এসব প্রতিবন্ধকতা নিয়ে শিল্পীদের নীরবতা কেন? সাকিবের জবাব, ‘শিল্পীদের কাজ হলো শিল্প সৃষ্টি করা; গান করবে, নাচ করবে, ছবি আঁকবে। এর বেশি আর কী করার আছে? হ্যাঁ, যখন পরিস্থিতি একদম এক্সট্রিম পর্যায়ে যায়, যেমন ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ কিংবা ধরুন এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—এসবে শিল্পীরা যাঁর যাঁর মতো করে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে শিল্পীরা কী করবেন? ফেসবুকে কিছু বললেও এখন একদল না বুঝেই তেড়ে আসে, লাফিয়ে ওঠে। এ জন্য কিছু বলতেও ইচ্ছা করে না এসব প্রসঙ্গে।’বছরজুড়ে কনসার্টের ব্যস্ততা লেগে থাকে ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর। তারাও এখন খুব কমই শো করছে। দলটির ভোকাল জুনায়েদ ইভান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এ নিয়ে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু অস্থিতিশীল। হয়তো সে কারণে প্রশাসন অনুমতি দিচ্ছে না। আমাদের কাছে প্রায়ই কনসার্টের প্রস্তাব আসে; কিন্তু আয়োজকরা শুধু বলেন, প্রশাসনের অনুমতি পেলে শো হবে। অর্থাৎ আয়োজক কিন্তু আছে, তারা শো করতেও চায়। কেবল পুলিশের পারমিশন ও নিরাপত্তার বিষয়টা ঠিক হলেই হতো। দেখুন, বিশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে কনসার্টের অনুমতি দেওয়া হয় না। অথচ রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ অহরহ হচ্ছে। সেগুলোতে আরো বেশি বিশৃঙ্খলা হয়। আমরা যাঁরা গান করি, যারা গান শোনে, কনসার্ট তো আমাদের অধিকার। অন্যান্য বছর এ রকম সময়ে বিভিন্ন ব্যান্ডের হাতে ১০-১৫টি শো থাকত, অথচ এখন নেই বললেই চলে। প্রশাসনের প্রতি আমার আহবান থাকবে, তারা যেন নিরপেক্ষ থেকে কনসার্টের বিষয়গুলো বিবেচনা করে।’
জয় শাহরিয়ার নিজে যেমন গান করেন, আবার তাঁঁর প্রতিষ্ঠান আজব কারখানা থেকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনেক দিন ধরে তিনিও নতুন শো নিয়ে আসতে পারছেন না। তাঁর ভাষ্য, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে যদি বলি, এককথায় এ পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। এটা তো একটা স্বাধীন দেশ। এর বয়স ৫৪ বছর হয়ে গেছে। এই সময়ে এসেও যদি এমন পরিস্থিতি দেখতে হয়, তা হতাশারই। ২০২৪-এর জুলাইতে আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করলাম। কিন্তু এখন যদি দেশের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এভাবে থমকে যায়, সেটা আশঙ্কাজনক। একটা দেশ তো শুধু রাজনীতি দিয়ে এগোয় না। আর শিল্পী হিসেবে বলতে চাই, আমি গান করে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু কনসার্ট তো হচ্ছে না। কনসার্টের স্পন্সর নেই, স্পন্সর পেলে অনুমতি পাওয়া যায় না। এসব কারণে দর্শক-শ্রোতাও কনফিউজড হয়ে গেছে। দেখা গেল, তারা কনসার্টের টিকিট কাটছে, কিন্তু এক-দুই দিন আগে হঠাৎ শো স্থগিত! বারবার যখন এমন ঘটনা ঘটে, তখন মানুষও কনসার্ট থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাদের বিশ্বাস তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে, এরপর কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক আয়োজন কই? আমি তো ভেবেছিলাম, ডাকসু, জাকসুর পর হলে হলে কনসার্ট হবে। কিন্তু কই? শিল্পীদের অনেকে বিদেশে গিয়ে কনসার্ট করছেন, কিন্তু তা দিয়ে দেশের মিউজিক টিকবে না। দেশের লাখো মানুষ মিউজিকের সঙ্গে জড়িত। তাদের জীবন-জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। সো, ইটস ভেরি অ্যালার্মিং।’