সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আংটি আনে আভিজাত্য

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

সাজের ছোট্ট অনুষঙ্গ আংটি। এটিই ফ্যাশনে-স্টাইলে আনে আভিজাত্য। ছোট-বড় আংটির সঙ্গে এখন চলছে হাতভরা আংটির চলও। বিভিন্ন নকশা ও ম্যাটেরিয়ালের আংটির খোঁজ নিয়েছেন আতিফ আতাউর

দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজকে আংটি উপহার দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা সেই ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল। জানা যায়, জর্জিনার হাতে শোভা পাওয়া এই আংটির দাম এক কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা।বাগদানের আংটি মানেই বিশেষ কিছু। বাগদানের আংটি সাধারণ আংটির থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এটি সাধারণত হলুদ কিংবা সাদা সোনায় বানানো হয়। আকৃতিতে ছোট এবং পরতে আরামদায়ক হয়।

সাধারণত বাগদত্তা প্রতিদিন পরেন বাগদানের আংটি। আরামদায়ক করতেই এই আংটির আকৃতি আলাদা করা হয়। 

আংটি আনে আভিজাত্য
আংটির নকশা ও আকৃতিতে এসেছে নতুনত্ব 

প্রাচীন মিসরীয়, গ্রিক ও রোমান সভ্যতা থেকে বাগদানের আংটির উত্পত্তি। গয়না হিসেবে আংটি পরার ইতিহাসও অনেক পুরনো।

খ্রিস্টপূর্ব হাজার হাজার বছর আগে থেকে মিসরীয়রা আংটি ব্যবহার করত। রোমান ও মধ্যযুগীয় ইউরোপে সোনার আংটিতে নথিপত্রে মোমের সিল মারা হতো। আংটি ছিল এক ধরনের পরিচয় ও ক্ষমতার চিহ্ন। রোমান যুগ থেকে বিয়ের প্রতীক হিসেবে আংটির প্রচলন শুরু হয়। ইউরোপে মধ্যযুগে এটি ভালোবাসা এবং চিরস্থায়ী বন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
এনগেজমেন্ট রিং ও ওয়েডিং রিং এই ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা। আধুনিক যুগে আংটি হয়ে গেছে ফ্যাশন, ব্যক্তিত্ব আর স্টাইলের প্রকাশ। 

আংটি আনে আভিজাত্য
এক আঙুলে তিনটি আংটি পরেছেন অভিনেত্রী দীঘি

আগে অনামিকায় বেশি পরা হতো আংটি। এখন পরা হচ্ছে হাতের সব আঙুলেই। ছোট্ট পাথর, মুক্তা বসানো সোনার আংটির সঙ্গে যোগ হয়েছে কাঠ, পিতল, পুঁতি, মিনার নকশার আংটি। একসময় সোনা কিংবা হীরার আংটিতেই বেশি আগ্রহ ছিল মেয়েদের। আজকাল সোনা ও হীরার বাইরেও নানা উপাদানে তৈরি হচ্ছে আংটি। ডিজাইনেও এসেছে নতুনত্ব। অ্যান্টিক, ব্রোঞ্জ, রুপা, পাথর, পুঁতি, গোল্ড প্লেটেড, ডায়মন্ড কাট, অক্সিডাইজড, বেত ও কাঠের তৈরি আংটি পাওয়া যাবে বিভিন্ন দোকানে। আংটির সেই পুরনো ধারার নকশাও খুব বেশি নেই। বদলে গেছে আংটির আগের আকৃতিও। ত্রিভুজাকৃতি, ডিম্বাকৃতি, গোলাকার, চৌকোনা ও গম্বুজাকৃতির আংটি পাবেন। গাউছিয়া মার্কেটের রত্না জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এখন ব্রোঞ্জ, রুপা, অ্যান্টিক, সোনার প্রলেপ দেওয়া এবং ডায়মন্ড কাটের আংটির ওপর পাথর ও মিনা বসিয়ে কারুকাজ করা হচ্ছে। কোনোটায় রুবি কিংবা পান্না বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনোটায় রঙিন পাথর ব্যবহার করে নতুনত্ব আনা হয়েছে।’

আংটি আনে আভিজাত্য
হাতের সাজে বড় আংটি একটিই যথেষ্ট।মডেল : মৌসুমী মৌ, ছবি : এটুজেড

রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন জানালেন, এখন অনেকেই পাঁচ আঙুলে আংটি পরছেন। কেউ এগিয়ে একই আঙুলে একাধিক আংটি পরছেন। তবে হাতের আঙুলের সঙ্গে মানানসই আংটি পরাই শ্রেয়। আঙুলের গড়ন খাটো হলে স্কয়ার, গোলাকার অথবা এক ফুলবিশিষ্ট আংটি পরতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আংটিগুলোর নকশা কিছুটা সমতল হলে মানায় ভালো। চিকন ও লম্বা গড়নের আঙুলে সব ধরনের আংটি মানানসই। বড় আংটি এক আঙুলে একটিই পরুন। হাত রোগা এবং আঙুল ছোট হলে বড় আংটি এড়িয়ে চলুন। ছোট আকৃতির সমতল নকশার আংটি বেছে নিন। কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেসের স্বত্বাধিকারী লায়লা খায়ের কনক বলেন, ‘ট্রেন্ডকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা বিভিন্ন নকশার আংটি নিয়ে আসি। এখন অ্যান্টিক নকশা করা আংটির বেশি চাহিদা। এর সঙ্গে এখন পিতল, রুপা ও সোনার প্রলেপ দেওয়া আংটি বেশি চলছে।’

হাতের সাজে যাঁরা আরেকটু ভিন্নতা আনতে চান, তাঁরা আংটির আদলে তৈরি রতনচুর পরতে পারেন। মূলত আংটি ও ব্রেসলেটের সঙ্গে শিকলের যুগলবন্দি রূপ হচ্ছে রতনচুর। ব্রেসলেটের সঙ্গে হাতের এক থেকে পাঁচ আঙুলে আংটির সঙ্গে টানা শিকলের সংযোগ ঘটানো যায় রতনচুরে। সাধারণ নকশার রতনচুর নিত্যদিন পরতে পারেন। বিয়ে বা পার্টিতে পরার জন্য ভারী কাজ করা রতনচুর বেছে নিন।

আংটি আনে আভিজাত্য
যারা আংটির বদলে ভিন্ন কিছু পরতে চান তারা রতনচুর বেছে নিতে পারেন। ছবি : সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি

দরদাম

দোকানে উপাদানভেদে আংটির দাম পড়বে ২০০ থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। রঙ বাংলাদেশ, আড়ং, অঞ্জন’স ও নবরূপায় বিভিন্ন উপাদানের আংটির দাম পড়বে ৫০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। পাথর ও ডায়মন্ড কাটের আংটির দাম পড়বে এক হাজার ৪৫০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ব্রোঞ্জের আংটি পাবেন ১০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের মধ্যে পাবেন ঢাকার নিউমার্কেট, হোসেনিয়া মার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটে। ব্রোঞ্জ, পাথর, কাঠ ও পুঁতির আংটিগুলো পাবেন ১০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে। রুপার আংটি পাবেন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।

কোথায় পাবেন

বিভিন্ন শপিং মলের গয়নার দোকানে ঢু মারলে নিশ্চিত পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের আংটি। আড়ং, অঞ্জন’স, বিশ্বরঙ, যাত্রা, খুত, অরণ্য, মায়াসির, মাদুলী, পিরান, রঙ বাংলাদেশ, কে ক্রাফট, বাংলার মেলা, নগরদোলা, নবরূপা, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত স্কয়ার, কর্ণফুলী মার্কেট, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ছাড়াও বিভিন্ন শপিং সেন্টারে পাবেন আংটি। এ ছাড়া ঢাকার নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক মার্কেট, হোসেনিয়া মার্কেট, নুরজাহান মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারের গয়না ও প্রসাধনী পণ্যের দোকানে পাবেন এই আংটিগুলো। অনলাইন মার্কেটগুলোও এখন গয়নায় সয়লাব। শারদ, চিঠি, আইডিয়াস, লোটাস ভেঞ্চারসহ বিভিন্ন অনলাইন শপেও পাবেন আংটির সংগ্রহ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com