আপনার বার্তায় দু’টি ভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম একসাথে এসেছে— শেরশাহ এবং ইবনে বতুতা।
এরা সম্পূর্ণ আলাদা সময় ও অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
আসল নাম: ফারিদ খান সুরি।
জন্ম: ১৪৭২ সালের দিকে, সাসারাম (বর্তমান বিহার, ভারত)।
তিনি আফগান সুরি বংশের ছিলেন।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতান হন (১৫৪০–১৫৪৫)।
শাসনকালে তিনি অনেক প্রশাসনিক সংস্কার আনেন, যেমন—
রুপিয়া মুদ্রা প্রচলন (যার প্রভাব আজও বিদ্যমান “রুপি” মুদ্রায়)।
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড সংস্কার ও সম্প্রসারণ।
রাজস্ব ব্যবস্থা ও ডাকব্যবস্থা উন্নত করেন।
১৫৪৫ সালে কালিঞ্জরের যুদ্ধে কামান বিস্ফোরণে মারা যান।
পূর্ণ নাম: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-লাওয়াতি আল-তাঞ্জি।
জন্ম: ১৩০৪ সালে, তাঞ্জিয়ার (মরক্কো)।
তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত ভ্রমণকারী ও পর্যটক।
প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বহু দেশ ভ্রমণ করেন।
ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, মলয়েশিয়া, চীন পর্যন্ত তাঁর ভ্রমণ বিস্তৃত ছিল।
দিল্লিতে সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের দরবারে কয়েক বছর কাজও করেন।
তাঁর ভ্রমণকাহিনী “রিহলা” (Rihla) নামে পরিচিত।
তাই, শেরশাহ সুরি ছিলেন দিল্লির শাসক আর ইবনে বতুতা ছিলেন একজন ভ্রমণকারী—
দুজনের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, শুধু ইসলামি ইতিহাসে উভয়ের অবদান ও পরিচিতি আছে।