হৃদরোগ কেন হয়
বর্তমানে সারা বিশ্বে মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে আছে হৃদরোগ।
বিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় দুই কোটি মানুষ। হৃদরোগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবে মৃত্যুর হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হৃৎপিণ্ডের যত্ন নিয়ে লিখেছেন ডা. মো. আজহারুল ইসলাম (রাফি)
হৃদরোগ কেন হয়
বর্তমানে সারা বিশ্বে মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে আছে হৃদরোগ।
ধরন
হৃদরোগ বেশ কয়েক ধরনের হতে পারে।
হৃৎস্পন্দনজনিত সমস্যা থেকে হতে পারে অ্যারিদমিয়া, জন্মগত ত্রুটি থেকে ভালভের সমস্যা হয়ে থাকে।
মনে রাখতে হবে, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে হৃদরোগ প্রতিরোধযোগ্য। কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদয়কে সুস্থ রাখা যায়, যেমন—
সুষম ও হৃদয়ের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বাদ দিতে হবে। এর বদলে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তাজা শাক-সবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার, ওমেগা-৩ যুক্ত মাছ এবং সম্পূর্ণ শস্য।
নিয়মিত শারীরিক কসরত : সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা যেকোনো ব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় ও শক্তিশালী রাখে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ : যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো, যা আপনার মানসিক প্রশান্তি আনে সেসব কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে।
হৃদরোগ নির্ণয়
হৃদরোগ নির্ণয়ে চিকিৎসক সরাসরি রোগীকে পরীক্ষা করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ সময়ে এনজিওগ্রাম, ইকো কার্ডিওগ্রাম, এমআরআই, সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি কিছু রক্ত পরীক্ষারও প্রয়োজন হয়ে থাকে।
চিকিৎসা
বাংলাদেশেই এখন সব ধরনের হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে, হৃদরোগ ধরা পড়লেই দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। হৃদরোগের চিকিৎসায় ওষুধ, স্টেন্টিং বা অন্যান্য ইন্টারভেনশন ডিভাইস অস্ত্রোপচারের (বাইপাস সার্জারি/ভালভ সার্জারি) মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হতে পারে।
বিশ্ব হৃদয় দিবসের তাৎপর্য
বিশ্ব হৃদয় দিবসে আসুন আমরা সবাই নিজেদের হৃদয়ের প্রতি আরো যত্নশীল হই। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করি। মনে রাখবেন, একটি সুস্থ হৃদয়ই হলো একটি সুস্থ, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত জীবনের চাবিকাঠি।
বিশ্ব হৃদয় দিবস আমাদের অনুপ্রাণিত করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে হৃদযন্ত্রের যত্নের দায়িত্ব নেওয়ার। এ দিনটি শুধু নিজেকে হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার দিন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে হৃদরোগ প্রতিহত করায় কাজ করার অঙ্গীকার নেওয়ার দিন।
আসুন, হৃদয়ের যত্ন নিই, প্রাণ ভরে বাঁচি, নিজের জন্য বাঁচি, সবার জন্য বাঁচি।