেকটি কারণ।
এ ছাড়া পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার মতো শিক্ষাজনিত চাপে পড়েও অনেকে আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে। সামাজিক চাপ ও বুলিং, অপমান, অবহেলা, একাকিত্ব, নেশা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ইত্যাদিও রয়েছে।
দ্বিমুখী আবেগের রোগ ‘বাইপোলার ডিস-অর্ডার’ : জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, বাইপোলার ডিস-অর্ডার আবেগজনিত একটি মানসিক রোগ। নারী-পুরুষ উভয়েই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষকদলের জরিপ অনুয়ায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের ০.৪ শতাশ, অর্থাৎ প্রতি হাজারে চারজন এ ধরনের রোগে আক্রান্ত।
ডা. মুনতাসীর মারুফ বলেন, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আবেগের দুটি পর্যায় থাকে। একটি পর্যায় হচ্ছে ম্যানিয়া বা হাইপোম্যানিয়া। ম্যানিয়া পর্যায়ে ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক আনন্দ-ফুর্তি অথবা বিরক্ত বোধ করে, নিজেকে অতি বিত্তশালী বা ক্ষমতাবান মনে করে, কথা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের তথ্য বলছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৯ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ বিষণ্নতা এবং প্রায় ৫ শতাংশ উদ্বেগজনিত রোগে ভুগছে। অথচ মানসিক সমস্যায় ভোগা রোগীদের ৯২ শতাংশ বিজ্ঞানসম্মত কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায়নি বা নেয়নি।