আমি একজন মানুষ খুঁজছি
নাম-সর্বস্ব মানুষ নয় শুধু,
তার হাত যুগোল মানুষ হবে
তার পা দু’টি মানুষ হবে
নিরূপদ্রব থাকবে সবুজ বসুধা।
আমি একজন মানুষ খুঁজছি
শাব্দিক অর্থেই মানুষ নয় কেবল,
তার দু’ চোখ মানুষ হবে
তার মুখ, মনন মানুষ হবে
সুললিত শব্দভূষণে জাগবে মানবতা।
আমি একজন মানুষ খুঁজছি
অর্থবহ, আপদকুন্তল একটি মানুষ-
খুঁজছি : মানুষ নামের নির্মল সুন্দরতা।
নিষ্কৃতি
মাঝেমাঝে মনে হয়; অজানা কোথাও ঘর বাঁধি
ভালোবাসা গড়ি অচেনা তোমার সাথে,
যেখানে আমাকে চিনবে না কেউ;
জানবে না : কী নাম, কী করি
আমি কেনো কাঁদি, কেনো হাসি যেখানে জানতে
চাইবে না কেউ, বলবে না : কেনো এই বিফল কবিতা লিখি?
‘চুল কেনো বড়ো? গোঁফদাড়ি কেনো কাটোনি?’ ইত্যাদি
অহেতুক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হ’তে হবে না যেখানে,
মনে হয় : এমন সুখের দেশে চলে যাই–
বেকসুর বেঁচে থাকি জীবনের বাকি দিন।
পা ফসকে প’ড়ে
গেছি পুরোনো কুয়ায়
উপরে উদ্বিগ্ন তুমি, আর
দিকশূণ্য ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছি
আমি চোরাবালির গহ্বরে…
মৃত্যুর অব্যবহিত
পরে, দয়াপরবশ যমদূত
জানালেন : সুকৌশলে
ধাক্কাটা তুমিই মেরেছিলে।
প্রাত:কালীন একটা নদী আঁকি,
আর তাতে ফুটে উঠে রহনপুরগামী নৌকার পাল–
পাড় ভাঙা ঘাট : পা পিছলে প’ড়ে থাকা লাজুক শিশুর
হাসিমুখ। ফুটে উঠে : আড়মোড়া ভেঙে জেগে-ওঠা
ঘুমন্ত কানার ঘাট, মনুষের কোলাহল…
এ-আমার শৈশবের মহানন্দা;
আমি যতোবার এই ছবি আঁকি, ফিরে যাই পুনর্জন্মে–
ছলাৎ-ছলাৎ শব্দে খেলে আমার শৈশব, সবিস্ময়ে দেখি।