সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পিপলুদের ছায়াবাগান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

রিদওয়ান আক্রাম

এক যে ছিল ছোট্ট পিঁপড়ে। পিপলু তার নাম। ওর বাড়ি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পানামার এক জঙ্গলে। সেই জঙ্গলের মাঝখানে বড়সড় ফাঁকা জায়গায় একটা মাটির ঢিবি।

ওটা হচ্ছে পিঁপড়েদের আশ্চর্য এক বাগান! সেখানে পাতার মণ্ড বিছিয়ে দেওয়া হয়। সেই মণ্ডে রোপণ করা হয় এক বিশেষ রকমের ছত্রাক ‘লিউকোকোপ্রিনাস গোঙ্গিলোফোরাস’। এটার সহজ নাম হচ্ছে ‘লিউ’। ওটার গায়ে তৈরি হয় ছোট ছোট দানা। ওসবই মজা করে খায় পিঁপড়েরা।
পিঁপড়েদের কাছে ওটা মুচমুচে খাবার।পিপলু আর তার বন্ধুদের মতো শ্রমিক পিঁপড়েরা সারি বেঁধে পাতা কেটে নিয়ে আসে। সারা দিন পিপলুরা সারি বেঁধে পাতার টুকরো নিয়ে ছুটে চলে। কখনো গাছের ডালের ওপর দিয়ে, আবার কখনো নেমে যায় মাটিতে। সেখান থেকে ঢুকে যায় নিজেদের বাসায়, মানে মাটির ঢিবির ভেতর।প্রথম দিন তো পাতার এক টুকরো ঘাড়ে নিয়ে হাঁটতে গিয়ে পড়েই গিয়েছিল পিপলু। কিন্তু বন্ধুরা ওকে সাহস জুগিয়ে বলেছিল, ‘শুরুতে এমনই হয়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ধীরে ধীরে তুই পাতাযোদ্ধা হয়ে যাবি!’

পিপলুদের বাসার ভেতরটা এক রহস্যময় জগৎ। সেখানে থাকেন রানিমা, বিশাল আকৃ‌তির এক পিঁপড়ে তিনি। সবাই তাঁকে খুব সম্মান করে। রানিমার আশপাশে থাকে সেবিকা পিঁপড়েরা। ওরা বাচ্চাদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি বাসার সবচেয়ে গোপন ঘর, মানে ছায়াবাগানের দেখাশোনাও করে।

একদিন পিপলু খেয়াল করল, ছায়াবাগানে একটা অচেনা ছত্রাক মাথা তুলেছে। সেটা পরিষ্কার করতেই আবার কোথা থেকে যেন চলে আসে সেই ছত্রাকটা। খুব চিন্তায় পড়ে গেল সেবিকা পিঁপড়েরা। তারা বলল, এই আগাছা ছত্রাক যদি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে লিউকে আর বাঁচানো যাবে না!

পিপলু তখন একটা বুদ্ধি আঁটে। সে আর তার প্রিয় বন্ধু পিপটুস মিলে গোপনে পাহারা দেবে। বের করবে কিভাবে সেই ছত্রাকটা বারবার ফিরে আসছে? অনেক রাত জেগে তারা দেখতে পেল, একটা নতুন কর্মী পিঁপড়ে সেই ছত্রাকটা নিয়ে এলো। তাকে জিজ্ঞেস করতেই নিজের ভুল বুঝতে পারল সেই পিঁপড়ে। অচেনা ছত্রাকটাকে সে নাকি লিউ ভেবে বারবার ছায়াবাগানে রেখে যাচ্ছিল।

সকালে সেবিকা পিঁপড়েদের খবর দেওয়া হলো। আগাছা তুলে ফেলল তারা। পরিষ্কার করল লিউয়ের আশপাশটা। আবার আগের মতো মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠল ছায়াবাগান।

রানিমা পিপলুকে ডেকে বললেন, ‘তুমি সত্যিই আমাদের পাতা বাহিনীর গর্ব!’

সেই দিন থেকে পিপলু হয়ে উঠল ছায়াবাগান রক্ষাকারী। আর বাসার এক কোনায়, একটা ছোট্ট পাথরের গায়ে লেখা হলো ওর নাম—‘পিপলু : ছায়াবাগানের বন্ধু’।

এভাবে ভালোই কেটে যাচ্ছিল পিপলুর দিনকাল।

কিন্তু হঠাৎ একদিন সকালবেলা পিপলু ঘুম থেকে উঠে দেখে, আকাশটা কালো হয়ে আছে। বাতাসে কেমন যেন অদ্ভুত এক গন্ধ। বয়স্ক পিঁপড়েরা বলল, ‘বুঝলি পিপলু, বৃষ্টি আসছে! এমন বৃষ্টি হবে যে আমাদের বাসাও ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে!’

পিপলুর বুকটা ধক করে উঠল। সব কি তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে? পাতা বাহিনীর প্রধান কর্মী দাদা পিঁপড়ে নামলেন পরিস্থিতি সামলাতে।

তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘সবাই প্রস্তুত হও! বাসা বদল করতে হবে! রানিমাকে বহন করবে শক্তিশালী পিঁপড়েরা। ছত্রাকের টুকরো সাবধানে বহন করবে পাতা বাহিনী। আর কচি-কাঁচাদের গায়ে গুটিয়ে নিয়ে হাঁটবে সেবিকা পিঁপড়েরা। হাতে সময় বেশি নেই!’

পিপলু এবার পেল ছায়াবাগান থেকে লিউ ছত্রাকের সুস্থ টুকরো সংগ্রহ করে নতুন বাসায় রোপণ করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর ওকে সাহায্য করার জন্য পাশে আছে তারই ছোট বন্ধু পিপটুস।

খানিক পরেই শুরু হলো বৃষ্টি। ঝমঝম করে পড়তে লাগল বিশাল বিশাল বৃষ্টির ফোঁটা। ওসব থেকে বাঁচার জন্য পাতার টুকরো দিয়ে পিঁপড়েরা বানিয়ে নিল ছাতা। এরপর সবাই বাসা থেকে সারি বেঁধে বেরিয়ে পড়ল।

জঙ্গলের এক কোনায় দাদা পিঁপড়ে আগে থেকেই খুঁজে রেখেছিলেন এক উঁচু জায়গা। সেখানে গর্ত খোঁড়া হয়েছিল কিছুদিন আগে। সেটাই হবে পিপলুদের নতুন বাসা!

পিপলু আর পিপটুস ছোট ছোট করে লিউ ছত্রাকের টুকরো নিয়ে ছুটল নতুন সেই বাসায়। সেবিকা পিঁপড়েরা আগে থেকেই ছায়াবাগানের জায়গা তৈরি করে রেখেছে। ওখানে ছত্রাক পুঁতে দিতে না দিতেই কমে গেল বৃষ্টি। একটু পরে রোদও উঠল।

নতুন বাসায় রানিমা পৌঁছে বললেন, ‘তোমরা সবাই অসাধারণ। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ দিতে চাই পিপলু আর পিপটুসকে। কারণ ওরাই তো লিউকে এখানে নিরাপদে নিয়ে এসেছে!’

লজ্জায় মুখ লুকালেও গর্বে কিন্তু ফুলে উঠল পিপলুর বুক। সেদিন রাতে নতুন ছায়াবাগানে মজাদার মুচমুচে খাবার খেয়ে উৎসব করল পিপলুর পাতা বাহিনী।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com