পাতলা, পুরু, কোমল বিভিন্ন কাপড়ে বাটিক করা হয়। তবে খাঁটি সুতি কাপড় বাটিকের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ ছাড়া সিল্ক, সিনথেটিক, মসলিন, গরদ, লিনেন, অ্যান্ডি কটন, তসর, খাদি, জর্জেট কাপড়েও বাটিক করা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশে তসর ও জর্জেটে বাটিকের কাজ বন্ধ।
মোমের বিপরীতে রং দিয়ে হাতের কৌশলগত নকশায় গড়া প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র বাটিক। সর্বজনীন ফ্যাশনেবল এই কাপড়ের পোশাক বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বাটিকের বর্তমান হালচাল নিয়ে লিখেছেন সাদিয়া এশা
পাতলা, পুরু, কোমল বিভিন্ন কাপড়ে বাটিক করা হয়। তবে খাঁটি সুতি কাপড় বাটিকের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ ছাড়া সিল্ক, সিনথেটিক, মসলিন, গরদ, লিনেন, অ্যান্ডি কটন, তসর, খাদি, জর্জেট কাপড়েও বাটিক করা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশে তসর ও জর্জেটে বাটিকের কাজ বন্ধ।

বাটিক তৈরির কথা
মোম বাটিক হোক কিংবা ক্র্যাক বাটিক—প্রতিটি বাটিকই একেকটি মৌলিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়।
রাজধানীর ঢাকা নিউমার্কেট, বনলতা কাঁচাবাজার মার্কেট, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, বান্টিবাজার আয়েশা সামাদ শপিং মল, পুরান ঢাকার ইসলামপুর, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, মিরপুরের পল্লবী, সাভার জিরানী বাজার, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, কুমিল্লার কমলপুর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ, যশোরের চৌগাছা এবং রাজশাহীর সিল্ক বাটিক কারখানায় বাটিক তৈরি হয়।

বাটিকে বৈচিত্র্য
বিচিত্র নকশা ও পদ্ধতি বাটিকে এনে দিয়েছে বর্ণিল
রূপ। নারায়ণগঞ্জের তাকওয়া অ্যাপারেলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মো. বশিরুল ইসলাম জানান, বাটিক পুরোটাই হাতের খেলা। নিজস্ব মেধা দিয়ে কাঠের ব্লক কাটা হয়, যা পরবর্তী সময়ে দারুণ নকশার রূপদান করে।

বাটিক শুধু একটি শিল্প নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যও। মোমের তৈরি মোমবাটিক, সবজি দিয়ে করা ফুল-পাতার নকশার সবচেয়ে আরামদায়ক ভেজিটেবল বাটিক, ব্লক বাটিক, ক্র্যাক বাটিক, মার্বেল বাটিক, ধূসর বা অ্যাশ বাটিকের নকশা মন কাড়ছে আধুনিক ফ্যাশনপ্রেমীদেরও। এ ছাড়া কাপড় চেপে ছোট-বড় ঝুঁটি ও নানা কৌশলে ভাঁজ করে বেঁধে রং প্রতিরোধ করে বাঁধুনি বাটিক, চুনরি বাটিক, তুলি বাটিক, টাইডাই বাটিক, মাকড়সা বাটিক, শিবুরি বাটিক, প্রুশিয়ান বাটিক, ইয়োগ বাটিক ও হ্যান্ড প্রিন্ট বাটিক তৈরি করা হয়। পোশাকে নানা আলো-আঁধারি রং, এমব্রয়ডারি, লেজিং, কুশি কাঁটার কাজ, কাঠ, পুঁতি, কড়ি, ডলার ও পাথরের কাজ করে পোশাকে দেওয়া হয় বৈচিত্র্যময় রূপ। বশিরুল ইসলাম আরো জানান, বাটিকে হাতে সেলাইয়ের কাজ বেশ জনপ্রিয়। হ্যান্ড তুলি বাটিক বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতা
প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত গরম পরিবেশে টিনের ঘরে বালুর ওপর গলিত মোম দিয়ে এবং ছোট ছোট ঝুঁটি বেঁধে অসংখ্য শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমের ফলাফল বাটিক। তবে ঐতিহ্যবাহী এই পদ্ধতির বাইরে বর্তমানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সহায়তায় আধুনিক পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম পরিশ্রমে স্কিন প্রিন্ট বাটিক, হাতে তৈরি চন্ডি ডিজাইনে ডিজিটাল প্রিন্ট বাটিক, রং তুলে উল্টো পদ্ধতিতে ডিসচার্জ বাটিক করা হয়। বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা বাটিকে যোগ করেছে আধুনিক রূপ। কিছু অংশ বাটিক আর কিছু অংশ ডিজিটাল প্রিন্ট এমন নকশার বাটিক মার্কেটে অনেক চাহিদা।
বাটিক পোশাক সবার
বাটিকের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ও নকশায় শিশু থেকে বয়স্ক সবার জন্য তৈরি হয় বাহারি পোশাক। মেয়েদের শাড়ি, কামিজ, ওড়না, টু-পিস, ওয়ান-পিস, কুর্তি, স্কার্ট,