সাজের ছোট্ট অনুষঙ্গ আংটি। এটিই ফ্যাশনে-স্টাইলে আনে আভিজাত্য। ছোট-বড় আংটির সঙ্গে এখন চলছে হাতভরা আংটির চলও। বিভিন্ন নকশা ও ম্যাটেরিয়ালের আংটির খোঁজ নিয়েছেন আতিফ আতাউর

প্রাচীন মিসরীয়, গ্রিক ও রোমান সভ্যতা থেকে বাগদানের আংটির উত্পত্তি। গয়না হিসেবে আংটি পরার ইতিহাসও অনেক পুরনো।

আগে অনামিকায় বেশি পরা হতো আংটি। এখন পরা হচ্ছে হাতের সব আঙুলেই। ছোট্ট পাথর, মুক্তা বসানো সোনার আংটির সঙ্গে যোগ হয়েছে কাঠ, পিতল, পুঁতি, মিনার নকশার আংটি। একসময় সোনা কিংবা হীরার আংটিতেই বেশি আগ্রহ ছিল মেয়েদের। আজকাল সোনা ও হীরার বাইরেও নানা উপাদানে তৈরি হচ্ছে আংটি। ডিজাইনেও এসেছে নতুনত্ব। অ্যান্টিক, ব্রোঞ্জ, রুপা, পাথর, পুঁতি, গোল্ড প্লেটেড, ডায়মন্ড কাট, অক্সিডাইজড, বেত ও কাঠের তৈরি আংটি পাওয়া যাবে বিভিন্ন দোকানে। আংটির সেই পুরনো ধারার নকশাও খুব বেশি নেই। বদলে গেছে আংটির আগের আকৃতিও। ত্রিভুজাকৃতি, ডিম্বাকৃতি, গোলাকার, চৌকোনা ও গম্বুজাকৃতির আংটি পাবেন। গাউছিয়া মার্কেটের রত্না জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এখন ব্রোঞ্জ, রুপা, অ্যান্টিক, সোনার প্রলেপ দেওয়া এবং ডায়মন্ড কাটের আংটির ওপর পাথর ও মিনা বসিয়ে কারুকাজ করা হচ্ছে। কোনোটায় রুবি কিংবা পান্না বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনোটায় রঙিন পাথর ব্যবহার করে নতুনত্ব আনা হয়েছে।’

রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন জানালেন, এখন অনেকেই পাঁচ আঙুলে আংটি পরছেন। কেউ এগিয়ে একই আঙুলে একাধিক আংটি পরছেন। তবে হাতের আঙুলের সঙ্গে মানানসই আংটি পরাই শ্রেয়। আঙুলের গড়ন খাটো হলে স্কয়ার, গোলাকার অথবা এক ফুলবিশিষ্ট আংটি পরতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আংটিগুলোর নকশা কিছুটা সমতল হলে মানায় ভালো। চিকন ও লম্বা গড়নের আঙুলে সব ধরনের আংটি মানানসই। বড় আংটি এক আঙুলে একটিই পরুন। হাত রোগা এবং আঙুল ছোট হলে বড় আংটি এড়িয়ে চলুন। ছোট আকৃতির সমতল নকশার আংটি বেছে নিন। কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেসের স্বত্বাধিকারী লায়লা খায়ের কনক বলেন, ‘ট্রেন্ডকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা বিভিন্ন নকশার আংটি নিয়ে আসি। এখন অ্যান্টিক নকশা করা আংটির বেশি চাহিদা। এর সঙ্গে এখন পিতল, রুপা ও সোনার প্রলেপ দেওয়া আংটি বেশি চলছে।’
হাতের সাজে যাঁরা আরেকটু ভিন্নতা আনতে চান, তাঁরা আংটির আদলে তৈরি রতনচুর পরতে পারেন। মূলত আংটি ও ব্রেসলেটের সঙ্গে শিকলের যুগলবন্দি রূপ হচ্ছে রতনচুর। ব্রেসলেটের সঙ্গে হাতের এক থেকে পাঁচ আঙুলে আংটির সঙ্গে টানা শিকলের সংযোগ ঘটানো যায় রতনচুরে। সাধারণ নকশার রতনচুর নিত্যদিন পরতে পারেন। বিয়ে বা পার্টিতে পরার জন্য ভারী কাজ করা রতনচুর বেছে নিন।

দরদাম
দোকানে উপাদানভেদে আংটির দাম পড়বে ২০০ থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। রঙ বাংলাদেশ, আড়ং, অঞ্জন’স ও নবরূপায় বিভিন্ন উপাদানের আংটির দাম পড়বে ৫০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। পাথর ও ডায়মন্ড কাটের আংটির দাম পড়বে এক হাজার ৪৫০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ব্রোঞ্জের আংটি পাবেন ১০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের মধ্যে পাবেন ঢাকার নিউমার্কেট, হোসেনিয়া মার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটে। ব্রোঞ্জ, পাথর, কাঠ ও পুঁতির আংটিগুলো পাবেন ১০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে। রুপার আংটি পাবেন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।
কোথায় পাবেন
বিভিন্ন শপিং মলের গয়নার দোকানে ঢু মারলে নিশ্চিত পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের আংটি। আড়ং, অঞ্জন’স, বিশ্বরঙ, যাত্রা, খুত, অরণ্য, মায়াসির, মাদুলী, পিরান, রঙ বাংলাদেশ, কে ক্রাফট, বাংলার মেলা, নগরদোলা, নবরূপা, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত স্কয়ার, কর্ণফুলী মার্কেট, গুলশান ডিসিসি মার্কেট ছাড়াও বিভিন্ন শপিং সেন্টারে পাবেন আংটি। এ ছাড়া ঢাকার নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক মার্কেট, হোসেনিয়া মার্কেট, নুরজাহান মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারের গয়না ও প্রসাধনী পণ্যের দোকানে পাবেন এই আংটিগুলো। অনলাইন মার্কেটগুলোও এখন গয়নায় সয়লাব। শারদ, চিঠি, আইডিয়াস, লোটাস ভেঞ্চারসহ বিভিন্ন অনলাইন শপেও পাবেন আংটির সংগ্রহ।