সকালবেলার সূর্য সবে উঁকি দিয়েছে। সূর্যরশ্মি তখনো কোমল, রোদে নেই গা-ঝাঁজানো তেজ। সেই নরম আলো এসে মিশেছে উজিরপুরের সাতলা বিলে। অসংখ্য শাপলা সেই বিলের বুকজুড়ে পানিতে ভেসে আছে।টুকটুকে লাল রং। হালকা বাতাসে বিলের জলে ঢেউ খেলছে, আর সেই ঢেউয়ের সঙ্গে ফুলগুলো যেন নেচে উঠছে। কোথাও আবার সকালের হালকা কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থেকে লাল শাপলা মৃদু হাসি ছড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যে শাপলার ফাঁক গলে দল বেঁধে সাঁতরে বেড়ায় হাঁস।
স্থানীয় কৃষক রণজিত দাস নৌকা চালিয়ে পর্যটকদের নিয়ে যান শাপলার ভেতরে।হাসতে হাসতে বললেন, প্রতিদিনই মানুষ আসে। কেউ ছবি তোলে, কেউ ফেসবুকে লাইভ করে।এই শাপলা বিল নিয়ে কাজ করেছেন পর্যটন সংগঠক আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, আগে এখানে আমন ধান ছাড়া কিছু চাষ হতো না। বছরের বেশির ভাগ সময় বিলজুড়ে পানি থাকত, প্রাকৃতিকভাবেই জন্মাত শাপলা। স্থানীয় দিনমজুররা সেই শাপলা কেটে শহরে বিক্রি করত। কিন্তু জমির মালিকরা কোনো লাভ পেতেন না। কয়েক বছর ধরে তাঁরা মাছ চাষের জন্য ঘের বানাতে গিয়ে শাপলার কন্দ উপড়ে ফেলছেন। ফলে শাপলা কমে গেছে।
তিনি জানান, বিলাঞ্চলের কালবিলা, মুড়িবাড়ি, পূর্ব সাতলা, হারতাসহ অনেক জমি এখনো খাস খতিয়ানভুক্ত। কিন্তু এসব জমি এখন দখল হয়ে মাছের ঘেরে পরিণত হচ্ছে। সরকার চাইলে সেখানে শাপলার পরিবেশ আবার তৈরি করতে পারে।উজিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, পটিবাড়ি এলাকায় বেড়া দিয়ে শাপলা সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে মাছ চাষের ফলে মুড়িবাড়িতে আগের চেয়ে শাপলা একটু কমেছে। তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকদের বোঝানো হচ্ছে শাপলার মূল উপড়ে না ফেলে মাছ চাষ করতে। তাতে এই সময়টাতে সাতলার বিলে শাপলা ঘিরে পর্যটন গড়ে উঠবে। অন্য সময় কৃষকরা মাছ চাষ করে লাভবান হবেন।’