গাইবান্ধা : সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে গৃহবধূ রোজিনা বেগম ওরফে আজেনার (৪৫) মৃত্যুর খবরটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, গত এক সপ্তাহে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন অ্যানথ্রাক্স ভাইরাস উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ১০টি গবাদি পশু মারা গেছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার বেলকার কিশামত গ্রামে একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করা হয়।এ কাজে অংশ নেওয়া ১১ জনের শরীরে কয়েক দিন পর ফোসকা, ঘা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাঁরা চিকিৎসকের মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক অরবিন্দ কুমার মোদক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পীরগাছা উপজেলার ১২ জনের নমুনা পরীক্ষায় আটজন ও মিঠাপুকুরে চারজনের নমুনা পরীক্ষায় একজন অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া কাউনিয়া উপজেলার পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট এলে সেখানেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে কি না বোঝা যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। উপজেলাগুলোতে আমাদের স্বাস্থ্য সহকারীদের নমুনা সংগ্রহের প্রশিক্ষণ দিয়েছে আইইডিসিআর। আক্রান্তের খবর পেলেই তারা নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরকে পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে অ্যানথ্রাক্স সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার কাজও অব্যাহত রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।’
মেহেরপুর : গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে উপজেলায় ৪৭৫ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গবাদি পশুর ভ্যাকসিন ও সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম না থাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার কাজিপুর, মটমুড়া, সাহারবাটি ও বামন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের ক্ষত দেখা দিয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে কোনো পশু আক্রান্ত হলে তা জবাই করে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে মাংস। কম দামে আকৃষ্ট হয়ে অনেকে ছুটে যাচ্ছে মাংস কিনতে। আক্রান্ত পশুর মাংস কাটা এবং রান্নার সময় সাবধানতা না থাকায় জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে মানবদেহে।
গাংনী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে উপজেলার আটজন রোগী হাসপাতালে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
কাজীপুর গ্রামের আফাজউদ্দিন জানান, তিনি বাজারে মাংসের ব্যবসা করেন। রোগাক্রান্ত গরুর মাংস নাড়াচাড়া করার কারণে তাঁর শরীরে প্রথমে ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে পরীক্ষা করে অ্যানথ্যাক্স ধরা পড়ে।
হাড়াভাঙ্গা গ্রামের কামাল হোসেন জানান, তিনি বাজার থেকে গরুর মাংস এনে তা কাটাবাছা করার কারণে তাঁর শরীরে ছোট ছোট ঘায়ের মতো হয়। পরে পরীক্ষা করে জানতে পারেন অ্যানথ্রাক্স হয়েছে।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোত্তালেব আলী বলেন, গবাদি পশুকে শতভাগ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে এলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব কমে যাবে। তবে জনবল সংকটের কথা বলছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন তামজিদ হাসান তুরাগ, উত্তরাঞ্চল; অমিতাভ দাশ হিমুন, গাইবান্ধা; ইয়াদুল মোমিন, মেহেরপুর]