এ দেশের বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পের শুরুটা হয়েছে গুরুশিল্পীদের হাত ধরে। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসানের মতো বরেণ্য শিল্পীরা। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী প্রচ্ছদকে নিয়ে গেছেন উচ্চ আসনে। এমন এক সময় ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সব বইয়ের প্রচ্ছদ করা হয়েছে কাইয়ুম চৌধুরীর হাতে।
আমাদের মাস্টার শিল্পীরা প্রায় সবাই কিছু না কিছু প্রচ্ছদ করেছেন। সেই সময় প্রচ্ছদ করার আগে শিল্পীকে পাণ্ডুলিপি দেওয়া হতো। পাণ্ডুলিপি পড়ে শিল্পী ও লেখকের হতো আলোচনা। তারপর শিল্পী আঁকতে শুরু করতেন।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী আবদুল মান্নান, প্রচ্ছদশিল্পী সমর মজুমদার ও শিল্পী জাহিদ মুস্তফা। ৭১ জন নবীন শিল্পীর প্রচ্ছদের সঙ্গে এই তিন গুণী শিল্পীর প্রচ্ছদও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। গ্যালারিতে প্রবেশ করেই মনে হবে দেয়ালজুড়ে বই ঝোলানো। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’, জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’, হুমায়ূন আহমেদের ‘অপেক্ষা’, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ঝর্ণা’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ স্থান করে নিয়েছে দেয়ালে। প্রচ্ছদচিত্র আছে কিছু ইংরেজি বইয়েরও। পুরনো এই গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের প্রচ্ছদগুলো নতুন। কাছে গেলেই বোঝা যায়, এগুলো নতুন শিল্পকর্ম। সব মিলিয়ে সুন্দর আয়োজন। বলা চলে, প্রচ্ছদশিল্পের পুনর্জাগরণ। সুন্দর এই আয়োজনে ছবি নির্বাচনে আরো একটু যত্নবান হলে প্রদর্শনীর গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পেত। নতুন একটি বিষয় নিয়ে আয়োজন হিসেবে সেটা উবে যায়। প্রতিবছর এমন আয়োজন হোক—এই কামনা।