রাজধানীর ব্যস্ততম জীবনের মধ্যেও কখনো কখনো এমন কিছু আয়োজন হয়, যা কিছু সময়ের জন্য হলেও নগরবাসীকে ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা গ্র্যান্ড সুফি নাইট তেমন একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। এই আয়োজন সংগীত, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার অনন্য এক সমন্বয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই আয়োজন সংগীতপ্রেমী ও খাদ্যরসিকদের বিমোহিত করে তোলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেস ওয়েতে ৩০০ ফিট রাস্তার পাশেই কুড়িল বিশ্বরোডে অবস্থিত আইসিসিবি। আইসিসিবির ভেতরে প্রবেশ করলেই ‘আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট’। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান হলেও এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত। আইসিসিবি হেরিটেজের প্রতিটি কোনায়, প্রতিটি বস্তুতে রয়েছে মোগল সংস্কৃতির ছোঁয়া। আসল মোগলাই রন্ধনশালার পাশাপাশি এই রেস্টুরেন্টের অন্দরসজ্জাও
মোগলদের অন্দরমহলের মতো চোখ-ধাঁধানো।
রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় দেখা মেলে মোগল পোশাকে সজ্জিত একজন প্রহরীর। সালাম জানিয়ে তিনি অতিথিদের দরজা খুলে আমন্ত্রণ জানান। এই প্রথম অভিবাদনের মুহূর্ত থেকে শেষ পর্যন্ত হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের ভিন্নতা স্পষ্ট। রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এর পুরো আয়োজন, যা ঠিক মোগলদের খাবারঘরের মতো করে সাজানো।
আধুনিকতার এই সময় দেশে খুব কম মানুষ পিতলের বাসন-কোসনে করে খাবার খান। তবে আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন করা হয় পিতলের বাসনে। যে বাসনে করে একসময় মোগল রাজা-বাদশারা খাবার খেতেন। খাওয়ার সময়টায় ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে সুফি গান। একবিংশ শতাব্দীতেও হেরিজেট রেস্টুরেন্টে এলে মোগল যুগে হারিয়ে যাওয়ার অনন্য সুযোগ মেলে।
গতকাল সরেজমিনে আরো দেখা যায়, হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের ডাইনিং হলে রাজকীয় পরিবেশ তৈরি করতে নিখুঁত কারুকাজের ডাইনিং টেবিল ছাড়াও কুশন দিয়ে সাজানো নিচতলা ও ওপরতলায় বিছানা। অতিথিরা চাইলে মোগলদের মতো সেখানে বসেও খেতে পারছেন। রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে এসেছেন ডা. শারমিন কাউসার ও ডা. শাহনূর করীম দম্পতি। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই সন্তান। হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের এমন পরিবেশের বিষয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে ডা. শাহনূর করীম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে শুনছিলাম হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট মোগল আমলের ঐতিহ্যে সাজানো হয়েছে। এখানে এলে মোগল আমলের ভাবধারা বোঝা যায়। এখন এখানে এসে যা দেখলাম তা আসলে আমার কল্পনারও বাইরে। এককথায় বলতে গেলে অসাধারণ। আমরা অনেক রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। কিন্তু এমন মোগল আভিজাত্য আর কোথাও দেখিনি। আর এর সঙ্গে সুফি গানের সুর তো অসামান্য।’
ডা. শারমিন কাউসার বলেন, ‘আমি এই রেস্টুরেন্টের বিজ্ঞাপনটা ইন্টারনেটে দেখি। আইডিয়াটা আমার কাছে ভালো লেগেছিল। এখানে আসার পর যা দেখেছি, তা ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি। খুব ভালো লেগেছে। এরই মধ্যে একটা গান শুনলাম। আরো শুনব। সন্তানদেরও নিয়ে এসেছি। সুস্থ পরিবেশে এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজন খুঁজে পাওয়া ভার। এখানকার কর্মীদের সাজসজ্জা, রেস্টুরেন্টের ডেকোরেশন সব মিলিয়ে আমরা খুব এনজয় করছি।’