শাড়ির সঙ্গে সময়োপযোগী সাজ আভিজাত্য এনে দেয় পূজার লুকে। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে সাজিয়েছে রকমারি শাড়ির সংগ্রহ। সেসব শাড়ি ও এবারের পূজার সাজ নিয়ে লিখেছেন মেহরীমা ইতি

পূজা উপলক্ষে অন্য সব পোশাকের সঙ্গে শাড়ির বিশেষ সংগ্রহ এনেছে কে ক্রাফট।পাড়ের সঙ্গে কুচির আলাদা কাজ করা নকশা সহজেই নজর কাড়বে ফ্যাশনপ্রেমীদের। নকশা ফুটিয়ে তুলতে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারির কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া টাই-ডাই, অ্যাপ্লিক ও মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ করা শাড়িও পাবেন ব্র্যান্ডগুলোতে। কে ক্রাফটের স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘পূজার একটু জমকালো কাজ করা শাড়িই পছন্দ করেন ক্রেতারা।

রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাশ বললেন, ‘পোশাকের নকশা করার সময় ক্রেতাদের চাওয়াকেই প্রথম রাখি আমরা। এরপর পূজার সময় আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের চিন্তাভাবনা যোগ করে মূল নকশা নির্বাচন করা হয়। এবার আমরা নকশি পিঠা, নামাবলি, দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও চক্র দর্শন—এই চারটি থিমভিত্তিক সংগ্রহ সাজিয়েছি।’
পূজা উপলক্ষে বর্ণিল শাড়ি নিয়ে এসেছে অঞ্জন’স। সিল্ক, মসলিন ও কটন শাড়ির নকশায় সমসাময়িক থিম ফুটিয়ে তুলেছে। লাল, সাদা, নীলসহ হরেক রঙের শাড়ির পাড় ও আঁচলে ভারী নকশা ও কাজ দুর্গোত্সবে অভিজাত লুক এনে দেবে। পূজা উপলক্ষে লা রিভ সাজিয়েছে বিশেষ পূজা সম্ভার। ব্র্যান্ডটির প্রধান নির্বাহী পরিচালক মুন্নুজান নার্গিস বলেন, ‘দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্ ধর্মীয় উত্সব। যা শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক। পূজার উত্সবে ঐক্য ও সহযোগিতার চেতনাই লা রিভের পূজা কালেকশনের অনুপ্রেরণা।’ ব্র্যান্ডটিতে অন্য সব পোশাকের সঙ্গে রয়েছে অভিজাত সব শাড়িও। লাল-সাদা প্রাধান্য দিয়ে পূজার পোশাক সাজিয়েছে তারা। এ ছাড়া শাড়ির প্রাইমারি কালার প্যালেটে সাদা, কালো, সোনালি, পান্না সবুজ, গাঢ় নীল, ধূসর ও গোলাপির সংমিশ্রণ দেখা যাবে। পূজার বিভিন্ন পর্ব মাথায় রেখে নানান বুননের শাড়ি রয়েছে। উত্সবের জন্য মানানসই মসলিন, কাতান ও হাফসিল্ক শাড়িতে রয়েছে এব্রয়ডারি, প্যাঁচ ও হাতের কাজ। সকালের স্নিগ্ধ লুকের জন্য বেছে নিতে পারবেন প্রিন্ট ও একরঙা সুতির শাড়ি। একেক ব্র্যান্ডের শাড়ির একেক দাম। নকশা ও ম্যাটেরিয়াল ভেবে দামের তারতম্য হয়ে থাকে। সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় কিনতে পাবেন পূজার শাড়ি।

আরামদায়ক শাড়ির সঙ্গে সাজটাও কমনীয় হওয়া চাই। পূজার সময় গরম বিপাকে ফেলতে পারে। আবার হুটহাট বৃষ্টি যে নামবে না তারও নিশ্চয়তা নেই। তাই সাজের বেলায় প্রাধান্য দিতে হবে এই দুটি বিষয়। দুর্গাপূজা টানা কয়েক দিন চলে। তাই একেক দিনের সাজ একেক রকম রাখার চেষ্টা করুন। শোভন মেকওভারের রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা বললেন, ‘শুরুর দিকে অর্থাত্ ষষ্ঠী এবং সপ্তমী এই দুদিন হালকা ও স্নিগ্ধ সাজ বেছে নিন। সকালে মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে যাওয়ার সময় নিজের লুকের স্বকীয়তাটাকেই বজায় রাখুন। অর্থাত্ সাজে বাহুল্য পরিহার করলেই সুন্দর লাগবে। অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা হয়। এদিন একটু ভারী সাজে সাজুন। কাতানের শাড়ির সঙ্গে কপালে লাল সিঁদুর, লাল-সাদা বালা, লাল লিপস্টিক ভালো দেখাবে।’ পূজার সাজে ফুল আপনার লুকে সতেজ ভাব ফুটিয়ে তুলবে। খোঁপায়, হাতে ও গলায় বিভিন্ন ফুল পরতে পারেন।