সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

গ্লান্ডের ক্যান্সার লিম্ফোমা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব লিম্ফোমা সচেতনতা দিবস। এটি শুধু একটি দিবস নয়; বরং এটি লিম্ফোমা রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, রোগী ও তাদের পরিবারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। দিবসটি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝাতে, মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি রোগীর জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিম্ফোমা কোয়ালিশন ২০০৪ সালে এই দিবসের প্রবর্তন করে।

লিম্ফোমা হলো লিম্ফোসাইট নামে পরিচিত সাদা রক্তকণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দ্বারা সৃষ্ট এক প্রকার ক্যান্সার, যা মূলত লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে প্রাথমিকখাকে আক্রান্ত করে। এটি কখনো কখনো সহজে শনাক্ত হয় না, তাই প্রাথমিক পরীক্ষা এবং সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লিম্ফোমার কারণ

লিম্ফোমার সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কিছু ঝুঁকি ফ্যাক্টর চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন, এইচআইভি/এইডস বা অন্যান্য রোগের কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে লিম্ফোমার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
২. ভাইরাস সংক্রমণ: হেপাটাইটিস সি, এইপস্টাইন–বার ভাইরাস ভাইরাস সংক্রমণ লিম্ফোমার কারণ হতে পারে।
৩. জেনেটিক প্রভাব: পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
৪. পরিবেশগত ও জীবনধারার প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদী রাসায়নিক, পেস্টিসাইড, ধূমপান, মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. বয়স ও লিঙ্গ: নন-হজকিন লিম্ফোমা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়, তবে হজকিন লিম্ফোমা যুবক বা শিশুদের মধ্যেও হতে পারে।

লক্ষণ:
লিম্ফোমার প্রাথমিক লক্ষণ প্রায়শই অন্যান্য সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলিত হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলো: – * গিঁট বা স্ফীত লিম্ফ নোড: গলার, বগলের বা কাঁধের নিচে ব্যথাহীন গিঁট। * জ্বর: নিয়মিত বা পুনরাবৃত্তি জ্বর।
* রাতের ঘাম: অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক ঘাম।
* ওজন হ্রাস: অজানা কারণে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া। * ক্লান্তি বা অসুস্থতা: দীর্ঘ সময় ধীরে ধীরে ক্লান্তি অনুভূত হওয়া। * অন্যান্য উপসর্গ: খিদে হ্রাস, শ্বাসকষ্ট, চামড়ার রঙ পরিবর্তন, পেটের ব্যথা বা ফুলে যাওয়া। যদি এই লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকে।
লিম্ফোমার প্রকারভেদ- লিম্ফোমা প্রধানত দুটি ধরনের:
১. হজকিন লিম্ফোমা : তুলনামূলক কম সাধারণ। কোষের একটি নির্দিষ্ট ধরন দ্বারা চিহ্নিত। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসাযোগ্য।
২. নন-হজকিন লিম্ফোমা :- সবচেয়ে সাধারণ।
বহু সাবটাইপ রয়েছে। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন।

পরিসংখ্যান ও বিশ্বব্যাপী প্রভাব-
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী লিম্ফোমার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে: * প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার নতুন নন-হজকিন লিম্ফোমার রোগী। * প্রায় ৮০ হাজার নতুন হজকিন লিম্ফোমার রোগী। * মৃত্যু হার: নন-হজকিন লিম্ফোমায় ২০-২৫%, হজকিন লিম্ফোমায় ৫-১০%। * বাংলাদেশে নির্ভুল পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। তবে ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে বছরে প্রায় ২,০০০-২,৫০০ নতুন রোগী ভর্তি হয়। এটি প্রমাণ করে যে লিম্ফোমা শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
> জটিলতা-লিম্ফোমা দ্রুত শনাক্ত না হলে বিভিন্ন গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে:- * সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি: দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারণে। * অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতি: লিভার, কিডনি, হার্ট প্রভাবিত হতে পারে। * রক্তস্বল্পতা ও ক্লান্তি: অ্যানিমিয়া বা প্লেটলেট কমে যাওয়া। * মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: দীর্ঘমেয়াদী রোগ জীবনের মান কমায়।

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন

রোগ নির্ণয়- লিম্ফোমার সঠিক নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা সুপারিশ করতে পারেন:
১. বায়োপসি: গিঁটের টিস্যু পরীক্ষা। ২. রক্ত পরীক্ষা: লিম্ফোসাইট, হিমোগ্লোবিন, লিভার ও কিডনি ফাংশন পরীক্ষা। ৩. ইমেজিং পরীক্ষা: এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, পিইটি স্ক্যান বা এমআরআই। ৪. অস্থি মজ্জা পরীক্ষা: হাড়ের মজ্জা পর্যবেক্ষণ।
চিকিৎসা- রোগের পর্যায়, বয়স ও বিস্তারের উপর ঠিক করা হয়।
কেমোথেরাপি: ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
ইমিউনোথেরাপি: রোগীর ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে।
রেডিয়েশন থেরাপি: নির্দিষ্ট স্থান থেকে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস।
স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার।

টার্গেটেড থেরাপি এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
অ্যান্টিবডি ভিত্তিক চিকিৎসা, টি-সেল থেরাপি এবং নতুন ওষুধের উন্নয়ন প্রাথমিক ও জটিল অবস্থায় রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

মানসিক ও সামাজিক সমর্থন-
লিম্ফোমা শুধু শারীরিক রোগ নয়; এই ক্যান্সার রোগীর মানসিক ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলে। রোগী ও পরিবারকে কাউন্সেলিং, সমর্থন গ্রুপ এবং সচেতনতামূলক কর্মশালায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। মানসিক স্থিতি উন্নত হলে রোগীর চিকিৎসা গ্রহণে মনোবল বাড়ে।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা-

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং লক্ষণ পর্যবেক্ষণ। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা: সুষম খাদ্য, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার। সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা। যেকোনো অনিয়মিত লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
আন্তর্জাতিক উদ্যোগ- লিম্ফোমা কোয়ালিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচারের জন্য কাজ করছে। আন্তর্জাতিকভাবে লিম্ফোমা সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হয় এবং জীবনরক্ষা সম্ভাবনা বাড়ে।
লিম্ফোমার বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমরা সকলে একসাথে কাজ করলে, রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। সচেতন হওয়া মানেই জীবন রক্ষা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com