খেলাধুলা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ছিঁড়ে যেতে পারে হাঁটুর লিগামেন্ট। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যাটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি ও চিকিৎসা নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খালেকুজ্জামান (দিপু)
► পোস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (PCL)
► মিডিয়াল কোলেটারাল লিগামেন্ট (MCL
► লেটারাল কোলেটারাল লিগামেন্ট (LCL)
আঘাতজনিত কারণে, যেমন—খেলাধুলা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য গৃহস্থালি দুর্ঘটনায় হাঁটুর লিগামেন্ট আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। এমনকি তীব্র আঘাতে ছিঁড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।
লক্ষণ
► হাঁটু ব্যথা, ফুলে যেতে পারে
► হাঁটুর ভারসাম্য ঠিক থাকে না। দেখা যায়, অসমতল জায়গায় হাঁটাচলা করার সময় হঠাৎ করে হাঁটু বেঁকে যায়
► চলাফেরার সময় হাঁটু জ্যাম বা আটকে (Lock) যায়
► দৌড়ানো সম্ভব হয় না
কাদের হয়
সাধারণত তরুণ-তরুণীরা এই সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে।
লিগামেন্ট ছিঁড়েছে বোঝার কিছু উপায় আছে। প্রথমত, রোগীর কাছ থেকে আঘাতের বিবরণ নিতে হবে। তিনি যদি বলেন, হাঁটুতে আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে একটি মোচড় লাগার (Twisting) ঘটনা ঘটেছিল, অথবা অসমতল জায়গায় হাঁটার সময় এবং সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ করেই পায়ের ভারসাম্য (Balance) নষ্ট হয় এবং রোগীর পা ঘুরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন ধরে নেওয়া হয় লিগামেন্ট ছিঁড়েছে।
অপারেশন ও ব্যায়াম : হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে তার সর্বাধুনিক চিকিৎসা হলো অর্থোস্কোপিক রিকনস্ট্রাকশন অব এন্টেরিয়র অর পোস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (ALL or PCL reconstruction)। অর্থাৎ রোগীর শরীরের অন্য একটি লিগামেন্ট নিয়ে ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্টকে প্রতিস্থাপন করা। বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই শুধু কয়েকটি ছিদ্র করে এই অপারেশন করা যায়। এই অপারেশনের পর সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করতে হয় এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশেই সম্ভব
বর্তমানে বাংলাদেশে সাফল্যের সঙ্গে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এই চিকিৎসা করছে। অপারেশনের পর আগের মতো সব কার্যক্রম করতে সক্ষম হয় রোগী। তাই অবহেলা না করে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।