ডিমের কুসুম এমন এক খাবার, যা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি ধারণ করে। দুটি ডিম আপনার দৈনিক ভিটামিন ডি-এর চাহিদার ৮২ শতাংশ প্রদান করে। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা একে সুস্থ হাড় ও দাঁতের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য করে তোলে।
ডিম একটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং প্রোটিন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সন্তোষজনক ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস। ডিম সাটাইটি ইনডেক্স নামে একটি স্কেলে উচ্চ স্কোর করে, যা পরিপূর্ণতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে এবং পরবর্তী সময়ে ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়তা করে। ডিম অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে ক্যালরি গ্রহণ কমাতে পারে। নিয়মিত ডিম খাওয়া ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ডিম বয়স্ক লোকদের বিভিন্ন পুষ্টি সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। ডিমে লিউসিন নামক অ্যামিনো এসিড থাকে, যা বয়স্ক লোকদের পেশির কার্যকারিতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ডিমে ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখে।
ডিমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের সুস্থতা রক্ষায় সাহায্য করে। ডিমে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা চোখের স্বাস্থ্য, রেটিনা ফাংশন এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অবক্ষয়জনিত দৃষ্টি প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
সুষম খাদ্য মানসিক চাপ কমানো এবং উন্নত মানসিক স্বাস্থ্যচর্চায় ভূমিকা রাখতে পারে। সেরোটোনিন ট্রিপটোফান থেকে সংশ্লেষিত হয়ে স্নায়ুতন্ত্রের চাপ ও উদ্বেগ কমাতে পারে। ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ অত্যন্ত ট্রিপটোফানে সমৃদ্ধ। খাদ্য হিসেবে নিয়মিত ডিম গ্রহণে, ডিমে বিদ্যমান ভিটামিন বি২, বি১২, কোলিন, আয়রন ও ট্রিপটোফানের সংমিশ্রণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ঝুঁকি ও বিষণ্নতার লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমের সহায়ক।